সোমবার, নভেম্বর ১৮

সন্ধেবেলার গল্প

  • 68
  •  
  •  
    68
    Shares

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী

মঙ্গলা মুদির গল্প

দেশের বাড়ি গেলাম এক বছর পর। মেজঠাকুমা যখন গেল শ্রাবণে মারা গেল, ঘাটে ওঠার দিন গেছিলাম। তারপর এই। একেবারে বাৎসরিক কাজে। দেশের বাড়ি আর আসা হয় না। চাকরি, সংসার নিয়ে একবারে নাজেহাল অবস্থা। হপ্তায় একটা দিন ছুটি। সেদিন আর কোথাও বেরতে ইচ্ছে হয় না।

তবে ফোনে সব খবর পাই। রাস্তাঘাট নাকি আর আগের মত নেই। সব এখন পরিষ্কার, তকতকে ঢালাই দেওয়া। আগের মত আর কাদা হবার ভয় নেই। তবে নতুন কোন বাসরুট নেই। সেই অগতির গতি হরিপুর মিনি, যা মশাট থেকে ইছাপসর অবধি চলত একঘন্টা অন্তর অন্তর, তা বন্ধ হয়ে গেছে। সেই পথে এখন টোটো চলে। দু’ একটি ম্যাজিক গাড়ি। তবে সেগুলির অতি বেহাল দশা। যে মালিকরা নামিয়েছে এগুলি, সবই সেকেন্ড বা থার্ড হ্যান্ড গাড়ি। বাসের হ্যাপা একরকম, লড়ঝড়ে টোটোর জ্বালা অসহ্য। কিন্তু তাতেই মশাট থেকে হরিপুর আসতে হল।

গ্রামের পাট আমার উঠে গেছে বাইশ বছর আগে। পুরানো লোকজন ছাড়া আর বিশেষ কেউ আমাকে চিনতে পারে না। তাও তারা খানিক মুখের দিকে হাঁ করে চেয়ে থেকে বলবে, খোকন না? কবে এলে? ভাল আছ?

উঠোনের একদিনে সকাল থেকেই হরিনাম নাম-সংকীর্তন শুরু হয়ে গেছে। শয়লাতলার বোষ্টমদের খগেন এর মধ্যমণি। এদিকের গ্রামে গ্রামে শ্রাদ্ধবাড়ি থেকে শুরু করে চৌ-প্রহর যত নাম সংকীর্তন হয়, সবই খগেনের দল করে। ছোটখাট চেহেরার খগেন, সফেদ ধুতি-ফতুয়া পরে ঢোল বাজায়। কুড়ি বছর আগে ওকে যেমন দেখেছিলুম, আজও তেমনি আছে। তবে ওর দলের কানাই মারা গেছে। সে খঞ্জনি বাজাত।

এই কিছুক্ষণ আগেও বৃষ্টি পড়ছিল। ধারের ওই আমগাছটার পাতায় এখনও বৃষ্টি লেগে আছে। বেগ দেখে আমরা ভাবছিলাম বৃষ্টি বুঝি আর ধরবে না। মেজঠাকুমা যেদিন মারা যায় সেদিন যেমন প্রবল বর্ষণ হয়েছিল, বাৎসরিক কাজের দিনেও তেমনি বৃষ্টি। মেজঠাকুমা বোধহয় বৃষ্টি নিয়ে আসা-যাওয়া করে। গত বিকেল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আমাদের বাড়ির ওদিকেই বাজ পড়েছিল রাতে—তবে ক্ষয়ক্ষতি কিছু হয়নি—মাটিতেই মিশে গেছে বিদ্যুৎ।

হরিনাম শুরু হতেই মনটা অস্থির হয়ে উঠল। এতক্ষণ বাড়িতে আসা অতিথিদের সঙ্গে গল্প গুজব চলছিল, কিন্তু হরিনামের বোল মেজঠাকুমার না থাকাটাকে ফিরিয়ে আনল আবার। বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লাম। উদ্দেশ্য, গ্রামের পুরাতন মানুষদের সঙ্গে একটু দেখা সাক্ষাৎ করা। বিশেষত মেজঠাকুমার সেই সব পুরনো গল্পের খোঁজ যদি মেলে, ক্ষতি কী? তাহলে সন্ধেতে সকলের সামনে সেই গল্পকে মুঠোয় করে ধরে এনে মেলে দেওয়া যাবে।

