মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

এবার বুধ-বৃহস্পতি ‘জোড়া’ রাখি পূর্ণিমা, কোন দিনে পুণ্য জেনে তবেই মানুন তিথি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রাবনী পূর্ণিমা তিথিটি হল রাখি বন্ধন উৎসবের দিন। এই তিথি হল দূরকে কাছে টানা আর নিকটকে নিকটতর করার দিন। সাধারণত বোনেরা এদিন ভাইয়ের হাতে রাখি পরিয়ে দেয়। যাতে ভাইয়েরা সারা বছর সমস্ত বিপদ হতে রক্ষা পায় এবং সুখে শান্তিতে জীবন কাটাতে পারে। এই বছরে বুধ ও বৃহস্পতি দু’দিনেই রয়েছে পূর্ণিমা। তবে বৃহস্পতিবারই পালন করা উচিত।

তবে সুপ্রাচীন কালে পুরোহিত ব্রাহ্মণরা যজমানদের সমৃদ্ধি কামনা করে, সমস্ত বিপদ দূর হোক এই প্রার্থনা জানিয়ে তাঁদের হাতে কয়েক গাছি সুতো দিয়ে তৈরি রক্ষাসূত্র বেঁধে দিতেন। সেই প্রথা অনুসরণ করে আজও বাড়ীর প্রবীন ব্যক্তি অন্যান্যদের রাখি বেঁধে দিয়ে থাকেন। বাংলা পঞ্জিকায় তাই আজও রয়েছে রাখিবন্ধন মন্ত্র— ‘যেন বদ্ধো বলীরাজা দানবেন্দ্রো মহাবলঃ। তেন ত্বাং প্রতিবধ্নামি রক্ষো মা চল মা চল।’

পুরাণে রয়েছে, দেবতাও অসুরদের যুদ্ধ চলছে বারো বছর ধরে। দেবতারা প্রতিবারই পরাজিত হচ্ছেন। দেবরাজ ইন্দ্র খুবই বিষন্ন। উপায় না দেখে দেবগুরু বৃহস্পতির কাছে গিয়ে বিপদ থেকে রক্ষার উপায় জানতে চাইলেন। ইন্দ্র যখন দেবগুরু বৃহস্পতিকে যুদ্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় জানতে চাইছিলেন, তখন ইন্দ্রপত্নী শচী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্বামীকে বললেন, আগামী কাল শ্রাবণী শুক্লপূর্ণিমা। আমি নিয়মমতো রক্ষাসূত্র তৈরি করে দেব, আপনি আগামী কাল সেই রক্ষাসূত্রগুলি দেবগুরু বৃহস্পতিকে দিয়ে মন্ত্রপূত করে দেবতাদের হাতে পরিয়ে দিন। গুরু বৃহস্পতি অবশ্য সানন্দে সেই রক্ষাসূত্রগুলিকে দেবতাদের হাতে পরিয়ে দিলেন। এর পরের ঘটনা চমকপ্রদ। দানবদের পরাস্ত করে দেবতারা জয়ী হলেন। সেদিনও ছিল এই শুক্লপক্ষের শ্রাবনী পূর্ণিমা তিথি।

সেই থেকেই শ্রাবণী পূর্ণিমার দিনে পালিত হয় রক্ষাবন্ধন উৎসব। তবে এই বছর বুধ ও বৃহস্পতি দু’দিনেই রয়েছে পূর্ণিমা। কিন্তু শাস্ত্র মতে শুক্ল পক্ষের পূর্ণিমা তিথির মধ্যে যে দিনটি সূর্যোদয় পায় সেদিনটিই পালন করা উচিত। বুধবার দুপুরে পূর্ণিমা তিথি শুরু হলেও সূর্যোদয় পাচ্ছে বৃহস্পতিবার। তাই পঞ্জিকা ও রীতি মেনে বৃহস্পতিবারই রাখি পূর্ণিমার ক্রিয়া কর্ম করা উচিত।

এই রাখি বন্ধন নিয়ে ইতিহাসেও অনেক কাহিনি রয়েছে। রাজপুত রানি কর্মবতী একদা মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে রাখি পাঠিয়ে নিবেদন জানান। গুজরাত সুলতানের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য। হুমায়ুন রাজপুত বোনের সম্মান রক্ষার্থে সাড়া দিয়েছিলেন, তবে কিছুটা বিলম্বে। যখন এলেন বোনকে রক্ষা করতে, তখন আর তিনি বেঁচে নেই। জহরব্রত করে প্রাণত্যাগ করেছেন।

রাখিবন্ধন বিষয়টি যে সম্পর্ক গড়ার এক মহান ইতিবাচক দিক তা সকলেই স্বীকার করেন। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর (৩০ আশ্বিন ১৩১২) সমস্ত বাঙালির ইচ্ছার বিরুদ্ধে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয়। কিন্তু বাঙালি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। এই দিনই রবীন্দ্রনাথ ও রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর পরিকল্পনায় ‘রাখিবন্ধন’ উৎসব হয়। রবীন্দ্রনাথ সেদিন গঙ্গায় স্নান করে সকলকে রাখি পরিয়েছিলেন।

Comments are closed.