শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

এনডিএ-র বৈঠকে না যাওয়ার পর এবার রাজ্যসভায় বিরোধী আসনে বসছে শিবসেনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে শিবসেনা ও বিজেপির সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে পৌঁছাল। প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে সরে আসে শিবসেনা, তারপরে শনিবার যোগ দেয়নি এনডিএর বৈঠকেও। সংসদের অধিবেশন শুরুর মুখে শিবসেনা জানতে পেরেছে, সংসদে তাদের আসন বিরোধী বেঞ্চে করে দেওয়া হয়েছে।

শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেছেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে, সংসদে শিবসেনার দুই সাংসদের আসন বদল করে দেওয়া হয়েছে।” রাজ্যসভায় শিবসেনার মোট তিনজন সাংসদ আছেন, সঞ্জয় রাউত নিজেও রাজ্যসভার সাংসদ।

সোমবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তার আগে এনডিএর বৈঠকে তারা যে উপস্থিত থাকবে না, সে কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিল শিবসেনা।

রাউত বলেছিলেন, “আমরা জেনেছি যে ১৭ নভেম্বর বৈঠক আছে (এনডিএ সাংসদদের)। মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আমরা আগেই ঠিক করে ফেলি যে ওই বৈঠকে আমরা যোগ দেব না… আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন আমাদের মন্ত্রী।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার থেকে সোমবার পদত্যাগ করেন শিবসেনার একমাত্র সদস্য অরবিন্দ সাওয়ান্ত।

সঞ্জয় রাউত বলেন, “আগের এনডিএ-র সঙ্গে এখনকার এনডিএর অনেক পার্থক্য এখন এনডিএর আহ্বায়ক কে? এর অন্যতম স্থপতি আডবানীজি হয় ছেড়ে দিয়েছেন, না হয় নিষ্ক্রীয়।”

তা হলে শিবসেনা কি আনুষ্ঠানিক ভাবেই এবার এনডিএ ছাড়ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আপনারা এ কথা বলতেই পারেন। এ কথা বলায় কোনও সমস্যা নেই।”

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও বিজেপির জোট প্রায় তিন দশকের পুরনো। এই দুই জোটসঙ্গী ‘স্বাভাবিক শরিক’ বলে কিছুদিন আগেও দাবি করেছে বিজেপি।

মহারাষ্ট্রে নির্বাচনের পরে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় বিজেপি ও শিবসেনার মধ্যে। ২৮৮ আসনের বিধানসভায় বিজেপি পায় ১০৫টি ও শিবসেনা ৫৬টি আসন। কিন্তু শিবসেনা অর্ধেক মেয়াদ মুখ্যমন্ত্রিত্ব দাবি করে, সঙ্গে মন্ত্রিসভার অর্ধেক আসন। ৫০:৫০ সমঝোতার কথা শোনা যায় তাদের মুখে, যদিও বিজেপি জানিয়ে দেয়, কোনও দিনই এমন কোনও রফা তাদের মধ্যে হয়নি।

ফল বার হওয়ার পরে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার জন্য আবেদন করেনি কোনও দলই। এই অবস্থায় বৃহত্তম দল হিসাবে সরকার গড়ার জন্য বিজেপিকে আহ্বান করেন রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি। বিজেপি সরকার গড়তে রাজি না হওয়ায় একে একে শিবসেনা ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টিকে (এনসিপি) ডাকেন রাজ্যপাল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা সরকার গড়তে না পারায় মহারাষ্ট্রে জারি হয় রাষ্ট্রপতিশাসন।

Comments are closed.