টেলিকম সংস্থাগুলিকে ঋণ শোধে বাড়তি সময়, ক্রুদ্ধ সুপ্রিম কোর্ট বলল, এ তো আদালত অবমাননা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : টেলিকম সংস্থাগুলি কি মনে করে, তারাই পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী? বুধবার এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা একটা নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে ওই সংস্থাগুলিকে বকেয়া টাকা পুরো মিটিয়ে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু সরকার চায়, সংস্থাগুলি ধাপে ধাপে টাকা মেটাক। সরকারের প্রস্তাব শুনে অসন্তুষ্ট হয়েছেন বিচারপতিরা। তাঁরা মনে করেন, এর ফলে আদালত অবমাননা করা হচ্ছে।

    বিচারপতিরা এদিন টেলিকম দফতরকে জানিয়ে দেন, ঋণখেলাপি সংস্থাগুলিকে বাড়তি সময় দেওয়া চলবে না। তাঁরা বলেন, “বেশি সময় দেওয়া মানে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা। যে অফিসাররা কোম্পানিগুলিকে বাড়তি সময় দিতে চাইছেন, আমরা তাঁদের ছাড়ব না।” পরে তাঁরা বলেন, “এই ব্যাপারটা কোর্টের সম্মানের সঙ্গে জড়িত। কোম্পানিগুলি কি মনে করে তারাই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী।”

    টেলিকম সংস্থাগুলির কাছে সরকারের পাওনা ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা। সুপ্রিম কোর্ট তিরস্কার করে বলেছিল, অবিলম্বে ঋণশোধ না করলে সংস্থাগুলির কর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে। তারপরে ভারতী এয়ারটেল ১০ হাজার কোটি মিটিয়ে দেয়। ভোডাফোন আইডিয়া ও টাটা গ্রুপও ইতিমধ্যে পাওনা মিটিয়ে দিয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ভোডাফোন আইডিয়া দিয়েছে ২৫০০ কোটি ও টাটা গ্রুপ দিয়েছে ২১৯৭ কোটি। কিন্তু টেলিকম সংস্থাগুলি পুরো ঋণ মেটাতে পারবে কিনা, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

    ভারতী এয়ারটেলের কাছে পাওনা ছিল ৩৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। ১০ হাজার কোটি টাকা মেটানোর পরও তাকে দিতে হবে ২৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। ভোডাফোনের কাছে সরকারের পাওনা ছিল ৫৩ হাজার কোটি। এখনও তাদের দিতে হবে ৫০ হাজার ৫০০ কোটি।

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, টেলিকম দফতরকে আমি বলেছি, তারা যেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চলার জন্য টেলিকম সংস্থাগুলিকে চাপ দেয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাসও জানিয়েছেন, তাঁরা পরিস্থিতির ওপরে সতর্ক নজর রাখছেন।

    কয়েক মাস আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সরকারকে বকেয়া মেটায়নি কয়েকটি টেলিকম সংস্থা। তার ওপর টেলিকম দফতরের এক অফিসার এমন নির্দেশ জারি করেছিলেন যাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ওপরে কার্যত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, সুপ্রিম কোর্ট তুলে দিলেই তো হয়।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More