মুদি পাড়ার গলির মুখে এসে পা থমকে গেল। শেষ কবে ঢুকেছি এখানে? ইস্কুলে পড়ার সময় মুদিপুকুরে সাঁতার শিখতে আসতুম। লবাদের বাড়ির উঁচু থেকে জলে ঝাঁপ দিয়ে একদিন ঝিনুকের খোলায় পা কেটে রক্তারক্তি! দেখি না, সেই পুকুর কেমন আছে?

ডানদিকে খোঁড়া নিতাইয়ের বাড়ি।

এবারেই গ্রামে এসে শুনলুম, কয়েকমাস আগে সে মারা গেছে ঘুমের মধ্যে। হার্ট অ্যাট্যাক। এই নিতাই, তার ভাই মেজঠাকুমার সন্ধে বেলার গল্প শুনতে আসত।

বামদিকে রিনাদের বাড়ি।

তারপরই রাধের।

তার পোশাকি নাম মঙ্গলা মুদি।

কিন্তু কিছুই চিনতে পারছি না, এত বদলে গেছে সব কিছু। রিনাদের, গঙ্গা মুদির, রাধের দুই ছেলের বাড়ি। ভাগে একটি দুটি করে ঘর আর লম্বা উঠোন। বারো ঘর এক উঠোন। তারপর ঘরের পিছনে গুটি কয় নাতি উচ্চ তেঁতুলগাছ ও মুদিদের সেই চ্যাটালো দুটি পুকুর। মাঝে সরু পথ। এখন সেখানে ঢালাই রাস্তা। আগে একটি টিউকল। আগে এখানে কল ছিল না। রাস্তার কল থেকে জল আনত এ পাড়ার লোক। একটি বউ রাস্তার দিকে পিছন করে কল পাম্প করছে। বালতি ভরছে। পায়ের শব্দে তাকাল। কাঁচা পাকা চুলের ফাঁকে চেনা মুখ। রাধের বড় বৌমা মালতি। সেও বলল, খোকন? বাব্বা, এমনি শহুরে হয়ে উঠেছ যে চেনাই যায় না!

গ্রামের মানুষ এখন আমাকে তুমি করে কথা বলে।

পেয়ারা গাছটা তোমাদের?

হ্যাঁ। পেড়ে খাও না। নীচুতেই তো।

রাধের শরীর খারাপ শুনলুম।

আর বল কেন, মকর মা মল্ল, মা গিয়ে দেখে এল। আর তাকে পুড়িয়ে এসে পরদিন নিতাই ঘুমের মধ্যে মল্ল। গাঁইয়ে যেন মরণের লাইন লেগেছে! আর মায়ের হাতে হল একটা ফুসকুড়ি। সেটা চুলকে বড় হল, ঘা হয়ে গেল। তারপর চার পাঁচ দিনেই গোটা হাতের চামড়াই উঠে গেল। চল না, দেখবে। এসো—।

সরু একটা অচেনা গলি দিয়ে রাধের উঠোনে এলাম। বারো ঘর থাকলেও এক উঠোন আর নেই। বলা ভাল উঠোনই নেই। খুপরি খুপরি ঘরে সব ভাগ হয়ে গেছে।

দুয়ারে মশারির ভেতর শুয়ে আছে রাধে। মাঝে মাঝে বিনবিন করে বলছে, আমাকে ভাল করে দে ভাই, ভাল করে দে।

মশারির গায়ে ছেঁকে ধরেছে মাছি।

চাঁদু কাকার বউ বললে, মা এখন আর কাউকে চিনতে পারে না। তারপর মশারির দিকে ঝুঁকে পড়ে বলল, মা, ও মা, বাউনদের খোকন এয়েছে, শুনতে পাচ্ছ?

