বুধবার, জুন ২৬

দোহাই দেশে ফেরত পাঠাবেন না, ভাইরা আমাকে খুন করবে, তাইল্যান্ডের কাছে আর্জি সৌদি অষ্টাদশীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মেয়ে পড়াশোনা করতে চায়। গাড়ি চালাতে চায়। দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে। এই ‘অপরাধে’ সৌদি আরবের একটি ১৮ বছরের মেয়েকে নাকি খুন করতে চেয়েছিল তার বাড়ির লোকজন। তাদের ধারণা, এই মেয়ের জন্যে পরিবারের অসম্মান হবে। মেয়েটি পালিয়ে এসেছে তাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। সৌদির দূতাবাস চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো যায়। কিন্তু মেয়েটিও নাছোড়বান্দা। সে যে হোটেলে আশ্রয় নিয়েছে, তার ঘরে খিল দিয়ে রেখেছে। সেই সঙ্গে আশ্রয় দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ।

মেয়েটির নাম রাহাফ মহম্মদ অল কুনুন। সে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়াই তার উদ্দেশ্য ছিল। রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্বাস্তু সংক্রান্ত দফতর জানিয়েছে, মেয়েটির ওপরে আমরা নজর রাখছি। তাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ আছে। মেয়েটির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চলছে।

কুনুন জানিয়েছে, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাকে মারধর করত। নিয়মিত হুমকি দিত। পালিয়ে আসার আগে ছ’মাস সে একটি ঘরে বন্দি হয়েছিল। তার চুল কেটে নেওয়া হয়েছিল। স্বদেশে ফিরলে সে খুন হয়ে যাবে।

কুনুনের কথা প্রথমে জানা যায় গত শনিবার। সে কুয়েত থেকে এসেছিল ব্যাঙ্ককের সুবর্ণভূমি বিমান বন্দরে। কিন্তু তাকে তাইল্যান্ডে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সৌদি দূতাবাস থেকে তাই কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল, কুনুনকে যেন এয়ারপোর্টেই গ্রেফতার করে দেশে ফেরত পাঠয়ে দেওয়া হয়।

রবিবার তাকে কুয়েত এয়ার ওয়েজের বিমানে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু রাতে ওই বিমান উড়ে গিয়েছে কুনুনকে ছাড়াই। রবিবার রাতে সে প্রথমবার জানায়, আমি দেশে ফিরলে ভাইরা মেরে ফেলবে। তারা কুয়েতে সৌদির দূতাবাসে অপেক্ষা করছে। তুচ্ছ কারণে তারা আমার প্রাণ নিতে চায়।

টুইটারে সে লিখেছে, আমি জীবনকে ভালোবাসি। কিন্তু আমার পরিবার আমাকে নিজের মতো বাঁচতে দিতে চায় না। কুনুনের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে এক মানবাধিকার সংগঠন। তাইল্যান্ডের কয়েকজন আইনজীবী কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন, কুনুনকে যেন কিছুতেই না সৌদিতে ফেরত পাঠানো হয়।

কুনুনের দাবি, সুবর্ণভূমি বিমান বন্দরে পা রাখা মাত্রই সৌদি ও কুয়েতি অফিসাররা তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র কেড়ে নিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, কুনুনের দাবি সত্য। ব্যাংককে সৌদি দূতাবাসের প্রধান আবদুল্লা অল শৌয়াবি বলেছেন, মেয়েটির বাবা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সাহায্য চেয়েছেন। তবে তার পাসপোর্ট বা অন্যান্য নথিপত্র কেউ কেড়ে নায়নি।

Comments are closed.