বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২
TheWall
TheWall

শিবসেনায় বিদ্রোহ? মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী পদ পেলে ঠাকরে ছাড়া আর কার লাভ হত, প্রশ্ন দলের বিধায়কদেরই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও দলই সরকার গড়তে না পারায় মহারাষ্ট্রে এখন জারি হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। বিজেপির সঙ্গে ক্ষমতা অর্ধেক ভাগাভাগি করতে চেয়েঠছিল শিবসেনা। আড়াই বছরের জন্য তারা মুখ্যমন্ত্রী পদ দাবি করেছিল। কিন্তু ছোট শরিকের সেই দাবি না মেনে সরকার গড়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় বিজেপি। তারপরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গড়তে পারেনি শিবসেনাও। এই অবস্থায় এখন শিবসেনার সদ্য নির্বাচিত বিধায়করা প্রশ্ন তুলেছন উদ্ধব ঠাকরের অবস্থান নিয়েই।

২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় শিবসেনা দ্বিতীয় বৃহত্তম হল হলেও তারা পেয়েছে ৫৬টি আসন এবং বৃহত্তম দল বিজেপি পেয়েছে ১০৫টি আসন।

শিবসেনার বিধায়কদের ভাঙাতে পারে বিজেপি, এই আশঙ্কায় মুম্বইয়ের মালাডেতে দ্য রিট্রিট হোটেলে দলের জয়ী প্রার্থীদের রেখে দেয় শিবসেনা। কিন্তু এখন দলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েছেন শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরে। চাপের মুখে তিনি হোটেল থেকে বিধায়কদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বিধায়করা নিজেদের বিধানসভা এলাকায় ফিরে যেতে শুরু করেছেন।

সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। বিধায়করা পরস্পরের দিকে আঙুল তুলে চিৎকার করে তর্কাতর্কি করতে থাকেন। তাঁরা পরস্পরের বিরুদ্ধে অশালীন শব্দও প্রয়োগ করেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই হোটেলে হাজির হন শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্য। বুধবার রাতেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় হোটেলে যেতে হয় স্বয়ং উদ্ধব ঠাকরেকে।

সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য কেন সব বিধায়কের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যখন এই পদ পেলে ঠাকরে পরিবার ছাড়া আর কারও কোনও সুবিধা হবে না-– এই প্রশ্ন তাঁরা সরাসরি উদ্ধব ঠাকরেকেই করেন। শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বিধায়কদের আটকে রাখা নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন উদ্ধব।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন থেকেই ক্রমাগত বিজপির উপরে চাপ বাড়াতে থাকে শিবসেনা। প্রথমে ৫০:৫০ সূত্র, এবং সেই সূত্রের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আড়াই বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিতে অনড় থাকে শিবসেনা। বিজেপি তাদের বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিতে পারে, এই আশঙ্কায় দলীয় বিধায়কদের হোটেলে বন্দি করে রাখে শিবসেনা। মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার দাবি থেকে বিজেপি সরে যাওয়ার পরে, তারা বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সরকার গড়তে তৎপর হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কংগ্রেসের সমর্থন না পাওয়ায় তারা সরকার গড়তে পারেনি। এবার দলীয় বিধায়কদের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দলের প্রধান।

Comments are closed.