কে? ভাই?

তোমার রাধের খোকন—, তোমাকে দেখতে এসেছে। চিনতে পারছ? এই যে, আমার পাশেই—

আমাকে ভাল করে দে ভাই। বড় কষ্ট!

মুখটা নীচু করে বলি, রাধে, আমি খোকন। তুমি মেজঠাকুমার গল্প শুনতে যেতে আমাদের বাড়ি, মনে আছে? সন্ধের অন্ধকারে উঠোনে চাটাই পেতে বসে আমরা সকলে মেজঠাকুমার গল্প শুনতুম—শুনতে পাচ্ছ আমার কথা? তুমি তো সবার আগে বসতে।

রাধে উত্তর করে না। কোঁকায়। একটু চুপ করে থেকে বলি, কদিন হল এভাবে পড়ে আছে?

দিন কুড়ি। তোমার কাকা হরলিক্স কিনে এনেছে। ওই যা একটু একটু করে খায়। জানি না, এভাবে আর ক’দিন।

সরে এসে এক ফালি উঠোনে দাঁড়িয়ে বলি, রাধে মেজঠাকুমার গল্পর কথা কিছু বলত না?

কই, না! তোমার মেজঠাকুমা মারা গেল, তোমার ঠাকুমা শয্যাশায়ী। আর কার কাছেই বা মা যায়! তাই ওই গলির মুখে বসে থাকত আর পথ ফিরতি লোকের সঙ্গে গল্প করত। তুমি কি মেজঠাকুমার গল্প খুঁজে বেড়াচ্ছ?

হ্যাঁ। যদি কারও মনে থাকে।

মলিন মুখে বাঁটুল-ফকিরের মা বললে, মানুষের গোটা জীবনটাই তো একটা গল্প, খোকন। এই আমাদের মায়ের জীবনটাই দেখ না—

 

গৌতম বাগের গল্প

ফিরছি, গলির মুখে ফকিরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে গেল। খালি গা, পরনে হাফপ্যান্ট। সে খোঁড়া নিতাইয়ের ভাইঝিকে বিয়ে করেছে। ফকির বললে, ঠাকুমা গল্পের কথা বলতে পারল কিছু?

না রে!

মনে জোর পেয়ে ফকির বলে, সে তোমাকে আগেই বলেছিলাম যখন আসার পথে অমলেন্দুর দোকানে কথাটা তুমি তোলো। ছোটবেলাতে আমরাও তো গল্প শুনতে যেতুম তোমাদের বাড়ি। আমার কী মনে হয় জান, তুমি একবার গৌতম বাগের কাছে যাও। ওর কাছে তোমার মেজঠাকুমার শেষবেলার গল্প কিছু থাকলেও থাকতে পারে। আমরা তো খুব ছোট ছিলুম সে সময়, আমাদের কিছুই আর মনে নেই। তুমিও তো মনে করতে পারছ না। শেষ দিকে তো আর গল্প শোনার লোক পেত না তোমার ঠাকুমা। তখন গ্রামে টিভি ঢুকে গেছে, রামায়ণ হচ্ছে—। আর এখন টিভির যুগ শেষ। হাতে হাতে মোবাইল।

আমি বেরিয়ে আসি।

এই পাড়া থেকে বেরিয়ে ঢালাই রাস্তার ওপারে বন্ধ হয়ে থাকা ক’টা মুদির দোকান। পিছনেই গৌতমের বাড়ি। সে তখন দুয়ারের উনুনে রান্না করছিল। পাশেই পঞ্চায়েত থেকে পাওয়া তিনটি ছাগল বাঁধা আছে। সামনে কাঁঠাল পাতা। গৌতম ছাগল চরায়, মাঠে ঘাটে কাজ করে, কাজের বাড়ির রান্নার কাজ করে। হালুইকর। তার একটাই ঘর। উঁচু তক্তপোশ। সেখানে গৌতম আর তার বউ শোয়। নিচে থাকে তিনটি ছাগল। মাঝরাতে গৌতম দুই বার ওঠে ছাগলদের পেচ্ছাপ করাতে। শেয়ালের ভয়ে সে ছাগল  বাইরে রাখে না।

শেয়াল? এত?

