সোমবার, এপ্রিল ২২

সে কী কথা, আফ্রিকার এই দেশটির সরকারি ভাষা বাংলা !  

দ্য ওয়াল ব্যুরো:– চমকে গেলেন ? কথাটি কিন্তু নির্ভেজাল এবং দেশটির নাম সিয়েরা লিওন।
পশ্চিম আফ্রিকার  ছোট্ট দেশ সিয়েরা লিওন। জন সংখ্যা ৭০ লাখের কাছাকাছি। এই দেশে ১৬টি যুযুধান উপজাতি গোষ্ঠীর বাস। কারও সঙ্গে কারওর ভাষা ও সংস্কৃতির মিল নেই।  ফলে একের সঙ্গে অন্যের লড়াই লেগেই থাকত। এর মধ্যে ১৯৬১ সালে ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। এবং তার পরেই জড়িয়ে পড়ে কয়েক দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে। আফ্রিকার বড় বড় দেশগুলো অনেক চেষ্টা করেও গৃহযুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হয়। এগিয়ে আসে রাষ্ট্রপুঞ্জ। তেরোটি দেশের সেনা একত্রিত করে সিয়েরা লিওনে পাঠায় শান্তি প্রতিষ্ঠায়। শান্তিবাহিনীতে ছিলেন বাংলাদেশের ৭৭৫ জন সেনাও।

আরও পড়ুনঃঅবাক কাণ্ড! মিশরের ‘মমি জ্যুস’ পান করতে পিটিশনে সই পড়ল ২৩,৪৭৪

দক্ষিণ সিয়েরা লিওনের লুঙ্গি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পান বাংলাদেশি সেনারা। তাঁরা কিন্তু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে যাননি। জনসংযোগ ও স্থানীয়দের  আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই তাঁরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেন। স্থানীয় মানুষদের রীতি নীতি সংস্কৃতিতে মিশে যান আন্তরিক ভাবে। যে কোনও সমস্যায় আন্তরিক হাত বাড়িয়ে দেন। ফলে স্থানীয় সমস্যা জর্জরিত মানুষেরা ধীরে ধীরে সেনাদের  বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকেও আপন করে নিতে থাকেন। স্থানীয়দের নিজস্ব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর আদিবাসীরা বাংলা গান ও গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন শুরু করেন। বাংলাদেশি সেনারা যুযুধান ষোলটি গোষ্ঠীকে বাংলাভাষা ও সংস্কৃতির সুতোয় গেঁথে ফেলেন।

গোষ্ঠীগুলির মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব ও হানাহানি কমতে থাকে। বাকি ১২টি দেশের সেনাদের সঙ্গে কিন্তু সিয়েরা লিওনের মানুষদের এতো সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি সেনা সিয়েরা লিওনে শান্তিপ্রতিষ্ঠায় নিযুক্ত ছিলেন। অবশেষে ২০০২ সালে এলো বহুকাঙ্খিত শান্তি। বাংলাদেশি সেনাদের প্রতি ও বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতির প্রতি আন্তরিক কৃ্তজ্ঞতার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০২ সালের ১২ই ডিসেম্বর সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ তেজান কাব্বা ইংরেজি ও ক্রিওল ভাষার পাশে আমাদের বাংলা ভাষাকেও সিয়েরা লিওনের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।

ভাবতেই অবাক লাগে তাই না?

Shares

Leave A Reply