শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

আড়াল

 

 

 

শর্মিষ্ঠা গোস্বামী নিধারিয়া

“You gave me hyacinths first a year ago;

“They called me the hyacinth girl.”

মেলবক্স খুলেই চমক। বুকটা ধক করে উঠল তৃণার। পিঙ্ক বাবলস্ থেকে একটা মেল এসেছে। ওরা বায়োডেটার একটা হার্ডকপি নিয়ে ওদের অফিসে যোগাযোগ করতে বলেছে। টরন্টোর বে স্ট্রিট আর কিং স্ট্রিটের ইন্টারসেকশনের কাছেই অফিস ওদের।

যাক, এতদিনে দীপ্রকে বলার মতো কিছু একটা খবর আছে।  না হয় শুধু দেখাই করতে বলেছে, তবু জবাব তো দিয়েছে কিছু একটা। রোজ এত এত অ্যাপ্লিকেশন পাঠায়, কোনও জবাবই তো আসে না।

চাকরি করার জন্য কোনও চাপ দেয়নি দীপ্র। শুধু বলে, বাড়িতে বসে থাকলে তোমারই বোর লাগবে তৃণা। কানাডায় সুযোগের কোনও অভাব নেই. ঠিক করে খোঁজো, কিছু একটা পেয়ে যাবে।

গাদা গাদা চাকরির ওয়েবসাইটে নাম লিখিয়েছে তৃণা। নানারকম  বায়োডেটা বানিয়েছে, দীপ্রর পরামর্শে। চাকরি অনুযায়ী, মূল তথ্যগুলো ঠিক রেখে কায়দা করে বাকিটা একটু আধটু পাল্টে দিয়ে। কিন্তু নাহ্। দীপ্র বলেছে, প্রতিদিন অন্তত ১৫টা জায়গায় অ্যাপ্লিকেশন পাঠাতে হবে। এটা টার্গেট। সবকটা জবসাইটে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে রাখো। আর বেশ কটা কাভার লেটার।

দীপ্রর বাবা-মা বলেই দিয়েছিলেন বাড়ি বাড়ি মেয়ে দেখে বেড়ানোয় ওঁরা বিশ্বাস করেন না। তাই প্রাথমিক বাছাই করার দায়িত্ব ছেলেকেই দিয়েছিলেন। ইন্টারনেটে সেই প্রাথমিক পর্বের পর তৃণার বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিয়ে এসেছিলেন ওঁরা। মিনিট কয়েকের আড়ষ্টতার পরেই মেয়ে দেখা পর্ব আড্ডায় বদলে গিয়েছিল। প্রথমদিন ওঁরা যখন ফিরছিলেন, মনেই হচ্ছিল না যে প্রথম আলাপ। তখন অবশ্য দীপ্র আসেনি। টরন্টো থেকে সে এল মাস দুয়েক পরে। ততদিনে বিয়ের সব আয়োজন শেষ। বিয়ে করে দু সপ্তাহ তৃণার সঙ্গে কাটিয়ে গেল দীপ্র। তার মাস ছয়েক পরে ক্রেসেন্ট মুন ড্রাইভের তিনশো পাঁচ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টের দু-কামরায় সংসার করতে এল তৃণা।

সংসার সাজানো, এ দেশের বন্ধুদের নেমন্তন্ন করে খাওয়ানো, খেতে যাওয়া, আড্ডা এ সবের উত্তেজনা একটু ঝিমিয়ে পড়তেই তৃণা কাজ খুঁজতে শুরু করেছে। কলকাতায় স্কুলে পড়াত। এখানে আপাতত শিক্ষকতার কাজ না হলেও অন্য কোনও চাকরিতে ঢুকে পড়াই পরিকল্পনা তৃণার।

দীপ্র এ সব নিয়ে একটু উদাসীন। ওর কাজের জগতটা একদম আলাদা। সে সফ্টওয়্যার ডেভেলপার। কম্পিউটারের জটিল কোড নিয়ে তার কারবার। অনেক সময় বাড়ি থেকেই সারাদিন সে কাজ করে। তাতে যে তৃণার খুব একটা সঙ্গলাভ হয়, তা নয়। সেই সময় দীপ্র দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে কাজ করে। কোনও দরকার হলে সে নিজেই বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। তৃণাকে জোরে কথা বলতে বা আওয়াজ করতে বারণ করে দেয়। সেই ঘরে ঢোকার অনুমতি তার নেই। এ নিয়ে তাকে রাগ বা অভিমান করতে বারণ করেছে দীপ্র। বলেছে, তার কাজটি খুব জটিল ও গোপনীয়। কোনও ভাবে তার অফিস যদি জানতে পারে, সে যেখানে বসে কাজ করে সেখানে অন্য লোকের আনাগোনা হয়, তার চাকরি যাবে। যে সব দিন দীপ্র বাড়ি থেকে কাজ করে, তৃণা বাইরে বেরিয়ে যায়। হয় কাছের লাইব্রেরি নয়তো সুপার মার্কেট ঘুরে, স্টারবাকসে কফি নিয়ে বসে সময় কাটিয়ে বিকেলের দিকে ফেরে।