আগে ছিল না জানিস। এখন অনেক শেয়াল হয়েছে। সন্ধেতেই দুয়ারে ঘুরঘুর করে।

মেজঠাকুমার কোনও গল্প মনে পড়ে তোমার? তুমি তো ছিলে রোজকার শ্রোতা।

কড়াতে বেগুনের উপর একপলা তেল দিয়ে গৌতম বলে, নারে। সে সব কবেকার কথা, আর মনে থাকে। কেন, আর কেউকে পেলি নে?

না। আর সন্ধেবেলার গল্প?

না। আমার যা গল্প সব মনে তা তা আমাদের মঙ্গলা বড়মার কওয়া গল্প। এই রাস্তার ওপারে বসে বড়মা গল্প কয়ে যেত, আমি গাছলের ঘাস কাটতে কাড়তে শুনে যেতুম। তবে সে সব কিয়ার গল্প হল রে! তোর মেঝঠাকুমা যেমন গল্প বলব গুছিয়ে, আমাদের বড়মা কী আর তেমনি করে বলতে পারত? বড়মার ও হল ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বানানোর চেষ্টা।

মেজঠাকুমার কথা বলত না? যখন মারা গেল, গতবছর?

কই, তেমন কিছু মঙ্গলা বড়মা আমাকে বলত না। তবে বলত, এমন অনেক পশু-পাখি আছে, যারা মানুষের সাথে সমানে সমানে কথা কয়। বড়মাও তো একাকি বসে তাদের নিজের সুখ-দুখের গল্প করত। গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গেও নাকি কথা চলত বড়মার। সে সব বড়মার নিজের জীবনের কথা। তবে সে সবের ভেতর তোর মেজঠাকুমার কোন গল্প থাকত কিনা আমি জানি না।

আর রূপকথার কাহিনি?

না না, সে সব কিছু গল্প নয়। আমাদের বড়মা’র হাতের চামড়া উঠে যাবার আগে অবধি আমাদের এখানে এসে গল্প করে গেছে। আমার পাঁটি ছাগলদের সব নাম বড়মারই দেওয়া। একটা পাঁটি গাবিন হয়েছে, বাচ্চা বিয়ানো অবদি বড়মা বাঁচবে কি না জানি না। বড়মার  ইচ্ছে ছিল, ওদের জন্মাতে দেখবে।

আমি চুপ থাকি।

গৌতম বাগ কথার তোড়ে বলে চলে, তখন রোজ তোদের বাড়ি গেছি গল্প শুনতে। আর কেবল আমি কেন, এই মুদিপাড়ার গোটাটাই তখন সন্ধেতে তোদের বাড়ির উঠোনে গিয়ে বসে থাকত। আকাশে রাতের মেঘ চলত, সন্ধের পাখিরা মাথার উপর চক্কর কাটত। ফটফতে চাঁদের আলোর নিচে বসে গল্প শুনতুম আমরা। কারেন্ট এল কত পরে। টিভি চলত ব্যাটারিতে। পেটের ঠ্যালায় সে সব লাটে উঠে গেল। তাই তোর মেজঠাকুমার শেষ গল্প কোনটা আমি জানি না। তবে আমাদের কাছেও গল্প আছে। সে গল্প ঐ পাঁটি ছাগলের। বড়মাও তো এক সময় ছাগল পুষেছে। বড়মা রাস্তার ধারে বসে আমার ছেলেমেয়েদের মাঠে-ঘাটের গল্প বলত। এদিকে পঞ্চেতের পশুডাক্তার আসে, ছাগলের মুখে ফিরি ওষুদ ফেলে ত্রিশ টাকা চায়।  ছাগলের গল্প, তাদের নাম কেউ শুনতে চায় না। আমাদের কথাই বা কে শোনে বল!  আমরা ত আর রাজা-গজা নই। হ্যাঁরে খোকন, তোদের কাজের বাড়ির রান্না কে করছে?

