হাইকোর্টের রায়ে দুঃখিত সৌগত, অধীর বললেন মানুষের প্রাণ বাঁচানোর পক্ষে রায়, স্বাগত জানাল বিজেপি

৩০৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার এক মাইলফলক রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছে, দুর্গাপুজোয় এবার মণ্ডপেই ঢুকতে পারবেন না দর্শনার্থীরা। উচ্চ আদালতের এই রায় নিয়ে অবশ্য বাংলার রাজনীতি থাকল দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে শাসক দল, বিপরীতে বিরোধীরা।

তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা সাংসদ সৌগত রায় রাখঢাক না করেই বলেছেন, এই রায়ে তিনি দুঃখিত। কেন দুঃখিত? তাঁর কথায়, “খারাপ ভাবছে ক্লাবগুলোর কথা ভেবে। পুজোর একেবারে মুখে এসে এমন রায়ে ওদের সব উদ্যোগ মাটি হয়ে যাবে।” আর পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা একডালিয়া এভারগ্রিনের পুজোর অন্যতম কর্ণধার কিছুটা তির্যক ভাবে বলেছেন, “আজ তৃতীয়া। আর আজকে এই রায় দিল আদালত। অনেকটা ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ের মতো হয়ে গেল।”

শাসক দলের এই দুই প্রবীণ নেতার সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের নেপথ্য ভাবনার ফারাক রয়েছে। আদালতের রায়ে স্পষ্ট, সরকার পুজোর সময় স্বাস্থ্য বিধি মানার যে সব নিয়মকানুন ঘোষণা করেছে বাস্তবে তার প্রয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে। বস্তুত পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে বাসে ট্রামে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধি যে মহানগরীতে শিকেয় উঠেছে তা দৃশ্যত সত্য। মফস্বল শহরগুলিতে অবস্থা আরও ভয়াবহ। ওদিকে কোভিডের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে দ্রুত হারে। সোমবারও প্রায় চার হাজারের মানুষের শরীরে কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। বাংলায় কোভিডে মৃত্যু ছাড়িয়ে গিয়েছে ৬ হাজার। এই অবস্থাতেই রাশ টেনে ধরেছে হাইকোর্ট।

এ ব্যাপারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এদিন বলেছেন, “ঠিক করেছে হাইকোর্ট। যাঁরা উৎসব পালন করবেন ভেবেছিলেন তাঁরা হয়তো হতাশ হয়েছেন। কিন্তু হাইকোর্ট মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে।” তাঁর কথায়, একটা অদ্ভূত সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। তাই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপও দরকার। মানুষকে উস্কে দিয়ে পথে নামিয়ে দিয়ে যারা বিপদে ফেলতে চাইছিল, তারা এতে নিশ্চয়ই অখুশি হবে।

হাইকোর্টে এই মামলার অন্যতম আইনজীবী ছিলেন রাজ্যসভায় সিপিএম সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপিও। দলের মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ গোড়া থেকেই বলছেন, পুজো হোক, কিন্তু উৎসব যেন না হয়। তাতে মানুষের বিপদ হতে পারে। আদালত মানুষের স্বার্থেই এই রায় দিয়েছে।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, হাইকোর্ট যখন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করতে বলেছে, তখন কিন্তু জেলায় জেলায় পুজো কমিটিগুলোকে সরকারের তরফে ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া চলছে। এ বাবদ প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে সরকারের। এ ব্যাপারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এদিন বলেন, “সরকার তো পুজোর জন্য টাকা দেয়নি। ভোটের জন্য উৎকোচ দিতে চেয়েছে। জনগণের টাকা নিয়ে এই অন্যায় মা দুর্গাও সহ্য করবে না”।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More