করোনা অতিমহামারী রুখতে শীঘ্রই আরও একদফা আর্থিক পদক্ষেপ, ঘোষণা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ধীর গতিতে। ব্যাঙ্ক থেকে নতুন করে কেউ ঋণ নিচ্ছেন না। বুধবার বণিকসভা ফিকির আয়োজিত এক ভারচুয়াল সেমিনারে এমনই মন্তব্য করলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। তিনি জানান, অর্থনীতি ও ব্যাঙ্ক পরিষেবা যাতে কোভিড অতিমহামারীর সঙ্গে লড়াই করতে পারে, সেজন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক শীঘ্রই কয়েকটি পদক্ষেপ নেবে।

অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য গত মার্চ থেকে দফায় দফায় কয়েকটি ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। রেপো রেট কয়েকবার কমানো হয়েছে। বাজারে কাঁচা টাকার যোগান বাড়ানো হয়েছে।

কোভিড অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সব মেয়াদের ঋণে ছয় মাসের মোরেটরিয়াম ঘোষণা করে। সম্প্রতি অর্থনীতিবিদ কে ভি কামাথের নেতৃত্বাধীন এক প্যানেল প্রস্তাব দিয়েছে, ব্যাঙ্কগুলিকে দু’বছর পর্যন্ত ঋণ মোরেটরিয়াম ঘোষণা করার অনুমতি দেওয়া হোক।

শক্তিকান্ত দাস জানান, ঋণ মকুব করার ক্ষেত্রে আরবিআই সব দিক খেয়াল রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে। একদিকে ব্যাঙ্কগুলি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখবে। অন্যদিকে ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক স্থিতাবস্থার দিকেও নজর রাখতে হবে। তাঁর কথায়, “আমরা চাই না ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী ঋণ হু হু করে বাড়ুক।”

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরকে প্রশ্ন করা হয়, যে নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি অর্থাৎ ব্যাঙ্ক বহির্ভূত আর্থিক সংস্থাগুলি সোনা বন্ধক রেখে ঋণ দেয়, তাদের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক হিসাবে ধরা হবে না কেন? শক্তিকান্ত দাস বলেন, এনবিএফসি-র ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক হয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বিশেষ করে যে প্রতিষ্ঠানগুলি সোনা বন্ধক রেখে ঋণ দেয়, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। না হলে ওই সংস্থাগুলিই বিপদে পড়বে।

কিছুদিন আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অ্যানুয়াল রিপোর্টে বলা হয়, “জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকের মূল্যায়ন করে দেখা গিয়েছে, চাহিদার ওপরে অতিমহামারীর প্রভাব পড়েছে সাংঘাতিক। কোভিড শুরু হওয়ার আগে বাজারে যে চাহিদা ছিল, সেই অবস্থায় ফিরে যেতে এখনও অনেক সময় লাগবে।”

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বাজারে ব্যক্তিগত চাহিদা কমেছে। পরিবহণ, হোটেল শিল্প, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ভারতের অর্থনীতি এশিয়ায় তৃতীয় বৃহত্তম। এদেশের জিডিপির ৬০ শতাংশ আসে ভোগ্যপণ্যের বাজার থেকে।

করোনা সংকট থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য ২১ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে ঋণগ্রহীতাদের সাহায্য করার জন্য। বাজারে চাহিদা বাড়ানোর জন্য সহায়তা করা হয়েছে কম।

ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ঘাটতি হবে জিডিপি-র ৭.২ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘাটতি যে পর্যায়ে বেঁধে রাখার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন, বাস্তবে ঘাটতি তার চেয়ে বাড়বে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More