যখন ফেরে, সাধারণত দেখে দীপ্র বেশ রিলাক্সড। মুড অন্যরকম। তার কাজের ভার যে ঘাড় থেকে নেমেছে তা বেশ বোঝা যায়। এটা ভালও লাগে তৃণার। সে কী কী কিনল, কী ফ্লেভারের কফি বা ডোনাট খেল, কারও সঙ্গে দেখা হল কি না, কোথায় কোথায় সেল দিচ্ছে এই সব গল্প করে। এই সব চলতে চলতেই একদিন দীপ্র তাকে বলল, সারাদিন বাড়িতে বোর হয়ে যাচ্ছ তৃণা, মোটাও হচ্ছ।

–কিছু একটা খোঁজ তৃণা। টাকার জন্য নয়, ভাল লাগার জন্য। বাইরে বেরোও, শহরটাকে দ্যাখো তৃণা।সারা পৃথিবীর কত রকম মানুষের বাস এখানে। যতদিন এই শহরে আছ, নিংড়ে নাও এখানকার জীবনীশক্তি।

খুব উদ্দীপিত লাগে দীপ্রর কথাগুলো শুনতে।  সত্যি তো, দীপ্র যদি অন্য শহরে বদলি হয়ে যায়, বা দেশে ফিরতে চায়  তা হলে এই অভিজ্ঞতার স্বাদ তো আর পাবে না!

তাই বাইরে ঘোরাঘুরি কমিয়ে একটু মন দিয়েই কাজ খুঁজছে তৃণা। মেলের পর মেল পাঠাচ্ছে। সঙ্গে বায়োডেটা আর কাভার লেটার। প্রথম দিন সাতেক খুব উত্তেজিত ছিল সে। কোনও অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেই বেশ সতর্ক হয়ে যতটা সম্ভব পশ্চিমী অ্যাকসেন্ট মিশিয়ে কথা শুরু করছিল। কিন্তু কোনওটাই তার  অ্যাপ্লিকেশন সংক্রান্ত ফোন নয়। তার পর থেকে একটু উত্তেজনা কমতে শুরু করেছে তার। প্রথম কয়েকদিন নিজে থেকেই দীপ্রকে বলত, কোথায় কোথায় অ্যাপ্লাই করেছে। কয়েকদিন পর থেকে বুঝল, তার কথা খুব একটা মন দিয়ে শুনছে না তার বর। মনে একটু কষ্ট পেলেও নিজের কাজ মন দিয়ে করে গিয়েছে।

দিন সাতেক আগে পিঙ্ক বাবলস্ নামে একটি সংস্থায় ক্রিয়েটিভ রাইটারের কাজ রয়েছে দেখে একটা জবসাইট থেকেই অ্যাপ্লাই করে দিয়েছিল। দুএকদিনের মধ্যে পিঙ্ক বাবলস্ -এর কথা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল অন্যগুলোর মতোই।

ঢিপঢিপ করা বুক নিয়ে ইনবক্সে ক্লিক করতেই তিন-চার লাইনের মেলটা খুলে গেল। বায়োডেটার হার্ড কপি নিয়ে এসো, আগামী বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর বেলা বারোটা থেকে সাড়ে বারোটার মধ্যে। এসে লরার সঙ্গে দেখা করবে। মেলটা পাওয়ার পরে দীপ্রকে বলবে বলে ভাবলেও পরে ঠিক করল এখন নয়, আগে ইন্টারভিউটা হোক। শেষে যদি না হয়?

তৃণা দেখল মাঝে আর মাত্র দুদিন। ইন্টারভিউই তো এটা। একটু ঠিকঠাক পোশাক লাগবে তা হলে।  বেশি ফর্মাল না পরে একটু বিজনেস ক্যাজুয়াল পরেই যাবে ঠিক করে একটা কালো স্ট্রেট কাটের প্য়ান্ট আর কালো আর গ্রে চেক ব্লেজার বার করে রেডি করে রাখল, সঙ্গে সাদা শার্ট। আর কালো জুতো।

ক্রিয়েটিভ রাইটিং তো তৃণার নিজের বিষয়। আর ইংরেজি তার প্রিয় ভাষা। বাংলার চেয়ে অনেক বেশি দখল তার ইংরেজিতে। আধুনিক উপন্যাস, কবিতা, নাটক, সব কিছু নিয়েই তার পরিষ্কার ও যথেষ্ট ধারণা আছে। এই দুদিনে একটু পড়াশোনাও করে নেবে বলে ঠিক করে ফেলল তৃণা।

