সোমবার, অক্টোবর ২১

 চার পুরুষ

ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

টানটান করে ভাঁজ করা নরম রুমালটা অপালার বন্ধ দু’চোখের ওপর আলতো করে রাখে অণু। তারপর আলগোছে তার দু’হাতের আট আঙুল অপালার চাপা দেওয়া চোখের ওপর রাখে। কপাল, চুল, সিঁথি ছুঁতে ছুঁতে মাথার ভেতরের চিন্তাগুলো বিলীন করে দেয়। ক্রমশ চিন্তাশূন্য হয়ে যায় অপালা। খুব আরাম লাগে এই সময়টায় তার।

অণু বলতেই থাকে… নরম গলায়। বেশ সুর করে।

” রিল্যাক্স ইওর টোজ, রিল্যাক্স ইওর নিজ, রিল্যাক্স ইওর কাফ, রিল্যাক্স ইওর থাইজ…”

অপালার টেনশন উধাও হতে থাকে। আবারও আলতো আঙুলের ছোঁয়া, অণুর আলগোছে আঙ্গুলের টুকরো সংলাপে আরাম হয় অপালার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের।

“থিংক অফ ইওর গড, থিংক অফ ইওর মাইন্ড, বি পজিটিভ…রিল্যাক্স, রিল্যাক্স, রিল্যাক্স”

প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর আবারও ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে চলে যায় অপালার এই যোগ ব্যায়ামের মেয়েটি। তারপর কখন যে অপালার দিন শুরু হয় কে জানে! ফ্রিহ্যান্ড, যোগাসন, কপালভাতি, ভ্রামরী, প্রাণায়াম তারপর রিল্যাক্সেশন। ছকে বাঁধা একদম। খুব মেটিকুলাস অণু। যেমন কাজ করে তেমন পয়সা নেয়। অপালা খুশি অণুর কাজে। অণুও খুশি অপালার মত ক্লায়েন্ট পেয়ে। হঠাৎ টাকার দরকার হলে অপালা বৌদি। হঠাত প্যারাসিটামল – অপালা  বৌদি। হঠাৎ স্যানিটারি প্যাড, অপালা বৌদি। তারপর বাড়িতে ভালোমন্দ রান্না হলে তো আর  কথাই নেই। অণু চাখতে চাখতে বলে, সুপার্ব। এভাবেই চলতে থাকে। অপালার থিতিয়ে পড়া মধ্য যৌবনে অণু এক টুকরো সুখ। এক মূহুর্তের ঠাণ্ডা আলোবাতাস। একঘর ভালো বাতাস।

নিজের বাড়িতে এই বয়সের একা মেয়েদের মিডলাইফ ক্রাইসিস হবারই কথা। যোগ ব্যায়ামে ভাল থাকে সকলে। তবে অপালার যোগব্যায়ামের সে সব দরকার হয়নি এতদিন। ছিপছিপে গড়নের অপালার ফিটনেস আছে। তবুও লাইফ স্টাইল ম্যানেজমেন্ট চাই । মনোরোগ নিমেষে উধাও হবে। মনে শান্তি আসবে।

কী হয়েছিল অপালার? কী আবার ? মধ্যবয়সে মেয়েদের যা হয় আর কী। নেই কাজ তো দুঃখবিলাসের খ‌ইগুলো ভাজতে বসত শুকনো মনের খোলায়। আর ভলকে ভলকে উঠে আসত পুরনো কথার কাসুন্দী। না, না মোটেও সে ঘাঁটত না। প্যান্ডোরার বাক্স খুললেই ভকভক করে বেরিয়ে আসত আপনা আপনি ।

মনখারাপের ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে বুকের চৌকাঠে। বারেবারে।

তাকে কে কী দিয়েছে? তার জীবন শেষের পথে হাঁটছিল এই সংসারের জন্যেই তো। এই বয়সটায় এসে সকলেই পাওয়া না পাওয়ার হিসেবনিকেশ মেলায় বুঝি ।

