শনিবার, মার্চ ২৩

আমাদের যুবরাজ সাংবাদিক খুনের হুকুম দেননি, দাবি সৌদি আরবের মন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতবছর ইস্তানবুলে সৌদি আরবের দূতাবাসে খুন হন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। অভিযোগ, সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের নির্দেশেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি ভারতে আসেন। এখানেও সাংবাদিক হত্যা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় যুবরাজের সফরসঙ্গী তথা সৌদির বিদেশ মন্ত্রী আদেল অল জুবেরকে। তিনি স্পষ্ট বলেন, দুষ্কৃতীরা সাংবাদিককে খুন করেছে। যুবরাজ তাঁকে খুন করার নির্দেশ দেননি।

সাংবাদিক জামাল খাসোগি সৌদির যুবরাজের কঠোর সমালোচক ছিলেন। তাঁকে গতবছর ২ অক্টোবর সৌদি দূতাবাসে গলা টিপে খুন করা হয়। পরে দেহটি টুকরো টুকরো করে ভিজিয়ে দেওয়া হয় অ্যাসিডে। তুরস্কের গোয়েন্দা অফিসাররা দাবি করেছেন, তাঁদের কাছে এমন কিছু প্রমাণ আছে, যাতে বোঝা যায়, খাসোগিকে খুনের নির্দেশ সৌদি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে এসেছিল।

ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে সৌদি আরবের সঙ্গে পশ্চিমী দেশগুলির সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। তার পরে দীর্ঘদিন বিদেশ সফরে যাননি যুবরাজ। কিছুদিন আগে পাকিস্তান, ভারত ও চিন সফরে বেরিয়েছেন। আমেরিকার দাবি, খাসোগি হত্যার পরে যুবরাজের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়েছিল। ভাবমূর্তি পুনরায় ভালো করার জন্যই যুবরাজ বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন।

সৌদির মন্ত্রী আদেল অল জুবের বলেন, যুবরাজের ভাবমূর্তি ভালো করার প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাবমূর্তির কোনও ক্ষতিই হয়নি। খাসোগি খুনের সঙ্গে তিনি কোনোভাবে জড়িত নন। তিনি খুনের হুকুম দেননি। ওই খুনকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে চিহ্নিত করেছেন মন্ত্রী।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সৌদির যুবরাজকে খুনের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করেন না। কিন্তু যুবরাজের বিদেশ সফরের আগে ডেমোক্র্যাট পার্টি পরিচালিত আমেরিকার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ইয়েমেন থেকে আমেরিকার সেনা সরিয়ে আনা হোক। সেই দেশে সৌদি আরবের সমর্থক গেরিলাদের সাহায্য করছে আমেরিকার সেনা। তারা সরে এলে সৌদি আরব সমস্যায় পড়তে পারে।

অল জুবের বলেন, আমরা ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছি। তাদের পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত জানুয়ারিতে তাদের বিচার শুরু হয়েছিল। যারা খুনে জড়িত, সকলেই শাস্তি পাবে।

আমেরিকার বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ তুলে অল জুবের বলেন, ইরাকে যুদ্ধের সময় আমেরিকার সেনা ও গোয়েন্দা অফিসাররা আবু ঘ্রাইব জেলে অনেকের ওপরে অত্যাচার করেছিল। কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছিল। আমরা কি ধরে নেব আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ নিজে অত্যাচার বা খুনের অর্ডার দিয়েছিলেন?

Shares

Comments are closed.