রবিবার, অক্টোবর ২০

তেজপাতার গুণে ৭ সমস্যাকে বলুন দূর হটো…. জানুন সেগুলো কী কী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রান্নাঘরে তেজপাতা কার না থাকে? কিন্তু সেটা তো শুধু ওই রান্নায় দিয়ে ব্যবহারের পরে আর বিশেষ কোনওভাবে ব্যবহারের কথা ভাবা হয় না।  কোনও কোনও রান্নায় শুধু এই পাতা গন্ধের জন্য প্রথমে দিয়ে তারপরে ফেলেও দিই আমরা।  কিন্তু এই পাতা আপনার শারীরিক কী কী সমস্যা কমাতে পারে, জানেন কি?

ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় এই পাতা বেশি পাওয়া যায়।  ফোলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-সিক্স, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন সবই থাকে তেজপাতায়।  জানতেন?

হজমে সাহায্য করে– গুরুপাক খাওয়া হোক বা সকাল থেকে না খেয়ে থেকে হঠাৎই অনেকটা খেয়ে ফেলা, ফলে পেট ফাঁপা, পেট ভার বা পরের দিন কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি নানাবিধ সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে তেজপাতা।  আয়ুর্বেদের মতে, তেজপাতা শরীর থেকে টক্সিনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়।

হার্ট ভাল রাখে– হৃদপিণ্ডের দেওয়াল শক্ত করতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।  উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে বাচাঁতে পারে এই পাতা।


ব্যথা থেকে মুক্তি
– শরীরের যে কোনও ধরনের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে তেজপাতা।  বাতের ব্যথাতেও অব্যর্থ এই তেজপাতা।  তেজপাতা বেটে একটা পেস্ট তৈরি করে শরীরের যেখানে যেখানে ব্যথা সেখানে এই পেস্ট লাগিয়ে ২০ মিনিট বিশ্রাম নিতে হবে।  ব্যথা এক্কেবারে গায়েব হয়ে যাবে।  যন্ত্রণার উপশমে তেজপাতার তেল ব্যবহার করা হত অনেক আগে, যখন এত পেনকিলার-নির্ভর জীবন ছিল না।

স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে- তেজপাতা পোড়ানোর গন্ধ আমাদের স্নায়ুকে চাঙ্গা করে।  তাই ক্লান্তিবোধ আমাদের আকড়ে ধরলে অল্প কিছু তেজপাতা পুড়িয়ে নিলেই ভালো কাজে আসবে। মানসিক স্বাস্থ্যও চাঙ্গা থাকবে।  তেজপাতার মধ্যে থাকে লিনালুল (C10H18O)।  এর কারণেই তেজপাতার এই সুগন্ধ।  এই যৌগই আমাদের উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে, মানসিক অস্থিরতাও কমায়।

চুলের যত্নে
– খুশকির সমস্যা দূর করে মাথার ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে তেজপাতা।  চুলের যে কোনও ধরনের সমস্যা সমাধানে তেজপাতা একটি প্রাচীন প্রতিকার।  কয়েকটি তেজপাতা জলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই জল মাথার স্কালে ব্যবহার করলে খুসকির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

 

সর্দি-কাশি কমাতে– তেজপাতা সর্দি-কাশির ব্যাকটেরিয়ার উপর বিশেষভাবে কাজ করে।  ৪-৫টি তেজপাতা পরিষ্কার জলে ফুটিয়ে নিয়ে তাতে একটি পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে বুকে পিঠে গরম সেঁক নিলে আরাম পাওয়া যাবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ– এক গবেষণায় দেখা গেছে যাঁরা দিনে দু’বার তেজপাতার গুঁড়ো জলে মিশিয়ে পান করেন, তাঁদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেছে।  এই পাতাতে আছে এমন উপকারী উপাদান যা, টাইপ টু ডায়াবেটিস রোধ করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।  সেইসঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিও কম করতে সাহায্য করে।

২০১৬-এ একটি সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় বায়োকেমিক্যাল নিউট্রিশন জর্নালে।  সেখানে টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চারটে ভাগে ভাগ করা হয়।  যাঁদের প্রথম তিনটি গ্রুপে প্রথম ৩০ দিন ১, ২, ৩ গ্রাম করে তেজপাতা দিয়ে তৈরি ওষুধ দেওয়া হয়, চার নম্বর গ্রুপের মানুষদের রাসায়নিক ওষুধ দেওয়া হয়।  দেখা যায়, প্রথম তিনটি গ্রুপের মানুষজন অনেকটা কমিয়ে ফেলেছেন ব্লাড সুগার লেভেল, তাঁদের কোলেস্টরলের সমস্যাও অনেকটা বাগে আনা যায়।  গবেষকরা বলছেন, তেজপাতায় থাকা পলিফেনল এই কাজের কাজটা করে সহজেই।

ভারতীয়দের কাছে তাই এই তেজপাতা মহার্ঘ হওয়া উচিত।  ভারতবর্ষে এ মুহূর্তে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ এই টাইপ টু ডায়াবেটিসের শিকার।  যার অর্থ গোটা দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ৭ শতাংশ এই সমস্যায় আক্রান্ত।  ইন্ডিয়ান হার্ট অ্যাসোশিয়েশন বলছে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ কোটি ৯ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।  তাই তেজপাতা গুঁড়ো রোজ জলে গুলে খেতে পারলে এই ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকা অনেকটাই সহজ।  এটা ঠিকই যে, কাঁচা তেজপাতা বড্ড তেতো আর কষা খেতে লাগবে।  তাই শুকনো পাতাই গুঁড়ো করে খাওয়া যেতে পারে।

Comments are closed.