তার জীবনে প্রথম পুরুষ ছিলেন রক্ষণশীল বাবা। কড়া শাসন ছিল। মেয়ের ওপর অহোরাত্র কড়া নজরদারি ছিল তাঁর। তিনি বিয়ে দিলেন না মেয়ের পছন্দমত পাত্রের সঙ্গে। সে কারণ যাই হোক। অতএব পরাজিত হল অপালা। আর ছিল প্রাণের ছোট্ট পুরুষটি তার পিঠোপিঠি সহোদর ভাই। সে ছিল অপালার জীবনের উত্তম পুরুষ, এখনও মনে হয় মাঝেমাঝেই। কিন্তু যতই দুজনে কলে কলে একই বাড়ির মধ্যে বাড়তে থাকল ততই সমস্যা শুরু হল। ভাই ভাবতে লাগল দিদিই তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও  উলটোটাই হবার কথা ছিল। সাধারণত ছোট ভাইয়ের দিকে বাড়ির লোকের বেশি মনোযোগ থাকলে দিদিরা অ্যাটেনশন ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোমে ভোগে অনেক সময়। কিন্তু অপালার ভাই তার রাইভাল হয়ে উঠল। সে ভাবল দিদিকে নিয়েই সবাই আদিখ্যেতা করছে। অতএব একরত্তি প্রাণের পুরুষ একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে ঠিক জমল না অপালার। অথচ এরই হবার কথা ছিল অপালার অন্তর পুরুষ। নাড়ির টান এক্কেবারে। রক্তের সম্পর্ক বলে কথা। ভাইয়ের সঙ্গে ঠাণ্ডা লড়াই চলতে চলতে প্রথম পুরুষ বাবার পছন্দের পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল।

বিয়ের পর জীবনের তৃতীয় বা মধ্যমপুরুষ তার স্বামী। প্রথমপুরুষের চেয়ে অন্যরকম জ্বালা মধ্যম পুরুষের। তিনি একটি ছেলের পরেই দেহসুখে নির্লিপ্ত। সাংসারিক বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। অফিসের কাজ সর্বস্বতা তাঁর রোগ। অফিসের লেটনাইট পার্টি, মদের আসর, ঘনঘন বিদেশ যাত্রা লেগেই থাকে। মধ্যরাতে বাড়ি ফিরে আপাদমস্তক মদের গন্ধে নিজেকে মুড়ে পাথরের মত অপালার পাশে শুয়ে থাকেন তিনি। দিনের পর দিন এহেন দাম্পত্য শয্যা বিলাসে যারপরনাই ক্লান্ত অপালা।

সে তো বাবার মতেই বিয়ে করেছিল পুষ্পলকে। কিন্তু সুখ অধরাই রয়ে গেল তার জীবনে। পুষ্পলের সংসারে মতি হল না এ জন্মে। যেন একটি পুত্রের জন্ম দিয়েই সে অপালা কে উদ্ধার করেছে। স্বামী হিসেবে তার সব কর্তব্য সেখানে শেষ। অতএব সারাজীবন একাই সংসার করে গেল অপালা। নিজের মত করে। শুধুই নিজে ভাল করে বাঁচবে বলে। সংসারের সুখের আশায়।

এবার অপালার জীবনের চতুর্থ পুরুষ বা শেষপুরুষ অপালা আর পুষ্পলের একমাত্র পুত্র পলাশ। তার সঙ্গেও খাপ খায়না আজকাল অপালার। জেনারেশন গ্যাপ। ছোটবেলায় একরকম ছিল দুধের শিশু। মা যা বলে তাই শোনে। একটু বড় হয়েই যেন বিপত্তি হল।

নাকি ছেলের ব্যাপারে অহেতুক নাক গলায় অপালা? কে জানে বাপু? এ বয়সটা বড্ড খারাপ। ছেলেপুলের একগুঁয়েমি,  মুখেমুখে তর্কাতর্কি, মায়ের কথায় পাত্তা না দেওয়া…এসব যুগধর্ম।  ম্যাগাজিনে, কাগজে পড়েছে অপালা। তাই কথা বাড়ায় না ।

অপালার দীক্ষা নেওয়া, নাক টিপে পুজো করা, নীলের উপোস, ষষ্ঠী এসব না-পসন্দ তার ছেলে পলাশের। কথায় কথায় সে বলে ওঠে নিকুচি করেছে তোমার সনাতন ধর্মের কচকচির। মেনে নিতে কষ্ট হয় অপালার। এতদিনের সংস্কার, অভ্যাসের কি হবে তবে?