এই দুদিনে মনটা ব্যস্তই রইল তৃণার। অনেকবার ভেবেছে দীপ্রকে বলবে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়েছে। কী বলবে, বলার পরিস্থিতি আসেনি এখনও। তা ছাড়া কাজটা হলেই না হয় সারপ্রাইজ দেবে সে। তাতে দীপ্র আরও খুশি হবে। উত্তেজনা রাখতে না পেরে বুধবার সকালে দীপ্র অফিস  বেরোনোর আগে বলেই ফেলল একটুখানি।

— কাল একটু বিশেষ কাজে আমার বেরোনোর আছে।

— বিশেষ কাজে? গুড গুড। কার সঙ্গে দেখা করতে যাবে?

তৃণার জবাবের অপেক্ষা না করেই হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেল দীপ্র। জবাব দিতে না হওয়ায় একদিকে খুশিই হল তৃণা। শুধু তার মনে হল, দীপ্র তাকে যথেষ্ট সিরিয়াসলি নেয় না।

রিহার্সালের মতো করে সে দিন সকালে ব্রেকফাস্টের পর ইন্টারভিউয়ের পোশাকটা পরে জুতো পায়ে গলিয়ে ওয়াশরুমের সামনের লম্বা আয়নায় নিজেকে দেখতে দেখতে তৃণার মনে হল, বেশ স্মার্ট লাগছে। গলার সোনার চেনটা খুলে ছোট্ট লকেট লাগানো রুপোর সরু চেন পরে নিল। বেশ একটা ক্য়াজুয়াল কর্পোরেট লুক হয়েছে। কলকাতায় ইংরেজি কাগজে বেরোনো তার নিজের দুএকটা চিঠি আর কয়েকটা লেখালেখির  কপিও ফাইলে গুছিয়ে রেখে পার্লারে গেল। নখের পরিচর্যা করতে। হাতের এবং নখের পারিপাট্য খুব জরুরি এ দেশে।

পিঙ্ক বাবলস্-এর ঠিকানায় কী ভাবে পৌঁছতে হবে, তা নিয়ে গুগলের সাহায্য নেওয়ার পরেও মনটা খুঁতখুঁত করতে লাগল তৃণার। ওদের অফিসে ফোন করে সব কিছু ঠিক করে জেনে নিয়ে রাতের খাবার তৈরি করতে রান্নাঘরে ঢুকল তৃণা।

–কাল কোথায় যাবে বলছিলে? আমি ড্রপ করে দিতে পারতাম, কিন্তু কাল আমি ওয়ার্ক ফ্রম হোম করব তৃণা।

–না, না ড্রপ করতে হবে না আমি চলে যাব।

— তোমার ইন্টারভিউ আছে, তাই তো?

–না না, আমি কিচ্ছু বলব না, প্লিজ আমাকে এখন জিজ্ঞেস কোরো না।

–আচ্ছা বাবা, তুমি যখন বলার বোলো। নো চাপ ফ্রম মাই সাইড। গো এক্সপ্লোর দ্য সিটি।

রাতে দীপ্রর হাতের বেষ্টনী আর অন্য দিনের মতো ভাল লাগছিল না তৃণার। তার মন জুড়ে পিঙ্ক বাবলস্। তৃণা অ্যাজ ওয়ান অব দ্য ক্রিয়েটিভ রাইটার্স অব আ কানাডা বেসড্ কোম্পানি।

ছেঁড়াছেঁড়া ঘুম ভাঙতেই মনে হল দিনটা একদম অন্যরকম। দীপ্রই চা বানাল, তারও মুড খুব ভাল দেখে মনে হল তৃণার। সকালে মা-বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলল। রোজই বলে, তবু আজকের দিনটা আলাদা। দীপ্রর কাজের ঘর থেকে তার নিজের টুকিটাকি বার করে নিয়ে রেডি হচ্ছিল তৃণা।

–তৃণা, তুমি কটা নাগাদ ফিরবে? হাঁক পারল দীপ্র। সে কাজে বসবে এ বার। আজ নিজেই কফি বানিয়ে নিয়েছে।

–দুটোর মধ্যে ফিরে আসব আমি।

–ও কে, চাইলে আর একটু ঘুরে এসো, ভাল লাগবে।

–আচ্ছা, দেখি, আমি মেসেজ পাঠাব।

–বাই সুইটহার্ট, এনজয় ইয়োর ডে।

ফুরফুরে মনে বেরোলো তৃণা। এই প্রথম এ দেশে কোনও কাজের ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে। উত্তেজনা আর আত্মবিশ্বাস তিরতির করে বইছে রক্তের স্রোতে। সঙ্গে একটু টেনশন।

