শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

গল্প : জননী – শ্যামলী আচার্য

শ্যামলী আচার্য

কম্বলগুলো সব পরপর সাজানোই থাকে। নীলা একটা একটা করে টেনে নামায়। কোনটা গোলাপি, ফুলছাপ, মেরুন, বাদামি। অনেক রকম রং। একটু স্যাতসেঁতে। বোঁটকা গন্ধ। বহুদিন ডাঁই করে রাখা। রোদে দিলে হত। এই ঘরটায় তেমন রোদ ঢোকে না। আলো ঢোকার রাস্তাও কম। একটা বড়সড় জানালা আছে ঠিকই। তার ফাঁক গলে সামান্য কয়েক চিলতে। জানালা বন্ধ প্রায় সবসময়। ঝাঁটা নিয়ে ঢুকলে মিনতিদি তেড়ে আসে। বলে, আর ধুলো ওড়াস না তো। ধুলো ওড়ার জায়গাই নেই যদিও। মেঝেতে সার সার বিছানা পাতা। পাতলা তোশক। ওপরে চাদর। কম্বল। বালিশ নেই। আর একধারে স্তূপ করে রাখা প্যাকিং বাক্স। বাতিল কাগজ।

ছোট্ট ঘর পেরোলেই ছাদ। এটা ছাদেরই ঘর আসলে। ছাদের পাঁচিল ভাঙা। ওদিকে ভয়ে যায় না কেউ। মিনতিদির বারণ। পুরনো বাড়ি। কার্নিশের দিকে বেশি না যাওয়াই ভাল। তিনতলার এই ঘরে অ্যাসবেস্টসের চাল। ভ্যাপসা গরম হয়ে থাকে। নীলা সপ্তাহে দু’একদিন ঢোকে। ঢুকতে পারে। ঘরে চাবি দেওয়া সবসময়। মিনতিদির কাছ থেকে চাবি চেয়ে নিয়ে খুলতে হয়। কখনো কখনো রবিবার ঘর খুলতে দেয় না। বলে, আজ আর ওপরে উঠিস না। নীচে কাজ আছে অনেক। পরের দিন ঘরে ঢুকলেই অনেক রকম গন্ধ ঝাঁপিয়ে পড়ে। এলোমেলো, অগোছালো। হিসির গন্ধ। নরম ফুলের গন্ধ। মশার ধূপের গন্ধ। চাদর তোশক দলা হয়ে আছে। কম্বল গুটিয়ে পাকানো। বেশ বোঝা যায়, নীচের রোগীদের ব্যবহার হওয়া বেশ কিছু আকাচা চাদর-কম্বল জড়ো হয়েছে এখানে। সেগুলো তখন কাচার জন্য আলাদা করে। ভাঁজ করে। মেঝেতে পাতা বিছানা গোছায়।

বেশিক্ষণ এই ঘরে থাকলে মিনতিদি বকে। নীচ থেকে হাঁক পাড়ে, কি রে হল?

– এই তো যাই…

এই ঘরে ঢুকলে নীলার আর বেরোতে ইচ্ছে করে না। বড্ড কষ্ট হয়। দমচাপা কষ্ট। কীসের কষ্ট কিছুতেই বুঝতে পারে না নীলা। কেবল মনে হয়, এই ঘরে অনেক নিঃশ্বাস ঘুরপাক খাচ্ছে। শিরীষ গাছের পাতায় ফাগুন হাওয়া হাত বুলিয়ে দিলে যেমন ফিসফিস করে আওয়াজ হয় – একদম সেইরকম শব্দ। ওর চারপাশে সেই শিরশিরে শব্দ ওকে কেবল ছুঁয়ে যায়। কেবল ভালোলাগা। আর ভালোলাগার যন্ত্রণা। ঘরের মধ্যেই কুঁকড়েমুকড়ে শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করে ওর। শব্দ জড়িয়ে, নিশ্বাস মুড়ি দিয়ে চুপটি করে শুয়ে থাকবে। উঠবেই না আর সারাদিন।

