শুক্রবার, জুলাই ১৯

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে দু’দিন ধরে পাঁচটি হাসপাতালে ঘুরলেন রোগী, মিলল না চিকিৎসা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন ধরে পাঁচটি হাসপাতালে ঘুরেও বেড জুটল না আশঙ্কাজনক রোগীর!

নিউ ব্যারাকপুরের নবপল্লী এলাকার বাসিন্দা বাবলু সরকারের ঘটনা ফের এক বার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালো রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে। ৪৫ বছরের ওই ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একের পর এক হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে ঘুরেছেন তাঁরা। কিন্তু ন্যূনতম চিকিৎসাটুকু এখনও শুরু করা যায়নি।

বাবলুর পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, তিনি পেশায় কাঠ মিস্ত্রি। বৃহস্পতিবার সকালে একটি বাড়ির ছাদে টিন লাগানোর কাজ করছিলেন তিনি। কাজ করতে গিয়ে হঠাৎই পড়ে যান পা পিছলে। দোতলার ছাদ থেকে নীচে পড়ে গিয়ে মাথায় খুব জোরে আঘাত লাগে বাবলুর।

সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী মধ্যমগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে বাবলুর অবস্থা দেখেই বারাসত স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসকরা। সকাল তখন আটটা। কিন্তু হাসপাতালের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, চোট গুরুতর, অনেক পরীক্ষা করতে হবে। সেই পরিকাঠামো ওই হাসপাতালে নেই। ওখান থেকে তাঁকে রেফার করে দেওয়া হয় আরজিকর হাসপাতালে।

বাবলুকে নিয়ে বারাসত থেকে আরজিকর ছুটে আসে তাঁর পরিবার। রোগীর তত ক্ষণে কথাবার্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হাঁটাচলাও করতে পারছেন না তিনি। আরজিকর হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করে চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় হেমারেজ হয়েছে। এখুনি অস্ত্রোপচার দরকার। কিন্তু সেই সঙ্গে এ-ও জানিয়ে দেন, কোনও বেড নেই ওই হাসপাতালে। এসএসকেএম যাওয়ার পরামর্শ দেয় আরজিকর।

এসএসকেএম নিয়ে যাওয়া হয়। তখন রাত হয়ে গিয়েছে অনেক। নিউরোসার্জারি বিভাগে বেড মেলেনি সেখানেও। বলা হয়, এনআরএস বা ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে। অবস্থা এতই খারাপ হয়ে যায়, রাত দু’টোর সময়ে এসএসকেএম থেকে বাবলুকে নিয়ে যাওয়া হয় সিএনএমসি-তে। বেড মেলেনি সেখানেও। পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার সকালে আউটডোরে রোগীকে নিয়ে আসতে বলা হয়। অথচ বাবলুর অবস্থা তখন খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে।

বাবলুকে নিয়ে তাঁর পরিবারের দিশাহারা সদস্যেরা শুক্রবার সকালে ফের ফিরে আসেন এসএসকেএম। বেলা এগারোটা নাগাদ এসএসকেএমের এক জন চিকিৎসক দেখেন বাবলুকে। ফের সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরে জানানো হয় স্ক্যান মেশিন খারাপ। বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস-এ পাঠানো হয় তাঁদের। সেখানে স্ক্যান করা হয়, কিন্তু চিকিৎসা শুরু হয়নি কোনও রকম।

বাবলু সরকারের দিদি রাণু সরকার বলেন, “ভাইয়ের কান দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। ও নড়তে-চড়তে পারছে না। কাল থেকে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরছি। আমরা গরিব মানুষ। কী করব জানি না। এখনও কোনও চিকিৎসা পেল না আমার ভাইটা। কোথায় যাব আমরা, জানি না।”

বাবলুর ভাগ্নে পিন্টু সরকার বলেন, “মধ্যমগ্রাম থেকে, বারাসত থেকে, আরজিকর হয়ে, সিএনএমসি, এসএসকেএম– ঘুরেই যাচ্ছি। এখনও চিকিৎসা শুরু হল না এত আশঙ্কাজনক এক রোগীর। এসএসকেএমে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে স্ক্যান মেশিন খারাপ বলে ছেড়ে দিয়েছে। তার পরে বাঙুরে এসে স্ক্যান হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা কখন শুরু হবে, জানি না।”

শুক্রবার রাত দশটা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী এসএসকেএমের এমার্জেন্সির অবজার্ভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি নেওয়া হয়েছে তাঁকে। তবে চিকিৎসা শুরু হয়নি এখনও। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক বলেন, “এর কম কোনও খবর পাইনি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

Comments are closed.