বুধবার দশহরায় গঙ্গাস্নানে মেলে দশ পাপ থেকে মুক্তি, জানুন কী বলছে শাস্ত্র

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অনির্বাণ

বাংলার প্রাচীন শাস্ত্রকারেরা পুণ্য তিথিগুলির মধ্যে দশহরার উল্লেখ করেছেন। জীমূতবাহন, রায়মুকুট, বৃহস্পতি ও রঘুনন্দন প্রমুখ পণ্ডিতরা জ্যৈষ্ঠ্য শুক্লা দশমী তিথিতে দশহরাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।
বৈদিক যুগের কোনও এক সময়ে দশহরা তিথি থেকেই বৎসর গণনা আরম্ভ হতো। দশহরা সেদিন নববর্ষের মর্যাদা পেত।

জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা দশমী তিথিকে দশহরা বলে। এই তিথি পূর্ব দশজন্মের কৃত পাপ এবং এ জন্মের দশটি পাপ হরণ করে। দশটি পাপের তালিকায় যে অবৈধ কর্মের উল্লেখ রয়েছে, তাতে অপরাধ ও পাপ একসঙ্গে মিশে রয়েছে। পাপে ও অপরাধে পার্থক্য যাই থাক মানুষ স্বভাব বশে ও স্বার্থের কারণে প্রতিদিন এই সব মন্দ কাজ করে চলেছে। জেনে বা না জেনে মানুষ দুষ্কর্ম করছে। দুষ্কর্মের বিরাম নেই, পাপ কর্মেরও শেষ নেই।

দশহরায় প্রধান ধর্মীয় কর্ম গঙ্গায় স্নান। কারণ, এই তিথিতেই গঙ্গা মর্ত্যলোকে নেমে এসেছিলেন। এই তিথিতে তিনি পূর্ব ১০ জন্মের কৃত পাপ এবং এ জন্মের ১০টি পাপ হরণ করেন।

গঙ্গায় স্নান করে ১০টি ফুল, ১০টি ফল ও ১০টি প্রদীপ দিয়ে পুজো করলে হরণ হয় ৩টি দেহগত পাপ। সেগুলি হল— পরদ্রব্য হরণ অর্থাৎ অন্যের জিনিস চুরি করা। অযথা হিংসা অর্থাৎ বৃথা প্রাণীহত্যা। তৃতীয় দেহগত পাপ হল পরদার গমন অর্থাৎ অবৈধ প্রণয়।

৪টি বাক্যগত পাপ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। প্রথমটি হল অহংকারী বাক্য। দ্বিতীয়টি— মিথ্যা কথা বলা, তৃতীয়টি— পরনিন্দা এবং চতুর্থটি— অসংবদ্ধ প্রলাপ বা বাজে বকা।

৩টি মানসিক পাপ থেকেও মুক্তি মিলতে পারে গঙ্গার পুজো দিলে। প্রথমটি হল— মনে মনে পরের দ্রব্যের কামনা। দ্বিতীয় মানসিক পাপ, যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে, তা হল— পরের অনিষ্ট চিন্তা এবং তৃতীয়টি হল— মিথ্যার প্রতি আসক্তি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More