সে কী কথা, আফ্রিকার এই দেশটির সরকারি ভাষা বাংলা!  

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রূপাঞ্জন গোস্বামী

    চমকে গেলেন ? কথাটি কিন্তু সত্যি এবং দেশটির নাম সিয়েরা লিওন
    পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট দেশ সিয়েরা লিওন। জনসংখ্যা ৭০ লাখের কাছাকাছি।  ১৬টি যুযুধান উপজাতি গোষ্ঠীর বাস এই দেশে। কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনও গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির মিল নেই। ফলে একে অপরের সঙ্গে  লড়াইয়ে মেতে থাকত। রক্তাক্ত হত সিয়েরা লিওন।

    দেশটি ১৯৬১ সালে ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এবং তার পরেই জড়িয়ে পড়ে, কয়েক দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে। আফ্রিকার বড় বড় দেশগুলি অনেক চেষ্টা করেও সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হয়। এরপর এগিয়ে আসে রাষ্ট্রপুঞ্জ। ১৩ টি দেশের সেনা একত্রিত করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সিয়েরা লিওনে পাঠায় রাষ্ট্রপুঞ্জ। সেই শান্তিবাহিনীতে ছিলেন বাংলাদেশের ৭৭৫ জন সেনাও।

    দক্ষিণ সিয়েরা লিওনের লুঙ্গি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পান বাংলাদেশি সেনারা।  কিন্তু তাঁরা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে যাননি। জনসংযোগ ও স্থানীয়দের  আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই তাঁরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেন। স্থানীয় মানুষদের রীতিনীতি ও সংস্কৃতিতে মিশে যান আন্তরিক ভাবে।

    যে কোনও সমস্যায় আন্তরিক হাত বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশি সেনারা। ফলে  সমস্যা জর্জরিত স্থানীয় মানুষেরা ধীরে ধীরে সেনাদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকেও আপন করে নিতে থাকেন। স্থানীয়দের নিজস্ব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর আদিবাসীরা বাংলা গান ও গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন শুরু করেন। বাংলাদেশি সেনারা এভাবেই যুযুধান ১৬টি গোষ্ঠীকে বাংলাভাষা ও সংস্কৃতির সুতোয় গেঁথে ফেলেন।

    গোষ্ঠীগুলির মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব ও হানাহানি কমতে থাকে। বাকি ১২টি দেশের সেনাদের সঙ্গে কিন্তু সিয়েরা লিওনের মানুষদের এতো সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি সেনা সিয়েরা লিওনে শান্তিপ্রতিষ্ঠায় নিযুক্ত ছিলেন।

    অবশেষে ২০০২ সালে এলো বহুকাঙ্খিত শান্তি। বাংলাদেশি সেনাদের প্রতি  এবং বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতির প্রতি আন্তরিক কৃ্তজ্ঞতার স্বীকৃতি স্বরূপ, ২০০২ সালের ১২ ডিসেম্বর, সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ তেজান কাব্বা, ইংরেজিক্রিওল ভাষার পাশাপাশি আমাদের বাংলা ভাষাকেও সিয়েরা লিওনের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। এই স্বীকৃতি অবশ্যই সান্মানিক। কারণ বাংলা ভাষায় সে দেশে সরকারি বা বেসরকারি কাজকর্ম করা যায় না। সে ক্ষেত্রে ব্যাবহার করতে হয় ইংরেজি বা ক্রিওল ভাষা।

    তবুও বাংলা ভাষাকে দেওয়া সিয়েরা লিওনের এই সম্মান, বাঙালীর মুকুটে আরেকটি সোনার পালক। যে বাংলা ভাষার বার বার কন্ঠরোধ করার চেষ্টা হয়েছে, যে বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন আমাদের ভাইবোনেরা। সেই প্রাণের ভাষা, মাতৃভাষা ‘বাংলা‘-এর ভাষার আফ্রিকা জয়, সাম্মানিক হলেও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    ভাবতেই অবাক লাগে তাই না?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More