রবিঠাকুরের গান গেয়ে ওঠে সে…

” আমার যে সব দিতে হবে সে তো আমি জানি…।’

অপালা ভাবে, তাই বলে ছেলের পছন্দ নয় বলে নিজের জপতপ, পুজোআচ্চা সব চিরকালের মত ছেড়ে দিতে হবে?

সারাটা জীবন কি সংসারে শুধু দিয়েই যেতে হবে তাকে? মেনে নেওয়াটাই কি জীবনের সব পুরুষদের এত পছন্দের? জীবনের প্রথম পুরুষ, উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ, উত্তর পুরুষ সকলকেই চেনা হয়েছে তার।

মনে মনে ভাবে অপালা। আর কতদিন চলবে এমন? নানান বয়সের নানান পুরুষের রকমসকম দেখে সে থ এক্কেবারে। জীবনের সব পুরুষের দৌরাত্ম্যেই কেটে গেল তার জীবন। সেই যে সিনেমার গানটায় আছে

“সব পেলে নষ্ট জীবন” নিকুচি করেছে লিরিকসের। জীবনে পাওয়ার ঝুড়িটা ভরলোই না তো সব পাওয়া।

ভোরে উঠে বারান্দার শান্তিলতা গাছটার দিকে চোখ যায়।  নীচ থেকে বারান্দার গ্রিলে লতিয়েছে মনের সুখে । কিন্তু একটু শ্রীহীন। পোকা লেগেছে বুঝি। অপালা খুঁটিয়ে দেখে। ফুল আর আসেনা গাছে । ভাবে একদম তার জীবনের মত। রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘূণপোকার বাসা। অথবা গাছের গোড়ায় পিঁপড়ে হয়েছে বুঝি। ওষুধেও কাজ হয় না। নিজের বাড়ির লাগোয়া ভরন্ত ফুলগাছ দেখলে বাঁচতে ইচ্ছে করে। আজ সেও অধরা। কিন্তু শান্তিলতা গাছটা তো ফুল দিয়েছে বহু বছর ধরে। তবে কি তার জীবনের প্রিয় সঙ্গী শান্তিলতারও রূপান্তর হল?  না, না তা তো হবার নয়। অপালার মন মানতে চাইছে না আজ। জীবনের সব অনুষঙ্গগুলোকেই সে ভাবতে শুরু করেছে সে পুরুষ রূপে। সে বীতশ্রদ্ধ পুরুষে। তাই বুঝি এমন মনে হচ্ছে তার । কোথাও ভুল হল বুঝি।

ধুস্‌! কি সব আবোলতাবোল ভাবছে সে। গুলিয়ে যাচ্ছে সব। আচ্ছা আকাশের সেই নক্ষত্রপুঞ্জ? কি যেন নাম তার? ছোটোবেলার ভূগোল ব‌ইতে পড়েছিল সে। মনে পড়েছে। কালপুরুষ। কালো আকাশের গায়ে ফুটফুটে তারা পুঞ্জ  দিয়ে বানানো পুরুষ? আচ্ছা, খুব ক্ষমতা আছে বুঝি কালপুরুষের? সে তো পুতুলের মত। যুগ যুগ ধরে আকাশের গায়েই র‌ইল পড়ে। কোমরে বেল্ট, হাতে তীর ধনুক, পায়ের কাছে কুকুর। কী জোর আছে তার! তাকে জ্যোতির্বিদ্যার দিক্‌পালেরা কাল-নারীও তো নাম দিতে পারত। সব‌ই তো কল্পনার খেলা। আসলে পুরুষতান্ত্রিকতার ভোজবাজি সব। ভাবে সে।

কি সব ছাইপাঁশ ভাবছিল কাল রাতে। অঘোরে ঘুমোচ্ছিল পুষ্পল। পলাশ তার নিজের ঘরে পড়াশোনা, ল্যাপটপ, ফেসবুক আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে হোয়াট স্যাপে। আশপাশে কেউ নেই অপালার, মনে হচ্ছিল। কাকেই বা বোঝানো যায় মধ্যবয়সের এই জীবনযন্ত্রণা। মনের কথা বলবে কার সঙ্গে? পড়ন্ত জীবনের কচকচি আর স‌ইতে পারে না সে।

