বিচারপতি কেন বললেন, আমরা কি সুপ্রিম কোর্টটাই তুলে দেব?

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি টেলিকম সংস্থাকে তাদের বকেয়া মিটিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। ভোডাফোনকে বলেছিল, ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশনসকে দিতে হবে ৫০ হাজার কোটি টাকা। ভারতী এয়ারটেলকে বলেছিল, দিতে হবে ৩৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের প্রাপ্য টাকা মেটায়নি কোনও সংস্থা। সেজন্য শুক্রবার রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিচারপতিরা। তাঁরা প্রশ্ন করেন, দেশে কি আইনশৃঙ্খলার কোনও অস্তিত্ব আছে? এরপর আমরা কি সুপ্রিম কোর্টটাই তুলে দেব?

বিভিন্ন টেলিকম সংস্থার কাছে ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশনসের প্রাপ্য দেড় লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ওই সব সংস্থার সিএমডি এবং এমডি-দের আগামী ১৭ মার্চ ডেকে পাঠিয়েছে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। তাদের বলা হয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মানার জন্য তাদের শেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এরপরও যদি তারা নির্দেশ অমান্য করে তাহলে উপযুক্ত ফল ভোগ করবে।

বিচারপতিরা বলেন, “দুর্নীতি বন্ধ করতেই হবে। টেলিকম সংস্থাগুলির সামনে এই হল শেষ সুযোগ। তাদের শেষবারের মতো সতর্ক করা হচ্ছে।” টেলিকম সংস্থাগুলিকে তিরস্কার করে বলা হয়, তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সামান্যতম সম্মানও দেখায়নি।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি এস এ নাজির ও বিচারপতি এম আর শাহ। তাঁরা ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশনসকেও তিরস্কার করেন। কারণ ওই দফতরের এক অফিসার এমন একটি অর্ডার ইস্যু করেছেন যা কার্যত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ওপরে স্থগিতাদেশ দেওয়ার শামিল।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে নির্দেশ দেয়, শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ওই আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশনসের সংশ্লিষ্ট অফিসার যেন জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন। এই প্রসঙ্গেই বিচারপতিরা সলিসিটর জেনারেলকে প্রশ্ন করেন, একজন সরকারি অফিসার কীভাবে সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারের ওপরে স্থগিতাদেশ দিতে পারেন? সরকার তাঁর বিরুদ্ধে কী অ্যাকশন নিয়েছে? দেশে কি আদৌ আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু আছে? আমরা কি সুপ্রিম কোর্টটাই তুলে দেব?

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.