কলকাতা বইমেলায় শশী থারুর, নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে শানালেন আক্রমণ

চিন্তার বিষয় হল, প্রয়োজনীয় নথি না দেখালে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি ভোটে কী হবে? এনআরসি, সিএএ-র প্রভাব পড়বে? এই প্রশ্নগুলোই আছড়ে পড়েছিল তিনি বেরিয়ে আসার পরে। তিনি জানালেন, “দিল্লিতে ভোট অনেক কম পড়েছে এবার। একটা ভয়ের বাতাবরণ ছেয়ে আছে। হয়তো জামিয়া এবং শাহিনবাগে গুলি চালানোর জন্য। মানুষ হিংসার ভয় পাচ্ছে। দেশের জন্য এটা দুঃখজনক। দেশের রাজনীতির জন্য এটা অনভিপ্রেত। দিল্লি ভোটের ফলাফল বেরোক, তার পরে দেখা যাবে।”

    আজ, শনিবার, কলকাতা বইমেলার একটি আলোচনাসভার পরে এই কথাগুলোই বললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সরকার এই দেশে নাগরিকত্ব আইন চালু করার কথা বলে একটা ভয় খুব সুচারু ভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে, যে প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।

    তাঁর কথায়, “কিন্তু আমি বলতে পারি, কেউ কাউকে দেশ থেকে বার করতে পারবে না। তাহলে সারা বিশ্ব তার নিন্দা করবে। কিন্তু চিন্তার বিষয় হল, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে, প্রয়োজনীয় নথি না দেখালে। এভাবেই নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা বলে আসলে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে। এ দেশে বহু মানুষেরই প্রয়োজনীয় নথি নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারের অনেক বেশি মানবিক হওয়া উচিত ছিল।”

    সাম্প্রতিক কালে, মোদী সরকারের সমালোচক হিসেবে ধারাবাহিক ভাবে নিজের পরিচয় দিয়ে এসেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। কিন্তু তিনি শুধু সংসদে নন, সংসদের বাইরেও নানা ক্ষেত্রে তাঁর সরকার বিরোধিতার পরিচয় দিয়েছেন। আজ, শনিবার কলকাতা বইমেলার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেও তার অন্যথা হল না।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আজ, শনিবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ থেকে তুলকালাম কাণ্ড বেঁধে গেল আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায়। বিজেপির স্টলের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন এপিডিআর কর্মীরা। এরপর বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা মেলায় পৌঁছতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। শুরু হয়ে যায় ধাক্কাধাক্কি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে বিধাননগর পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরাট জমায়েত করে সিএএ বিরোধ বিক্ষোভকারীরা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বইমেলার ৭ নম্বর গেট।

    বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, সারা বইমেলা জুড়েই সিএএ-এর বিরুদ্ধে প্রচার চলছিল। কিন্তু বিজেপির স্টলের সামনে গেরুয়া শিবিরের কর্মীরাই প্ররোচনা তৈরি করে। তাঁদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপি কর্মীরা। কিন্তু পুলিশ বিক্ষোভকারীদেরই আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে।

    বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, “এরা এসব করে প্রচারের আলোয় আসতে চাইছে। আমরা সেটা হতে দেব না। আমাদের লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে। এরা তো সব তৃণমূলের স্তাবক।”

    গণ্ডগোলের খবর পেয়েই বইমেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন ওই জায়গায়। লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় ওই জায়গা। এরপর রাহুল সিনহা মেলা ছেড়ে বেরিয়ে যান। তারপরও বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন তাঁরা। দাবি, আটক করা এপিডিআর কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More