নীলার বয়স ছত্রিশ পেরোলো। পেটানো স্বাস্থ্য। প্রচুর পরিশ্রম করতে পারে। এই ছোট্ট তিনতলা বাড়িটাতে কাজ করতে আসে সেই কোন ভোরবেলা। সন্ধের আগেই অবশ্য ছাড়া পায় নীলা। রোজই ছ’টা বারোর ট্রেন ধরতে পারে। বাড়ি ঢুকতে সাতটা বড়জোর। বাড়িতে তার পিছুটান কম। ছেলেপুলে নেই। কিন্তু বুড়ো শ্বশুর-শাশুড়ি আছে। তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়। হকারি করতে গিয়ে অকালে ট্রেনে কাটা না পড়লে লোকের কাছে বলার মত একটা বর অন্তত থাকত। হয়ত ছানাপোনাও। বরের অভাব হাঁ করে আর তাড়া করে না এখন। সেসব টান কবে মরে হেজে গেছে। বরং বড় অভাব টাকা-পয়সার। শ্বশুরের চোখে ছানি। শাশুড়ির হাঁপের টান। কাজ-কর্ম করে যে দু’পয়সা ঘরে আনবে সে সামর্থ্য আর অবশিষ্ট রাখেনি ভগবান। বরং জুটিয়ে দিয়েছে ওর মত একটা খাটিয়ে মেয়েছেলেকে। উদয়াস্ত পরিশ্রম করে পেটের ভাতের জোগানদার। বাপের গুষ্টিতে কেউ রোজগেরে থাকলে একবার ফিরে যেত নীলা। সে আশায় ছাই। এখানেই পচে মরতে হবে।

রসালো চেহারা নীলার। তবু তার ঠোঁটকাটা মুখরা মেজাজে পুরুষ তেমন কাছ ঘেঁষে না। রাস্তাঘাটে ছোঁকছোঁকানি সয়ে যাওয়া যায়। লালা-ঝরা পুরুষ দেখলেই নীলার মনে হয়, জিভ টেনে ছিঁড়ে দিই। মুখে সে কথা বলে না। না বললেও তার চোখের চাউনি বা গলার মধ্যে সেই বাঁকা সুর টের পেলেই পুরুষ ছিটকে যায়। ছিনে জোঁকের মত আর বেশিক্ষণ লেগে থাকতে পারে না। নীলার মেজাজখানাই এমন। এজন্য ভগবানকে কম দোষ দেয় না সে। একটু ছেনাল গোছের হলে তো আর ভাত-কাপড়ের অভাব হত না ওর। খোলার ঘরে বসে থাকা বুড়ো শ্বশুর শাশুড়ি না জোটায় ভাত, না দেয় শান্তি। মুখ গুঁজে খেটে যাওয়া কেবল।

ওষুধপত্রের খানিকটা সুরাহা হয়েছে এই হোমে এসে। এটা মানসিক রোগীদের হোম। পাড়ার লোকে বলে পাগলা গারদ। একতলায় ডাক্তার বসে, হপ্তায় তিনদিন। সকালে একজন। সন্ধেয় অন্য একজন।

একতলাতেই মিনতিদির ঘর। হোমের মালকিন মিনতিদি। সে-ই সর্বেসর্বা। দারোয়ান সুরয আর ড্রাইভার পবন থাকে একটা ঘরে দু’দিকে চৌকি পেতে। আর উল্টোদিকের ঘরে নাইট ডিউটির আয়া এসে কাপড় ছাড়ে। ওটা আয়াদের জায়গা। সকালের শিফটে দুজন, রাতে একজন। ঐ ছোট্ট না-ঘর না-বারান্দায় দেওয়ালে দড়ি খাটিয়ে তাদের কাপড়-জামা রাখে। কাঠের লম্বা বেঞ্চিতে ব্যাগ। টিফিন-কৌটো। মাঝে-মধ্যে ফুরসত পেলে পান-মশলা মুখে দিয়ে গ্যাঁজানো।

