শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

কে মা মনসা! পুজোয় মেলে ৫ অলৌকিক ফল, বলছে সনাতন শাস্ত্র

অনির্বাণ

পুরাণে বর্ণিত, কাশ্যপ ঋষির স্ত্রী কর্দু একটি নারীমূর্তি বানিয়েছিলেন | কোনওভাবে সেই মূর্তি মহাদেবের বীর্যের সংস্পর্শে এসেছিল | তার ফলে প্রাণসঞ্চার হয় ওই মূর্তিতে | সৃষ্টি হয় মনসার | কিন্তু তাঁকে কোনওদিন কন্যারূপে মানতে পারেননি শিবজায়া পার্বতী |

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গ্রামে সারা শ্রাবণ মাস জুড়ে মনসার পুজো হয়। পুজো উপলক্ষে হয় পালা গান ‘সয়লা’। এই পালার বিষয় হল— পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল। সারা রাত ধরে গায়ক দোয়ারপি-সহ পালা আকারে ‘সয়লা’ গান গায়।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, কশ্যপ মুনি ব্রহ্মার উপদেশে সর্পমন্ত্র সমূহের সৃষ্টি করে তপোবলে মন দ্বারা তাঁকে মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবীরূপে সৃষ্টি করেন— তাই তিনি মনসা।

মনসা হলেন জরুৎকারু মুনির পত্নী, আস্তিক মুনির মাতা এবং বাসুকির ভগ্নী। মনসা মঙ্গলে রয়েছে, চাঁদ সদাগর তাঁর গৃহিণী সনকার স্থাপিত ঘট পদাঘাতে ভেঙে দেন। পরে পুজো করেন। অষ্ট অঙ্গ সম্পন্ন পরিপূর্ণ একটি মানবীরূপে দেবী মনসার রূপলাভ ঘটেছে অনেক পরে।

শ্রাবণ মাসে আমাদের রাজ্যে যে মনসা মূর্তিতে পুজো করা হয় তা তাঁর মানবীমূর্তি নয়। তা পাঁচ বা সাতটি সাপের মুণ্ডের সমাহার। মনসাবৃক্ষেও পুজো প্রচলিত রয়েছে। সাপের রূপের পুজো উপাসনাও চলে কোথাও কোথাও। সাপ এখানে দেবী মনসার বাহন নয়, নিজেই দেবতা। মনসা উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক ভাবে পূজিতা দেবী। উত্তরবঙ্গে বাড়িতে যে কোনও শুভ অনুষ্ঠানে বিষহরির বন্দনা চাই। রাঢ় অঞ্চলে মনসা পুজোয় হয় ‘ঝাপান’ অনুষ্ঠান। মল্ল রাজধানী বিষ্ণুপুরে ‘মনসার ঝাপান’ বিখ্যাত। শ্রাবণ মাসের নাগ পঞ্চমী তিথি, শ্রাবণ সংক্রান্তি ও অন্যান্য দিনে হয় মনসার পুজো। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের মতে মনসা পুজো করলে মেলে পাঁচটি অলৌকিক ফল—

১. মনসা পুজো করলে বাস্তুদোষ দূর হয়।

২. পারিবারিক অশান্তির বিনাশ হয়।

৩. বন্ধ্যা নারীও সন্তানবতী হতে পারে।

৪. বাড়ির সবাই সুস্থ থাকে।

৫. সারা বছর আর সর্পভীতি থাকে না।

Comments are closed.