মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার দাবিতে কাল রাজ্যপালের কাছে যাচ্ছে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার দাবি নিয়ে কাল শনিবার বিকেল তিনটেয় রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির কাছে যাচ্ছে শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেস। একজোট হয়ে তারা সরকার গড়ার দাবি জানাবে রাজ্যপালকে। ২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় তাদের আসন যথাক্রমে ৫৬, ৫৪ ও ৪৪টি। অর্থাৎ সরকার গড়ার জন্য যেখানে প্রয়োজন ১৪৫টি আসন, সেখানে এই তিন দলের মিলিত আসনসংখ্যা ১৫৪।

    এর আগে আজ সকালে যা হয়েছে:

    মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে এখনও টালবাহানা চলছেই। বিধানসভা নির্বাচনের পরে কোনও দলই সরকার গড়তে না পারায় রাজ্যে এখন রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে। এই অবস্থায় জল্পনা উস্কে শিবসেনার রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত শুক্রবার দাবি করেন, সরকার তাঁরাই গড়ছেন। বিজেপির নাম না করে তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে শিবসেনাই নেতৃত্ব দেবে। কেউ শত চেষ্টা করেও তা আটকাতে পারবে না।”

    মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাউত ঘুরিয়ে বলেন, “আপনারা পাঁচ বছরের কথা জিজ্ঞাসা করছেন কেন, আমি তো বলছি আগামী ২৫ বছর আমাদের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন।”

    কোন ফর্মুলায় সরকার গড়তে পারে শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি), তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, শিবসেনা ও এনসিপি পাবে ১৪টি করে মন্ত্রক, কংগ্রেস পাবে ১২টি। এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী হবেন শিবসেনা থেকে কেউ। সঞ্জয় রাউত বলেন, “ফর্মুলার কথা ছাড়ুন। উদ্ধব ঠাকরে সাহেবের ক্ষমতা আছে, উনি প্রথম থেকেই বলে আসছেন যে শিবসেনা থেকেই কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন। শিবসেনার নেতৃত্বেই সরকার তৈরি হবে, এই সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন হবে না।” মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে প্রথমে শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্যের নাম শোনা যাচ্ছিল। আদিত্য এবার ভোটে জিতেছেন। এখন শোনা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন উদ্ধব নিজেই।

    বিজেপির সঙ্গে তাদের জোট থাকার সময় শিবসেনা আড়াই বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রিত্ব চেয়েছিল। বিজেপির ১০৫টি ও শিবসেনার আসন ৫৬টি। তখন এনসিপি সভাপতি শরদ পওয়ার সমর্থন করেছিলেন শিবসেনাকে। এখন শিবসেনাকে সরকার গড়তে হলে পওয়ারের সমর্থন আবশ্যিক। তা হলে কি এখন পওয়ারও চাইছেন অর্ধেক মেয়াদ কেউ মুখ্যমন্ত্রী হোন তাঁর দল থেকে? এ নিয়েই জল্পনা চলছে মহারাষ্ট্রে। ২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় এনসিপির আসন রয়েছে ৫৪টি। কংগ্রেসের দখলে ৪৪টি।

    জোট সরকারের নীতি ও ন্যূনতম সাধারণ কর্মসূচি কী ভাবে তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে প্রতিটি দলই। শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও তাঁরা অস্বীকার করছেন।

    এনডিএ জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে শিবসেনা। এখন মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিচ্ছে তারা। নাম না করে রাউত বলেন, “আমি এ কথা বলছি না যে আমরা ঘুরে আসব। আমাদের সঙ্গে এ রাজ্যের সম্পর্ক রয়েছে, এই সম্পর্ক সাময়িক নয়, পাঁচ বছরের নয়। শিবসেনা এ রাজ্যের সবচেয়ে বড় দল। আমরা গত পঞ্চাশ বছর ধরে এ রাজ্যে রাজনীতি করছি। আমাদের মহারাষ্ট্রেই থাকতে হবে। আমাদের এই রাজ্যেই থাকতে হবে।”

    বিজেপির ইস্তাহারে ছিল, তারা ক্ষমতায় এলে বীর সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়ার জন্য তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। যদি শিবসেনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়, তা হলে কি তারা দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানের জন্য বীর সাভারকরের নাম প্রস্তাব করবে? সরাসরি কোনও উত্তর না দিয়ে রাউত বলেন, তাঁরাই একমাত্র দল যারা চিরকাল বীর সাভারকরের নামে বলে আসছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More