শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

শ্রীলঙ্কায় বিস্ফোরণে নিহত শেখ হাসিনার আট বছরের নাতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাইপো তথা শাসক আওয়ামি লিগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ে-জামাই ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন কলম্বো। সঙ্গে ছিল তাঁদের দুই সন্তান জায়ন ও জোহান। ওই পরিবারটি উঠেছিল কলম্বোর শাংগ্রি লা হোটেলে। রবিবার সকালে ওই হোটেলে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। জায়নের মৃত্যু হয়। তার বয়স ছিল আট বছর। জায়নের বাবাও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

শেখ সেলিমের ব্যক্তিগত সহকারী ইমরুল হক রবিবার রাত ১১ টা নাগাদ জানান, ছোট্ট জায়নের মৃত্যু হয়েছে। শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমিনা সুলতানা সনিয়া ও তাঁর স্বামী মশিরুল হক চৌধুরি তাঁদের দুই ছেলেকে নিয়ে কলম্বোয় গিয়েছিলেন। বিস্ফোরণে মশিরুল হক চৌধুরিও আহত হয়েছেন। তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর অবস্থা সংকটজনক। জায়নের মৃতদেহ মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে বলে জানা গিয়েছে।

রবিবার সকালে শ্রীলঙ্কার কয়েকটি হোটেলে ও চার্চে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। অন্তত ২৯০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি। ২০০৯ সালে ওই দ্বীপরাষ্ট্রে এলটিটিই ধ্বংস হয়। তার পরে সেখানে এত বড় জঙ্গি হানা আর কখনও হয়নি।

বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হোটেল শাংগ্রি লা

রবিবার সন্ধ্যায় ইমরুল হক মিডিয়াকে জানিয়েছিলেন, মশিরুল ও জায়নের চোট লেগেছে। কলম্বোর এক হাসপাতালে দু’জনের চিকিৎসা চলছে। শেখ সেলিম ফোনে মশিরুলের সঙ্গে কথা বলেছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় ব্রুনেইয়ে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর ভাইপো শেখ সেলিমের মেয়ের পরিবারের একজন শ্রীলঙ্কায় মারা গিয়েছে। তাঁর কথায়, শেখ সেলিমের জামাই ও নাতি একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিল। এমন সময় বিস্ফোরণ ঘটে।

বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের এক অফিসার জানিয়েছেন, সনিয়া, মহিরুল ও তাঁদের দুই ছেলে জায়ন ও জোহান কলম্বোয় ছুটি কাটাতে গিয়েছিল। বিস্ফোরণের সময় মশিরুল ও জায়ন হোটেলের নীচে রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিল। অন্যদিকে জোহান ও তার মা ছিল হোটেলের ছ’তলায় নিজেদের ঘরে।

শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লা জানিয়েছেন, কলম্বোয় বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে আছেন দুই বাংলাদেশী নাগরিক। তবে তাঁদের প্রাণের আশংকা নেই। হাই কমিশনারের কথায়, আমরা শ্রীলঙ্কায় যে বাংলাদেশীরা বসবাস করেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তাঁদের বলা হচ্ছে, বাড়ির বাইরে বেরোবেন না। দরকার হলে নিরাপদ জায়গায় চলে যান। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।

Comments are closed.