অবশেষে এক ঘর অবসাদ গ্রাস করে বসে তাকে । তারপর যা হয়। সাইকিয়াট্রিক কাউন্সেলিং, অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট। ঘুমের ওষুধ আর এখন এই যোগাভ্যাস। কোনোদিকে তাকানোর অবকাশ নেই অপালার।

এখন অপালার জীবন বয়ে চলে নিজের মত। নদীর মত, নিজের খাতে। কখনো তরতর করে আপনি আপনি। কখনো থমকে গিয়ে। জীবনের এই বয়ে চলার দিনলিপি সত্যি‌ই আজব লাগেনা আর। কখনো মেঘ, কখনো রোদ্দুর নিয়েই পেরুতে হবে মেনোপজের মায়ামাখা সরণী। সাইকিয়াট্রি তে কাজ হয়েছে।এখন সে আলতো করে ধরে থাকে সম্পর্কের হাতগুলো। জোরে ধরতে ভয় হয় যদি হারাতে হয়। পঞ্চাশ পেরিয়েই এইসব বিচিত্র অনুভূতিগুলো খেয়ে ফেলেছিল তাকে।

আবার সে ভাবে “আচ্ছা কেন এমন হয়েছিল? টানা আর পোড়েনে জীবনসুতোকে ধরে থাকি আমি। কবে শেষ হবে আমার এ তাঁতকলে কাপড় বোনা? ক্লান্ত, ক্লিষ্ট জীবন তবুও বয়ে নিয়ে চলতেই থাকি। আচ্ছা পুরুষেই কি তবে প্রবলেম আমার?’

এতদিনে বুঝেছে সে। পুরুষদের বাদ দিলে জীবন অন্যরকম। আর সেসব নিয়ে টেনশন থাকলেই সুতো টানটান। নয়ত আলগা হয়ে ঝুলে পড়লেই বিপদ, ডিপ্রেশন। টেনশন আর ডিপ্রেশনের কেমিস্ট্রিটা সে বুঝেছিল স্কুলে ফিজিক্স প্র্যাকটিকাল করতে গিয়ে। এখন বুঝেছে জীবনসুতোকে ছেড়ে দিলেই সে তাকে ছেড়ে দেবে। ঘূণপোকার মত কুরেকুরে জীবন খেতে থাকার আগেই অণু কে পেয়েছিল অপালা।

আর ওসব পুরুষ টুরুশ প্রসঙ্গ ফালতু।

অণু এসে যাবে এখুনি। টুথব্রাশ হাতে তুলে নেয় অপালা। ড্রেস পরে নিতে হবে। টিশার্ট আর পায়জামা।

এখন  শুধু ভালো লাগে অণুর আলতো স্পর্শ। অণুর সান্নিধ্য। নাহ্‌! এবার থেকে অণু কে দুপুরে আসতে বলেছে সে। নিস্তব্ধ দুপুরে সে সম্পূর্ণ একা থাকে তার বাড়িতে। আরো বেশি করে উপভোগ্য হবে অণুর সান্নিধ্য। গল্পগাছা, চা খাওয়া এইসব আর কি।

এই ভেবেই হঠাত একদিন মনে হল, তবে কি অপালা পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে উঠছে? না কি তার কেবলি ভালো লাগতে শুরু করেছে মেয়েদের সঙ্গ।

সেদিন দুপুরে এসে অণুও জানায় তার স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের কথা। ইদানীং রোজরোজ মেয়েটাও জানাত তার সংসারের খুঁটিনাটি ঘাত প্রতিঘাতের কথা।

“আর পারছি না বৌদি। কাজ নিয়ে থাকি তাই। একটা ইস্যু থাকলেও কথা ছিল… এমনি বলে অণু।”

বোঝা যায়, অণুও খুব একা। তবে কি অপালা আর অণু দুজনেই এক‌ই রোগের স্বীকার?