মিনিট পঁয়তাল্লিশের সাবওয়ে যাত্রার পর নেমে স্টেশন থেকে বেরিয়ে তার গন্তব্য খুঁজে পেল তৃণা। স্টেশন থেকে বেরিয়ে বে স্ট্রিটের উপর মিনিট দুয়েক হাঁটতে হবে। পাওয়াও গেল সহজেই। বারোটার একটু আগেই। ঠান্ডা হাওয়ায় তার হাত দুটো জমে যাচ্ছে। একটা পাঁচতলা বাড়ির দোতলায় অফিস পিঙ্ক বাবলস্-এর। সিঁড়ি দিয়ে উঠে রিসেপশন এরিয়া। সেখানে লরার নাম করতে তাকে রিসেপশনিস্ট একটু বসতে বলল। রিসেপশনের ঠিক পেছনে একটা বড় হলঘর। সেখানে সাত-আটটি মেয়ে বসে ডেস্কটপে কাজ করছে। বাঁদিকে কাচের একটি ঘরে সোনালি চুলের একটি রোগা মতো মেয়ে একা বসে আছে একটি কম্পিউটারের সামনে। এ ছাড়া ডান দিকে আর একটা বড় হলে আরও কয়েক জন। সবাই মেয়ে। এই অফিসে কোনও পুরুষ নেই? সবাই তাদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, চোখ সকলেরই সামনের কম্পিউটারে। কোনও আওয়াজ নেই, কথোপকথন নেই।

সোনালী চুলের মেয়েটি ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা রিসেপশনে এসে তৃণাকে ডেকে বলল, হাই ট্রিনা, আমিই লরা, এস আমার সঙ্গে।

–বোসো একটু কফি খাও, আজ খুব ঠান্ডা। ঠিকানা খুঁজে পেতে তোমার অসুবিধে হয়নি তো?

তৃণা মুগ্ধ। কী সুন্দর ব্যবহার!

–থ্যাঙ্ক ইউ লরা, না কোনও অসুবিধে হয়নি।

–আচ্ছা তোমার বায়োডেটাটা আমাকে দাও।

লরা বায়োডেটাতে হাল্কা চোখ বুলিয়ে বলল, বাহ্  ইমপ্রেসিভ। আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বলি, আমরা কিন্তু অ্যাডাল্ট কনটেন্ট নিয়ে কাজ করি। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। একটু হোঁচট খেল তৃণা, মনে মনে। সেটা কি বুঝে গেল লরা? প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কী কনটেন্ট? যাকগে, সে নিজেই তো প্রাপ্তবয়স্ক। এ আর না পারার কী আছে? মুখে নির্ভুল আত্মবিশ্বাসী হাসি ফুটিয়ে তৃণা জানিয়ে দিল, সে যে কোনও রকম কনটেন্ট লিখতে পারবে।

–দ্যাটস্ গ্রেট! আমি জানি তুমি পারবে। আমরা তোমাকে তিনদিনের ট্রেনিং দেব। সেই জন্য তুমি টাকা পাবে। ট্রেনিং শেষ হলে একটা ছোট্ট লিখিত পরীক্ষা দিয়ে তুমি কাজে জয়েন করতে পারবে। চাইলে কাল থেকেই ট্রেনিংয়ে আসতে পার তুমি। ঠিক সকাল নটায়। রিমেমবার, দিস ইজ আ পেইড ট্রেনিং। সো বি অন টাইম।

–থ্যাঙ্ক ইউ লরা। আই অ্যাম সো এক্সাইটেড।

–কাল এসে তুমি এখানে ডিডিকে চাইবে। ওর নাম ডায়ান্ড্রা। উই কল হার ডিডি। ও তোমাকে ট্রেনিং দেবে। আজ ডিডি-র অন্য শিফটে ডিউটি। তাই তোমাকে আলাপ করাতে পারলাম না। বাই দ্য ওয়ে, তুমি কী শিফটে কাজ করতে চাও। সকাল, না সন্ধ্যা?

সন্ধ্য়াতেও কাজ হয় এখানে তা হলে, তবে তৃণার পক্ষে সকালই একমাত্র সময়। তাই সকাল শিফটে নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে পিঙ্ক বাবলস্ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এল তৃণা।

মাথার উপরে অক্টোবরের নীল ঝকঝকে আকাশ, সব গাছেরই পাতা প্রায় ঝরে গিয়েছে। বেশির ভাগ অফিসেই লাঞ্চ আওয়ার। চকচকে নারী-পুরুষ কেউ একা, কেউ কয়েক জন মিলে খেতে বেরিয়েছে। নিজেকে এদেরই এক জন ভেবে খুব ভাল লাগছিল তৃণার। কফি নিয়ে ইটন সেন্টার শপিং মলে ঢুকে একটা হাল্কা গোলাপি রঙের স্কার্ফ কিনে ফেরার ট্রেন ধরল সে।

তিন দিনের পেইড ট্রেনিং শুনে দীপ্রর প্রতিক্রিয়া–বাহ্, বেশ ভাল। চাকরি হোক না হোক, ট্রেনিংয়ের টাকা তুমি পেয়েই যাবে।

–কেন, তোমার কি মনে হয় আমি ট্রেনিংয়ের পর বাদ পড়ব?