বললুম, জানি না।

খুন্তি নাড়তে নাড়তে গৌতম খেদের সঙ্গে বললে, শুনলুম নাকি গণেশপুরের হালুইকর। এই ত পাশের গ্রাম, খালি মাঝে একটি মাঠ—এই যা। আমায় কাজটা দিলে কিছু পয়সা পেতুম। কিন্তু গাঁয়ের লোক আমাকে ডাকে কই? লোকরা আমার গায়ে পাঁটি গন্ধ পায়। তাই তো বাইরে বাইরে রান্নার কাজ নিয়ে দিন কয়েকের জন্য চলে যাই।

ছাগলের গায়ে পড়া রোদ্দুর দেখলুম। চলকাচ্ছে। বেলা চড়েছে। নামগান নিশ্চয় এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

উঠতে হবে এবার।

সন্ধেবেলার গল্প

বাৎসরিক-এ আমন্ত্রিত মানুষেরা একে একে বিদায় নিতে নিতে সন্ধে এসে গেল। বাড়ি এখন শব্দহীন। পিসিরা, কাকারা, আমরা, আমাদের সন্তানদের নিয়ে উঠোনের সেই জায়গায় বসে আছি, যেখানে আমরা গল্প শুনতে বসতুম। একটা গল্পের ভেতর থেকে হাজারটা কাহিনির জন্ম হোত। সেখান থেকে বেরিয়ে আসত আরও আরও গল্প। সেই নিয়ে একটা মজার ও আনন্দের ছেলেবেলা পার করে দিলাম আমরা।

শেষ গল্পটা কাকে বলেছিল মেজঠাকুমা? কেউ জানে না। তেমন ভাবে কোন গল্পই বা কার মনে আছে। যা আছে তা কাহিনির আভাস মাত্র। ফলে, যে যা বলছে তার কিছুই দানা বাঁধছে না। মনে হল, আমরা যেন গল্পর খোঁজ করছি না, গল্পের স্মরণসভায় বসে আছি। আর আমাদের সঙ্গে নিশ্চুপ বসে থাকা আমাদের ছোট ছোট ছেলেপুলেরা হাঁ করে তাকিয়ে আছে আমাদের মুখের দিকে। তারা কোনদিন গল্প শোনেনি, কেউ তাদের কোন কাহিনি বলেনি। তারা জানে গল্পের নানা চ্যানেল আছে। মুখে মুখে কেমন করে গল্প রচনা করা যায়, তারা জানে না।

এই সন্ধেবেলার আকাশে কেবল অন্ধকার মেঘ আর মেঘ। আর আমরা, নানা দিকে ছিটকে যাওয়া মানুষেরা করুণ মুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম। যদি মেঘ সরে যায় আর তখন আকাশে ভেসে ওঠে আলোর চাঁদটা। হয়ত দেখব সেখানে তখন চরকা বুড়ি সুতো কাটছে। পিছনে দাঁড়িয়ে বুড়ির পোষা ছাগলটা চাঁদ ঝাঁট দেবার ঝাঁটাটা চিবিয়ে চলেছে। বুড়ির সে সব খেয়ালই নেই! সুতো কাটতে কাটতে একমনে বকে চলেছে, আর এট্টুখানি সবুর কর বাপ আমার, এই পঞ্চেতের ফিরি ডাক্তার এসে পড়ল বলে। তার আগে এই কাপড়খানা বুনে নিই। সে তোর মুখে ফিরি ওষুদ দিয়ে ফিরির মূল্যস্বরূপ এই কাপড়খানা নে যাবে কিনা!

গ্রাফিক্স : দিব্যেন্দু সরকার 

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীর প্রথম গল্প ছাপা হয় পুরুলিয়ার টুকলু পত্রিকায়। নানা পত্রিকায় তাঁর গল্প ছাপা হয়েছে। এখন অবধি প্রকাশিত গল্পের বই একটাই – মশাট ইস্টিশনের মার্টিন রেল। 

Leave A Reply