অপালার কানের লতিতে নরম আঙুল নিয়ে যায় অণু। অপালা চোখ বন্ধ করে রিল্যাক্সড হতেই থাকে, হতেই থাকে। হঠাৎ চোখদুটো বুজেই বলে সে, আরেকটু করে বাড়িয়ে দাও অণু,  রিল্যাক্সেশনের টাইমটা।

টানটান ভাঁজ করা রুমালের ওপর একটু ওডিকোলন ঢেলে নেয় অণু। অণুর স্পর্শে অপালার মনে পড়ে জ্বর হলে মা দিত এমন করে, তুলোর মধ্যে ওডিকোলন নিয়ে। মেয়েরাই এমন করে সস্নেহে মাথায় হাত রাখতে পারে দরকারে।

সে বলে ওঠে, বৌদি আজ চুল বেঁধে দিয়ে যাই? বলে পরম আদরে অপালার অযত্নের, রুক্ষ চুলগুলোকে বাধ্য করে বিনুনী বেঁধে দেয় অণু। ঠিক এমন করেই কিশোরীবেলায় অপালার মা তাঁর মেয়ের অবাধ্য চুলে তেল লাগিয়ে বেঁধে দিতেন। কি আরাম লাগত অপালার!

চুল বাঁধা শেষে সে একসময় আদরে জড়িয়ে ধরে অণুকে। চলো আমরা এক সঙ্গে বাঁচি। নতুন করে। ভালো লাগবে না তোমার?  থাকবে তুমি আমার সঙ্গে অণু?

এই নাও টাকা দিচ্ছি। মোড়ের মাথার দোকান থেকে গরম বেগুণী আর আলুর চপ নিয়ে আসবে অণু? আমি চা বসাচ্ছি এখুনি। জমিয়ে মুড়ি তেলেভাজা খাব আজ দুজনে। অনেকদিন খাইনি।

ত্রস্তপায়ে তেলেভাজা কিনতে চলে যায় অণু। আর হাসতে হাসতে বলে, যোগ ব্যায়াম করে উঠে তেলেভাজা খেলে আর দেখতে হবে না বৌদি! ডিপ ফ্রায়েড। ভেরি রিচ ইন ক্যালরি। কী বললাম বোঝা গেল বৌদি?

হাসিতে ফেটে পড়ে অপালা। আহা! কত কনসার্ন মেয়েটা । বাড়ির লোকেরা এখুনি বলবে, তুমি ক্লায়েন্ট তাই সে কেয়ারিং।

তবে একটু গল্পগাছা, আধটু ঠাট্টা, এইসব ছোটো ছোটো ভালোলাগা, টুকরো টুকরো হাসি গুলো নিয়েই তো সে বাঁচতে চেয়েছিল এদ্দিন সে। ঠিক এমনি করেই। পুরুষ কি আর সব দিতে পারে?

কেমিস্ট্রিতে মাষ্টার্স, পূর্ণ সময়ের লেখক ।  উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, রম্যরচনা, প্রবন্ধ, ফিচার সবকিছুই লেখেন। প্রথম ছোটগল্প প্রকাশিত দেশ পত্রিকায়। তারপর এবেলা, আনন্দমেলা, সাপ্তাহিক বর্তমান, ফেমিনা বাংলা, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, যুগশঙ্খ, শিলাদিত্য, কিশোরভারতী, নবকল্লোল, শুকতারা ইত্যাদি তে। নামীদামী বাণিজ্যিক পত্রিকার পাশাপাশি একাধিক ছোট গল্প প্রকাশিত বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে। সানন্দা পুজোয় প্রকাশিত উপন্যাস “কলাবতী কথা’, আনন্দ পাবলিশার্স), ত্রিধারা (ধানসিড়ি), চরৈবেতি, ভ্রমণ সংকলন ( সৃষ্টিসুখ)  । বছরে দুবার প্রকাশিত ই-পত্রিকা প্যাপিরাসের সম্পাদক । সখ – ব‌ই, সঙ্গীতচর্চা, বেড়ানো, এবং রান্না। হোল ব্লগার,  হোমমেকার ইন্দিরার অবসর যাপনের আরো কয়েকটি ঠেক । 

Leave A Reply