–না, না তা বলিনি তৃণা। তবে একটু অনিশ্চয়তা তো আছে। এত চিন্তার কী আছে? তুমি কি টাকার জন্য চাকরি করছ? আমি চাই তুমি একটু বাড়ি থেকে বেরোও, এখানকার জগৎটা দ্যাখো।

–দীপ্র, প্লিজ এটা বোলো না। আমিও নিজের একটা কেরিয়ার তৈরি করতে চাই, হয়তো তোমার মতো পারব না। তা-ও।

–কুল তৃণা কুল, আমিও সেটাই বলছি।

ডায়ান্ড্রা, মানে ডিডি খুব ঝলমলে একটা বছর তেইশের মেয়ে। তার চেহারায় কোথাও একটা দক্ষিণ এশীয় ছাপ আছে। তবে ডিডি জানাল, সে ক্যারিবিয়ান আর স্প্যানিশ মেশানো। ইউনিভার্সিটিতে দু বছর পড়ার পর আর টাকা জোগাড় করতে পারেনি। আপাতত তার পড়া বন্ধ। সে শিফট্ বদল করে দু জায়গায় চাকরি করে। তার কাজের অন্য ক্ষেত্রটা একটা পাব কাম রেস্তোরাঁ।

ফের মুগ্ধ তৃণা। ট্রেনিং শুরুর আগেই মেয়েটা নিজের সম্পর্কে এত কথা তাকে বলে ফেলল! আর মুখে সবসময় হাসি।

পিঙ্ক বাবলস্-এর অফিসের পিছন দিকের একটা ছোট ঘরে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা। ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে এই বাচ্চা মেয়েটা তাকে কী ট্রেনিং দেবে, এটাই ভেবে পাচ্ছিল না তৃণা। হয়তো প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী কনটেন্ট লেখার কিছু কায়দা শেখাবে। যতই হোক, এ দেশের খোলা হাওয়ায় লেখার বিষয় নিশ্চয়ই একটু বেশিই খোলামেলা। কালচার শক্ কাটিয়ে ওঠায় হয়তো তার আর কানাডার মধ্যে সেতু রচনা করার দায়িত্ব ডিডির।

ডিডির ডেস্কে কম্পিউটার খোলাই ছিল। কিন্তু এ সব কী! সারা স্ক্রিন জুড়ে নানা রকমের নগ্ন মহিলার ফোটো! কেন? তৃণা শকড্। এরা এত বিকৃতমনস্ক কেন? সকালবেলায় কাজ শুরুর আগে এ সব নিয়ে সময় কাটাচ্ছে কেন এই মেয়েটা? তৃণার দৃষ্টিকেই অনুসরণ করছিল ডিডি। চোখাচোখি হতেই সে বলল, তুমি কি শকড্ ট্রিনা? তুমি কখনও এই ধরনের কাজ করোনি মনে হয়।

কী কাজ করতে হবে তাকে? মনে মনে আঁতকে উঠল তৃণা।

–শোনো আমাদের কাজ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের, মানে ক্লায়েন্টদের অনলাইন চ্যাট ও ভিডিওর মাধ্যমে সেক্সুয়াল প্লেজার দেওয়া। না, তোমাকে কিছু তেমন করতে হবে না, খালি তাদের সঙ্গে চ্যাট করে যেতে হবে। আর এই যে মেয়েগুলোর ফোটো দেখছ, এদের নানারকম ভিডিও রেকর্ড করা আছে। তাদের ভিডিও তুমি চালাবে, আর যে ক্লায়েন্ট সার্ভিস নিচ্ছে, তার সঙ্গে লিখে চ্যাট করবে। ভিডিওটা এমন ভাবে তৈরি যে  লোকটা ভাববে সেটা লাইভ ভিডিও আর ভাববে ওই মেয়েটাই তার সঙ্গে কথা বলছে লিখে লিখে। তোমার কোনও চাপ নেই, তুমি তো কোনও ভাবেই সামনে আসছ না। তুমি খালি আমাদের এই মডেলদের ভিডিও অনুসরণ করে ক্লায়েন্টের সঙ্গে লিখে চ্যাট চালিয়ে যাবে।

