রবিবার, আগস্ট ১৮

ভোটের লড়াইয়ে আর নেই শরদ পওয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল, পশ্চিম মহারাষ্ট্রের মাধা লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন বর্ষীয়ান এনসিপি নেতা শরদ পওয়ার। কিন্তু লোকসভা ভোটের দিন ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পওয়ার নিজে জানিয়ে দিলেন, তিনি আর ভোটের লড়াইয়ে নেই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি স্থির করেছেন, ভোটের রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, পওয়ার যদি সংসদীয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন, তা অবশ্যই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

কিন্তু কেন?

দীর্ঘকাল যাবৎ মহারাষ্ট্রে পওয়ার হলেন সবচেয়ে বড় মাপের রাজনৈতিক নেতা। তাঁর নামের সঙ্গে বারামতী কেন্দ্রটি সমার্থক। তাঁর বাড়ি ইন্দাপুরে। যা বারামতী কেন্দ্রের অন্তর্গত। পওয়ার দীর্ঘকাল যাবৎ বারামতী লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে আসছেন। প্রথমে কংগ্রেস, পরে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস, যে দলের হয়েই দাঁড়ান, বারামতী সর্বদা আস্থা রেখছে তাঁর ওপরে।

শুধু বারামতী নয়, রাজ্যের ৪৮ টি লোকসভা কেন্দ্রে স্টার ক্যাম্পেনার ছিলেন শরদ। বলা হত, মহারাষ্ট্রের প্রতিটি তালুক তাঁর নখদর্পণে। নিজের বারামতী কেন্দ্র নিয়ে তিনি এতই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, সেখানে প্রচারে যেতেন সবার শেষে। যেদিন ভোটের প্রচার শেষ হওয়ার কথা, তার ঠিক একদিন আগে নিজের কেন্দ্রে গিয়ে বলতেন, আমাকে ভোট দিন।

এমন এক বর্ণময় ব্যক্তিত্ব যদি রাজনীতি থেকে অবসর নেন, তাহলে মহারাষ্ট্রের সংসদীয় রাজনীতি অনেকাংশে বিবর্ণ হয়ে যাবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

সোমবার পওয়ার এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরে তিনি বলেন, আমি বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই বলল, পরের প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়া উচিত। পার্টির অনেক নেতা চান, পার্থ পওয়ার মাভেল কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। পার্থ হলেন শরদ পওয়ারের ভাইপোর ছেলে।

গত কয়েক মাস ধরে শরদ পওয়ার ছিলেন বিতর্কের কেন্দ্রে। কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দল যখন রাফায়েল ইস্যুতে বিজেপিকে কোণঠাসা করতে চাইছে, তখন তিনি আচমকাই বলে বসেন, ফ্রান্স থেকে ওই বিমান কেনার পিছনে নরেন্দ্র মোদীর কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে হয় না। কংগ্রেসের জোটসঙ্গী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ওই ধরনের কথা বলায় হইচই শুরু হয় নানা মহলে। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ টুইট করে বলেন, শরদজি জাতীয় স্বার্থকে রাজনীতির উর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে তিনি পরামর্শ দেন, ডিয়ার রাহুল গান্ধী, আপনি নিজের জোটসঙ্গীর কথা বিশ্বাস করলেই ভালো করবেন।

পরে অবশ্য পওয়ার বলেন, আমি কখনও ওই কথা বলিনি। তাঁর কথায়, অনেকে আমাকে সমালোচনা করছেন। তাঁরা বলছেন, আমি নাকি নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করেছি। আমি কখনই তাঁর পক্ষ নিয়ে কিছু বলিনি। ভবিষ্যতেও বলব না।

রাফায়েল নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, সরকার বিমান কিনেছে। আমি চাই সরকার পার্লামেন্টে স্পষ্ট করে বলুক, যে বিমানের দাম ছিল ৬৫০ কোটি টাকা, তা ১৬০০ কোটি টাকায় কেনা হচ্ছে কেন? একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাফায়েল নিয়ে তদন্তের জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করতে হবে।

Comments are closed.