শনিবার, মে ২৫

শি জিনপিংকে ভয় পান মোদী, চিনের ভেটো দেওয়া নিয়ে মন্তব্য রাহুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পরপর চারবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়ে জইশ ই মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে রক্ষা করেছে চিন। এই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভাপতি প্রশ্ন তুললেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চিনের নিন্দা করে কিছু বলছেন না কেন? রাহুলের সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রী দুর্বল। তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-কে ভয় করেন।

রাহুলের মূল অভিযোগ দু’টি। প্রথমত, বিজেপি সরকারই মাসুদ আজহারকে ছেড়ে দিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, আগে বেশ কয়েকবার মোদীকে শি জিনপিং-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু শি-র দেশ যখন ভেটো প্রয়োগ করেছে, তখন তিনি চুপ।

রাহুলের কথায়, নমোর চিন নীতি মানে, গুজরাতে শি-র সঙ্গে বেড়িয়ে হাওয়া খাওয়া, দিল্লিতে শি-কে আলিঙ্গন এবং চিনে গিয়ে শি-কে মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানানো।

পুলওয়ামা হানার কয়েকদিন বাদে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও আমেরিকা যৌথভাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনে, আজহারকে কালো তালিকাভূক্ত করা হোক। কিন্তু চিন জেদ ধরে, মাসুদের বিরুদ্ধে এমন কোনও প্রস্তাব আনতে হবে যাতে সব দেশেরই সমর্থন আছে। তারা ভেটো দিয়ে প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। কংগ্রেসের বক্তব্য, চিন যদি এমন সংবেদনশীল ইস্যুতে পাকিস্তানেরই পক্ষে দাঁড়ায়, তাহলে শি-র সঙ্গে এত আলোচনা করে কী লাভ হল। মোদী তো শি-র সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য খুব চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলতে হবে।

কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আজ এক দুঃখের দিন।

কেন দুঃখের দিন সেকথা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, চিন যেভাবে মাসুদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করতে বাধা দিল, তাতে বোঝা যায়, তারা পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য বন্ধু। পাকিস্তানেই তো রয়েছে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর। মোদীকে দোষারোপ করে সুরজেওয়ালা বলেন, তাঁর কূটনীতির ফলে একের পর এক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

রাহুলের দাবি, বিজেপিকে এখন দেশবাসীর কাছে বলতে হবে, কেন তারা মাসুদকে ছেড়ে দিয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দোভালই আজহারকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন কন্দহরে। তাঁকে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

১৯৯৯ সালে বিমান ছিনতাই করে জঙ্গিরা মাসুদকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তাঁর সঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল আরও দুই জঙ্গি, মুস্তাক আহমেদ জারগার ও আহমেদ ওমর সইদ শেখ। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী।

Shares

Comments are closed.