হতভম্ব ভাবটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তৃণা তখনও। গলা শুকিয়ে কাঠ তার। মাথায় কিছুই ঢুকছে না তার। কিন্তু ডিডি বলে চলেছে।

–ভিডিওগুলো কম্পিউটারে কী ভাবে চালাতে হবে, কী ধরনের কথা লিখতে হবে, সব তোমাকে শিখিয়ে দেব আমি। ডোন্ট ওয়ারি। শোনো, তোমাকে আগে আমাদের এই ভিডিওগুলো দেখতে হবে, মডেলদের চিনতে হবে। এদের সবাই একরকম নয়, কেউ উঁচু দরের, কেউ নতুন। আর ক্লায়েন্টরাও নানারকম মডেল চায়। কেউ চায় ব্লন্ড, কেউ চায় এশিয়ান, কেউ একেবারে বাচ্চা মেয়ে চায়, অনেকে কিন্তু একটু বেশি বয়সের মডেলও চায়। ট্রিনা তুমি ভাবতে পারবে না ক্লায়েন্টদের কত রকমের দাবি!

ডিডি জানাল, তৃণাকে প্রথমে একটি মডেলকে বাছতে হবে, যার ভিডিও সে চালাবে। তার একটা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের প্রলুব্ধ করতে হবে। যেই সেই ক্লায়েন্ট লগ অন করে অনলাইন চ্যাটরুমে ঢুকবে, তার কাজ ভিডিও চালানো ও মাঝে মাঝে লেখা। ক্লায়েন্ট কী চায় বুঝে, সেই রকম ভিডিওই তাকে চালাতে হবে। যে ক্লায়েন্ট চায় মডেল একটি সেক্স টয় ব্যবহার করবে, তাকে তেমন ভিডিও দেখাতে হবে। তৃণাকে বোঝাতে যে সব ডিডি চালাতে শুরু করল, তাতে বমি পেতে লাগল তৃণার। পেট গুলিয়ে উঠতে লাগল। দুতিন গ্লাস জল খেয়ে, নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করতে লাগল। ডিডি নিজেও কি এত খোলামেলা যৌনতা সহ্য করতে পারছে? তা হলে ট্রেনিং-এর ভিডিও চালানোর সময় বার বার সে কেন স্ক্রিনের উপর বিশেষ জায়গায় আঠা লাগানো কাগজ সেঁটে ঢেকে দিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে অসহায় ভাবে তৃণাকে বলছে, কাম অন ট্রিনা, ডোন্ট বি আপসেট, লেট দেম ডু দেয়ার স্টাফ।

তৃণার মাথায় কিছুই ঢুকছিল না। সে এখানে কী ভেবে এসেছিল, আর তাকে কী করতে হবে! কী করে করবে সে এ সব! এত বোকা সে হল কী করে? কিন্তু চাকরির বিজ্ঞাপনে তো ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর কথাই লেখা ছিল। এই তার নমুনা! মডেলদের বর্ণনা করার ভাষা তাকে লিখতে হবে বলে ডিডি জানাচ্ছে, সে সব ভাষা আর বিশেষণ ইংরেজিতে আছে বলেই জানত না তৃণা!

এর মধ্যেই ডিডি জানাল, তাদের সহকর্মীরা সকলেই মেয়ে। এটা উইমেন-ওনলি কোম্পানি, যদিও মালিক হল লরার প্রেমিক জো। তাই অস্বস্তির কোনও অবকাশ নেই কারও। সেক্স-চ্যাট করতে আর পর্ন ভিডিও চালাতে প্রায় সকলেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে, কারও কিছু মনে হয় না আর। কাজটাকে আর পাঁচটা কাজের মতোই নেয় এই মেয়েরা। আর হ্যাঁ, এখানে সকলেই শিক্ষিত মেয়ে। তা ছাড়া, ডিডিরা মনে করে এওতো এক ধরনের ক্রিয়েটিভ কাজ। মানুষকে সঙ্গ দেওয়া হচ্ছে, ভিডিও এবং লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে তাকে চূড়ান্ত তৃপ্তি দেওয়া হচ্ছে। সো ইউ নিড আ বিট অফ ইমাজিনেশন অ্যান্ড কমান্ড ওভার দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ।

তার তিন ঘণ্টার ট্রেনিং শেষ প্রথম দিনের মতো।

মুখে একটা শুকনো হাসি ফুটিয়ে বেলা বারোটা নাগাদ পিঙ্ক বাবলস্ থেকে বেরোলো তৃণা। বাড়ি গিয়ে কী বলবে সে দীপ্রকে? কিছু কি আদৌ বলতে পারবে? কাঁদবে ? বলবে, এই কাজ তার দ্বারা হবে না, তাই প্রথম দিনেই ছেড়ে দিয়েছে? দীপ্রকে কি এ সব বলা যাবে? কী ভাববে তার বর, যে তৃণার আইকিউ বলে কিছুই নেই। সে ওই কোম্পানি সম্পর্কে ন্যূনতম রিসার্চ না করেই অ্যাপ্লাই করে দিয়েছিল? তার সম্পর্কে দীপ্রর ধারণা বিরাট চোট খাবে এবং তা দুজনের সম্পর্কের উপরে পড়তে বাধ্য।