দোতলায় চারটে ঘর। চার দুগুনে আট জন রোগীর জায়গা। ওরা রোগী। ওর পাগল। নীলা আগে ওদের ভয় পেত। এখন সয়ে গেছে। অত ঘাবড়ায় না। বিছানায় শিকল দিয়ে কখনো হয়ত আটকে রাখতে হয় কাউকে। বাড়াবাড়ি হলে ডাক্তারবাবু সুচ ফুটিয়ে দেয় এসে। তখন ঝিমোয়। অন্য সময় খাবার ছড়ায়। বকে চলে অনর্গল। চিল্লিয়ে পাড়া মাত করে। এদের চান করানো, খাওয়ানো। গুছিয়ে রাখা ওষুধপত্র। বারে বারে বাথরুম নিয়ে যাওয়া। পায়খানা-পেচ্ছাপ করে ফেললে পরিষ্কার করা। সামলানো।

মোটের ওপর ভালোই। আর পাঁচটা হোমের মত নয়। ইচ্ছে করলেই এদের আরও অনেক অযত্ন করাই যায়। মিনতিদি সেইদিক থেকে অনেক ভাল। এদের খাইয়ে পরিয়ে যত্নেই রেখেছে।

তবে এ বেশ হ্যাপার কাজ। নীলা আর সুরভি– এরা দুজন দিনের বেলায় সব সামলায়। টুকটাক ছুটোছুটি বেশি। পাগলীগুলো কম খেতে দিলেও বলে না কিছু। ওদের যত্ন-আত্তি না করলেও চলে। অভিযোগ-অনুযোগ করার বুদ্ধি কোথায়? পাগল তো! বেশি ঘ্যানঘ্যান করলে দাবড়িয়ে থামিয়ে দেওয়া যায়। বাড়ির লোকের হদিস নেই এদের। ফেলে দিয়ে চলে গেছে। ঠিকানা ভুয়ো। সেখানে নেই কেউ। নীলা ভাবে, ভাই-বোন, বাপ-মা বা ছেলেপুলেও কি নেই এদের? পাগল তো আর কেউ একদিনে হয়নি। সংসার সামলাতে গিয়ে হয়েছে। কেউ জন্ম থেকেই মাথার অল্প গড়বড়। তারপর হয়ত তার গোলমাল বাড়ে। নড়বড়ে হওয়া ভাঙচুর অস্থিরতায় অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ির লোক তাকে ভর্তি করে চলে যায়। প্রথমে ডাক্তার দেখানোর অছিলায়, পরে ধীরে ধীরে আরও একটু মায়া জাগিয়ে চিকিৎসা করতে এসে। মোট কথা, এরা পাগল। এরা অচল, এরা বাতিল মাল। বাড়ির লোকগুলো বেড়াল-তাড়ানো করে পার করে দিয়েছে। না খেয়ে মরত পথে-ঘাটে বেওয়ারিশ। মিনতিদি বলে, অত পয়সা তো নেই আমার। জামাই আদরে রাখতে পারব না। মানুষগুলো রাস্তায় ঘুরত। তার চেয়ে এটুকু মাথা গোঁজার ঠাঁই তো জুটল। দেখি, পরকালে কিছু পুণ্যি-টুণ্যি জোটে কিনা!

নীলার এই হোমে কেটে গেল প্রায় ন’মাস। এর আগে খাটতে যেত লোকের বাড়িতে। আয়া সেন্টারে তার নাম লেখানো। যখন যেমন দরকার ডাকবে তারা। ফোন করে খোঁজ দেবে। দশ দিন কাজ করে টাকা পেলে সেন্টারে জমা দাও। গুনেগেঁথে তারা কমিশন কাটবে। হাতে যা পাবে, তাতে আর পরের দশ দিন টানা যায় না। খুচরো ধার হয়। মুদিখানা, রেশন, লাইটের বিল, ঘরভাড়া– সব দিয়েথুয়ে মিটিয়ে আর কিছু থাকে না। সব কিছুই খরচের গর্ভে।

অন্যের বাড়িতে গু-মুত ঘাঁটতে আর ভাল লাগছিল না। ট্রেনে রূপা এই হোমটার কথা বলল। খুঁজেপেতে একদিন চলেও এল নীলা। মিনতিদির জোড়া ভুরুর তলায় দুটো কুতকুতে চোখ। চট করে মেপে নেয়। নীলাকে রেখে দেয় এক কথায়। কী দেখে কে জানে।

