ঘরে ঘরে চলছে বিপত্তারিণী পুজো, ব্রত শেষে সবার হাতে লাল সুতো বাঁধার কথা বলা আছে পুরাণে

দেবীপুরাণ থেকে জানা যায়, বিপত্তারিণী বা সঙ্কটতারিণী দেবী দুর্গার ১০৮টি রূপের একটি। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া থেকে দশমী পর্যন্ত এই দেবীর পূজার বিধান রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অনির্বাণ

ঘরে ঘরে চলছে বিপত্তারিণী পুজো। বিশেষ করে গ্রাম বাংলায় আষাঢ়ের অন্যতম উৎসব বিপত্তরিণী পুজো। না, লকডাউন কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি লাল সুতো বাঁধার এই পরবে। কারণ, এই ব্রত পালন হয় মূলত ঘরেই। অনেকে স্থানীয় মন্দিরে অবশ্য যান। তাতেও অসুবিধা নেই। নিয়ম মেনে মন্দিরে যাওয়ার ছাড় মিলেছে আনলক ওয়ানে।

দেবীপুরাণ থেকে জানা যায়, বিপত্তারিণী বা সঙ্কটতারিণী দেবী দুর্গার ১০৮টি রূপের একটি। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া থেকে দশমী পর্যন্ত এই দেবীর পূজার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন

১০ টাকায় উন্নতমানের ফেস মাস্ক আনছে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার, ভাইরাস ড্রপলেট আটকাতে থাকবে বিশেষ ফিল্টার

বাংলায় খুবই জনপ্রিয় এই উৎসব। বিপত্তারিণী পুরোর শেষে প্রিয় জনদের হাতে লাল ডোরে দুব্বোঘাস বেঁধে তাগা পরিয়ে দেওয়া হয়। রথের পরে পরেই হয় এই পরব। নারদীয় পুরাণে বলা হয়েছে বিষ্ণুকে সর্বশক্তিমান এবং দুর্গাকে সর্বশক্তিময়ী। বৈদিক যুগে এই সময়টাতেই ভগবান বিষ্ণু ও গৌরীর পুজো প্রচলিত ছিল। সেই ঐতিহ্য মেনেই রথের পরে পরেই বিপত্তারিণী চণ্ডীর পুজো চলে আসছে।
লাল ধাগা বাঁধার কাহিনি মহাভারতেও রয়েছে। যুদ্ধের পূর্বে পাণ্ডবদের যাতে বিপদ না হয় তার জন্য পাণ্ডব-স্ত্রীদের বৈধব্য রুখতে দ্রৌপদী গৌরীর আরাধনা করেছিলেন। পূজার শেষে স্বামীদের জীবন রক্ষায় হাতে ১৩টি লাল সুতো বেঁধে দিয়েছিলেন। আজও তাই বিপত্তারিণী পুজো শেষে রক্ত সূত্রের ১৩টি গ্রন্থি দেওয়া সুতো বাঁধা হয়।

মার্কণ্ডেয় পুরাণেও এই পুজোর বিধি রয়েছে। সেখানে ১৩টি ফল, ১৩টি ফুল, ১৩টি পান সুপারি ও ১৩টি নৈবেদ্য দানের কথা বলা হয়েছে। সনাতন শাস্ত্রে ১৩ সংখ্যাটি যে অশুভ নয় তাও এর থেকে প্রমাণিত হয়।

বিপত্তরিণী ব্রতের একটি কাহিনিও পাওয়া যায়। সেই কাহিনিতে বলা হয়েছে, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের এক রানির ছিলেন এক নিম্নবর্ণের জাতে মুচি সখি। এই মহিলা গোমাংসও খেতেন। এই কথা জানার পরে রানি কৌতূহলী হয়ে সখিকে গোমাংস দেখাতে বলেন। মহিলা প্রথমে রাজি না হলেও রানির নির্দেশে গোমাংস দেখান। এদিকে খবর রাজার কাছেও চলে যায়। রাজ অন্তঃপুরে গোমাংস প্রবেশ করেছে শুনে তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে রানিকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন। রানি সঙ্গে সঙ্গে গোমাংস তাঁর কাপড়ের নীচে লুকিয়ে ফেলেন এবং মা দুর্গাকে স্মরণ করতে শুরু করেন। রাজা এসে রানির পোশাক তল্লাশি চালান। দেখা যায়, তাঁর কাপড়ের ভিতর থেকে গোমাংসের পরিবর্তে বেরিয়ে আসে একটি লাল জবা ফুল। সেই থেকেই বিপত্তরিণীর পুজো প্রচলিত হয়। দুর্গার এই রূপটি সাধারণত বিপদহন্তা হিসেবেই গণ্য করা হয়। যিনি ভক্তকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তিনিই বিপত্তারিণী

মোট চার দিনের পুজো। এই দেবী কোথাও সিংহবাহিনী, কোথাও লক্ষীরূপা, কোথাও চণ্ডী মূর্তির মতো। কোথাও বা দেবী কালিকেই পুজো করা হয় বিপত্তরিণী রূপে। মূলত মহিলারাই এই ব্রত পালন করেন। অনেক জায়গায় এই দিনে দণ্ডি খাটারও চল রয়েছে। শনি ও মঙ্গল বার দেখেউ হয় বিপত্তারিণী দেবীর পুজো।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More