ফেরার পথে অনেক ভেবে তৃণা ঠিক করল, এটা সে নিজেই সামলাবে। যে ভাবে হোক ট্রেনিং -এর তিনটে দিন সে কাটাবে। তার পর কিছু একটা কারণ দেখিয়ে ছেড়ে দেবে। হোক না-জেনে, তবু সে যে পর্ন ভিডিও কোম্পানিতে অ্যাপ্লাই করেছে, সে যে এতটা বোকা, এটা সে দীপ্রর সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে না। আবার প্রথম দিনেই ছেড়ে দিলে দীপ্র ভাববে তৃণা যথেষ্ট সিরিয়াস না।

বাড়ি ফিরে হঠাৎ খুব ঘুম পেল তৃণার, সব উত্তেজনা, ভাল লাগা উধাও। সারা দুপুর ঘুমিয়ে উঠল যখন তখন দীপ্রর ফেরার সময় হয়ে গিয়েছে। যে ভাবে হোক এ সব তাকে বুঝতে দেবে না বলে ঠিক করে ফেলেছে তৃণা।

— সো, হাউ ওয়াজ ইয়োর ডে তৃণা? আই মিন দ্য ট্রেনিং?

— ইট ওয়াজ ওকে দীপ্র। প্রথম দিন তো, বুঝতে কিছুটা সময় লাগবে।

— না, মানে কাজটা কেমন, কী যেন নামটা বলেছিলে কোম্পানিটার?

হ্যাঁ, আসছি দাঁড়াও, বলে রান্নাঘরে পালিয়ে বাঁচল তৃণা। তার পর এ কথা সে কথা এনে কোম্পানির নামের প্রসঙ্গটা গুলিয়ে দিল। ঘুম পেয়েছে, বলে তাড়াতাড়ি শুয়েও পড়ল সে।

ঘুম ভাঙতে মনটা বিষিয়ে গেল তৃণার, রাগে, দুঃখে, হতাশায় ভরে উঠল। স্নান, ব্রেকফাস্ট সেরে জোর করেই বেরোলো ডাউনটাউন যাবে বলে।

দ্বিতীয় দিন ডিডি শেখাল, ভিডিওটা কী ভাবে চালালে সেটাকে লাইভ বলে মনে হবে, এবং কোনও ক্লায়েন্ট বিশেষ কোনও ফোরপ্লে অথবা অ্যাক্টিভিটি করতে বললে সেটা কী ভাবে এড়ানো যাবে। কারণ সেই নির্দিষ্ট ভিডিওতে হয়তো সেই বিশেষ যৌন ভঙ্গিটি নেই। ক্লায়েন্ট লিখে অনুরোধ করছে, তোমার পায়ের পাতা নিয়ে একটু খেলা কর। কিংবা, বালিশটা জড়িয়ে শুয়ে পড়, অথচ সেই রকম কিছু আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিওতে নেই। কিন্তু ক্লায়েন্ট তো ভাবছে মডেল লাইভ। তা হলে, অন্য কথা বলে ক্লায়েন্টকে সেই জায়গা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। অন্য কিছু দিতে হবে, যা ওই ভিডিওটাতে আছে। সুতরাং ভিডিও রান করার আগে খুঁটিয়ে দেখে নিতে হবে তাতে কী কী উপাদান আছে!

প্র্যাকটিস করাচ্ছে ডিডি তৃণাকে দিয়ে। তৃণার হাত অবশ, তার হাত থেকে চ্যাটে লেখার মতো রগরগে, অশ্লীল, যৌনতায় মাখামাখি কোনও ইংরেজি শব্দই বেরোচ্ছে না।

–লুক ট্রিনা, দিস ইজ জাস্ট আ জব, জাস্ট লাইক এনি আদার জব। টেক ইট ইজি।

পারছে না তৃণা। সে ডিডিকে বলল, একদিন সময় দাও আমাকে। আমি একটু মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসব কাল।

–কাল তোমার ট্রেনিংয়ের শেষ দিন, মনে আছে তো? ট্রেনিংয়ের শেষে তোমার একটা লিখিত পরীক্ষা নেব আমরা। সেটা পাশ করলেই তুমি জয়েন করতে পারবে এখানে।