পাড়ায় সবাই চেনে মিনতিদিকে। এই বাড়িটা মিনতিদির বাবার। তার নামেই হোম চালু করেছে মিনতিদি। ওদের দেখাশোনার খরচ চলে আসে কোথাও থেকে। কম-বেশি কিছু না কিছু পেয়ে যায় ঠিক। তা না হলে ওই আটটা পাগলীর দেখভাল হত কি করে? যে দুজন ডাক্তার আসে সকাল-বিকেল, সেখানে রোগীর ভিড় হয়। ভিজিটের টাকা খানিকটা ডাক্তারের পকেটে। খানিকটা নিশ্চয়ই মিনতিদির। আর কোত্থেকে কত টাকা আসে জানে না কেউ।

নীলাকেই ভরসা করে ঐ ওপরের ঘরের চাবি দিয়ে দেয় মিনতিদি। আজ যেমন। অগোছালো কম্বল, চাদর, হড়ুমতাল করে রাখা বিছানাপত্তর। আর সেই গন্ধ।

ভ্যাপসা বোঁটকা গন্ধ ছাপিয়ে ওই শিরীষ গাছের গন্ধ। ওর খোলার ঘরের লাইন দেওয়া বস্তি ছাড়ালেই যে ঝাঁকড়া গাছটা দাঁড়িয়ে আছে, যে গাছের তলায় মহিমের রেলে কাটা-পড়া বডি মর্গ থেকে এনে রেখেছিল ছেলেরা। শেষবারের মত একবার এনে শুইয়েছিল। সেই সময়ও যেন এই গন্ধটাই…

বন্ধ জানালার পাশে একের পর এক চাদর গোছায় নীলা। এখানে একদল রোগী, আর বাড়িতে দুই অথর্ব বুড়োবুড়ি– কান্না পায় নীলার। আঁকড়ে ধরার মত একটা কচি মুখ রোজ ওর দরজায় এসে দাঁড়ায়। ঝিম ধরা ঘুম এলে মিনতিদির ঘরের তাকের পাশে ঝোলানো ক্যালেন্ডারের পাতায় ননীচোরা গোপাল খিল খিল করে হাসে। আধবোজা চোখে হাত বাড়ালেই দেয় ছুট। টনটন করতে থাকে গলার কাছটা। ডুকরে কেঁদে ওঠা ওর ধাতে নেই। ঢকঢক করে জল ঢালে গলায়। যেন জলের সংগে বুক বেয়ে নেমে যাবে ওর না-পাওয়ার যন্ত্রণা। রোজকার কজে-কর্মে ভুলে থাকতে থাকতেও কচি হাতদুটো আঁচল টেনে ধরলে থমকে যায় নীলা। সব ডিউটি গোলমাল হয়ে যায়। সারাদিনের খুচরো দৌড়ঝাঁপে বেসামাল হয়ে যায় এক-একদিন। সাউথ সেকশনের লাইনে বাড়ি ফেরার ট্রেনে উঠে ধুপ করে বসে পড়ে দরজার গোড়ায়। হু হু করে হাওয়া কেটে বসে চোখেমুখে। ফালা ফালা হয়ে ছিটকে যায় আধো আধো মা-ডাক। চলন্ত কামরায় নানান খাবারের ডালার আড়ালে কখন টুক করে লুকিয়ে পড়ে সদ্য দুধ-তোলা টক গন্ধ।

তিন নম্বর বেডের আধবুড়ি পাগলী, খাতায়-কলমে যার নাম চন্দনা, সে বেশ বিগড়োয় মাঝে মাঝে। থালা আছড়ে ফেলে। ওর নাকি পেট ভরে না। মাপা ভাত, ডালের জল, আলু-সয়াবিনের ঘ্যাঁট। বরাদ্দ মাছ সবার ভাগ্যে সবদিন জোটে না। ওটুকু নিয়ে টানা-হ্যাঁচড়া হবেই। নীতিবোধ ওটুকু না টসকালে আর কিসের মানুষ?