পিঙ্ক বাবলস্ থেকে বেরিয়ে আজ একটু হাল্কা লাগছে তৃণার। সে জানে কালই তার শেষ দিন এখানে। পরীক্ষায় পাশ করুক আর না করুক, সে আর ফিরছে না এখানে। শুধু ফোনে জানিয়ে দেবে, ব্যক্তিগত কারণে তার পক্ষে কাজটি করা সম্ভব নয়। তার সমস্যা দীপ্রকে কী বলবে তাই নিয়ে। দীপ্র যদি জানতে পারে তার কাজটি কী ছিল, সে প্রচণ্ড রেগে যাবে এই কারণে যে তৃণা এখানে দুদিন ট্রেনিং নিয়েছে। তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা হবে তার স্বামীর। সব মিলিয়ে কেমন জাঁতাকলে পড়েছে বলে নিজেকে মনে হল তার।

সকালে বেরোনোর সময় দীপ্র জানাল, আজও সে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করবে। তৃতীয় দিন ডিডি প্রথমেই বলল, শোনো ট্রিনা আজ তোমাকে পার্সোনাল চ্যাটরুম কী করে অপারেট করতে হয় তাই শেখাব। এটার মানে হল ক্লায়েন্ট ভিডিও দেখার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও দেখাতে চায়। তুমি তাকে দেখতে পাবে, কিন্তু তোমাকে ক্লায়েন্ট দেখতে পাবে না। সে মডেলের ভিডিওই দেখবে আর ভাববে ওটাই তুমি। এই ক্লায়েন্টরা উত্তেজিত হয়ে সব কিছুই করবে, অন স্ক্রিন। তুমি দেখতে না চাইলে চোখ বন্ধ করে থেকো। তবে চ্যাটে তোমাকে কিছু লিখতে হবে। খুব খারাপ লাগলে ইগনোর দ্য স্ক্রিন।

হাতেকলমে শেখাতে এ বার ডিডি পার্সোনাল চ্যাটরুমে লগ অন করল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ক্লায়েন্টের লাইন। ক্লায়েন্ট তার ওয়েবক্যাম চালিয়ে নিজেকে মনিটরের সামনে রেখে পোশাক খুলতে লাগল। আর কী কী করল, দেখার আগেই চোখ বন্ধ করে ফেলেছে তৃণা। আর ডিডি হেসে খুন!

–চলো তুমি নিজে পর পর সব কটা স্টেপ করো, দেখি তুমি পারছ কি না? চলো লগ অন করো, এখন তুমি হলে ব্লন্ড মডেল জেসিকা। জেসিকার খুব ডিমান্ড, দেখি তো কে আসতে চায়?

মডেল জেসিকা তার উর্ধ্বাঙ্গের পোশাক খুলে ফেলেছে, সম্ভাব্য ক্লায়েন্টকে ইশারায় উত্তেজিত করছে। চ্যাটরুমে কেউ এল, নামের দুই আদ্যক্ষর ডিসি। এ বার ডায়ান্ড্রা খুব হাসছে আর বলছে, জেসিকা অন হলেই এই লোকটা এসে যায় চ্যাটরুমে। সপ্তাহে অন্তত দুবার। অনেক ডলার খরচ করে এই ভাবে। সেই লোকটা তার ওয়েবক্যাম চালু করেছে। তৃণা এ বার আর চোখ বন্ধ করেনি।

লোকটার ঘরটা আধো অন্ধকার। বোধহয় রেডি হচ্ছে।

লোকটা এগিয়ে এসে তার মনিটরের সামনে বসল। চ্যাটে লিখছে, জেসিকা তোমার খোলা সোনালী চুল বুকের সামনে থেকে সরিয়ে দাও প্লিজ। ডিসি নামে ওই ক্লায়েন্টের মুখ দেখা যাচ্ছে না।

কিন্তু ঘরটা কেন চেনা চেনা লাগছে তৃণার? ভীষণ চেনা লাগছে। পেছনে একটা আয়না না? এই আয়নাটা তো তার খুব চেনা। আয়নার সামনে তৃণার  গোলাপি ঢাকনা দেওয়া কিয়োটো ফ্লাওয়ার পারফিউমটা না?

পাশ থেকে ডায়ান্ড্রা তৃণাকে বলল, ওকে বলো আলো জ্বালাতে। লেখো, তুমি ওর মুখ দেখতে চাও। লিখল তৃণা। জবাব এল, শিওর ডার্লিং, এখনই আলো জ্বালছি।

আলো জ্বলে উঠল তিনশো পাঁচ নম্বর নম্বর অ্যাপার্টমেন্টে ।

এত আলোতেও চোখ অন্ধকার হয়ে আসছে তৃণার।

দীপ্র তখন দ্রুত নিজের পোশাক খুলছে।

 

Shares

Leave A Reply