রাতেও এক-একদিন লাগামছাড়া চিল্লায় চন্দনা। রাজেন ডাক্তার সেসব দিন কড়া ওষুধ ঠুসে দিলে নিশ্চিন্দি। নীলা দেখেছে, এই আটটা পাগলীর মধ্যে চন্দনা মন্দের ভালো। ‘ভালো’ মানে কম পাগল। বুঝদার। সে ঝামেলা করে কম। গুম মেরে থাকে। নীলাকে ডেকে এটাসেটা বলে। অধিকাংশই ভুলভাল। তবু বলে।

এই যেমন কদিন ধরেই ডেকে ডেকে বলছে, বাচ্চা নেই তোর? নিসনি কেন? একটা নিয়ে যা না। ঐ তো দেখ। ওদিকেই পাবি। নিয়ে যা।

নীলা শুনেছে, ওর ছেলে সাপে কাটা পড়ে মরেছে। আর মেয়েটা নাকি মরে গেছে বিয়ের পর বাচ্চা হতে গিয়ে। সেই থেকেই ও কেমনধারা। ছেলে-মেয়েদের সাথে কথা বলে একা একা। তাদের খাবার বেড়ে দেয়। গায়ে-মাথায় হাত বুলোয়। ভাল-মন্দ শুধোয়। ‘রুনু’ বলে কাকে খুব জোরে জোরে ডাকে। আর সাড়া না পেয়ে একদম চুপ করে যায় নিজে নিজেই।

এক-আধদিন বিড়বিড় করে বেশি। জানালার মোটা গরাদ দেখিয়ে বলে চলে, রুনু শোন, বড্ড উকুন হয়েছে মাথায়। বেছে দিস তো। কুটকুট করে। নীলা গিয়ে পাশে দাঁড়ালেই চুপ করে যায়। খুব ঘুম পায় তখন নীলার। দেওয়ালে হেলান দিয়ে ও চোখ বোজে। পাগলী হলেও ওর তো তবু ডাকবার মত একটা নাম আছে। আর নীলার?

#####

ঘোরের মধ্যেই টের পায়, ওরা আসছে।

সিঁড়িতে ছোট ছোট পায়ের শব্দ। টলমল করে।

ছাদের তালা দেওয়া ঘর খুলে থাকার জায়গা দেয় মিনতিদি। ওরা চুপটি করে শুয়ে পড়ে। পাশাপাশি। প্যাকিং বাক্সে চড়ে ওরা চলে এসেছে। কী জানি কোথা থেকে কোথায়! ঠিকানা নেই কারও। নামও নেই। ওই নীচের তলার পাগলীগুলোর মত ওরাও বেঘর।

ওরা আসে। চারজন। পাঁচজন।

নাহ। পাগলীগুলোর মত চেঁচামেচি করে না। কান্নাকাটি নেই। থম মেরে থাকে। মায়ের বুকের ওম না পেয়ে নিস্তেজ, ন্যাতানো। ন্যাকড়ার পুঁটলির মত। অল্প একটু জলে গোলা দুধ পায়। আর পাকা ঘরে তোশক-চাদর-কম্বল। ঘরের মধ্যে জ্বলে মশা মারার কড়া ধূপ। আর কী চাই? ডাস্টবিনে ফেলে তো গেল না কেউ! পেট খালাস করা পাপের মাল বলে ভাসিয়ে তো দিল না কেউ নদীর জলে।

এই আশ্রয় কে দেয়?

ওই তিনতলার ঘর থেকে মিনতিদি ওদের পাঠিয়ে দেবে আরও বড় কোন ঘরে। বড় বাড়িতে।

শিরীষের গন্ধ মাখা ঘর পরিষ্কার করতে করতে নীলা মুঠো করে ধরে থাকে চাদরের একটা কোনা।

শ্যামলী আচার্যর জন্ম কলকাতায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশবিদ্যায় পিএইচডি। দীর্ঘদিন আজকাল এর সুস্থ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কাজ করেছেন আরও বেশ কিছু খবরের কাগজে। ছিলেন আকাশবাণী কলকাতার এফএম চ্যানেলের উপস্থাপিকাও।

Shares

Leave A Reply