স্যাট রায় দিলেও বকেয়া ডিএ মিলবে কি? প্রশ্ন তৈরি করল রাজ্যের হাইকোর্টে যাওয়ার ভাবনা

অনেক আগেই রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (স্যাট) রাজ্য সরকারি কর্মীদের যাবতীয় বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার আগেই ২০০৬ সাল থেকে বকেয়া যাবতীয় পাওনা সরকারি কর্মীদের মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ পুরোপুরি মানেনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি কর্মীদের ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) মামলায় এদিন ফের ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার। বলেছে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। তবে এতে এখনই খুশি হওয়ার কারণ নেই সরকারি কর্মীদের। কারণ, নবান্ন সূত্রে খবর, এই মামলা নিয়ে ফের হাইকোর্টে যাওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য।

    অনেক আগেই রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (স্যাট) রাজ্য সরকারি কর্মীদের যাবতীয় বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার আগেই ২০০৬ সাল থেকে বকেয়া যাবতীয় পাওনা সরকারি কর্মীদের মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ পুরোপুরি মানেনি। ডিএ-র হার বাড়িয়ে দেওয়া হলেও প্রাপ্য বকেয়া না মিটিয়ে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চালু করে দেওয়া হয় নতুন বেতন কাঠামো। শুধু তাই নয়, রিভিউ পিটিশন দাখিল করে স্যাটের কাছে রায় পুনর্বিবেচনা করার আর্জি জানায়। সেই আর্জি বুধবার খারিজ করে দিল স্যাট।

    আরও পড়ুন

    কোভিড ১৯ ড্রাগ রেমডেসিভিরের কালোবাজারির আশঙ্কা, কড়া হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় এজেন্সির

    বুধবার এই রায় শোনার পরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মনে করছেন, স্যাটে এমন জয় আগেও পেয়েছে কর্মী সংগঠন। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ মানেনি। বরং ফের আদালতে গেছে। এবারও তেমনটাই হবে। কারণ, বুধবারের রায়ে স্যাট রাজ্য সরকার যাতে হাইকোর্টে যেতে পারে সেই দরজা খোলা রাখা হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার যে সব কারণ দেখিয়ে রায় পুনর্বিবেচনা করতে বলছে, সেগুলিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে স্যাট। সেই সঙ্গে রিট পিটিশনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। রিট পিটিশনের আর্জি খারিজ হয়ে যাওয়ার অর্থ অতীতে স্যাট যে রায় দিয়েছিল সেটাই বজায় থাকবে। কিন্তু এখন রাজ্য সরকার হাইকোর্টে ফের যেতেই পারে। সরকারি ভাবে কিছু বলা না হলেও এমন সম্ভাবনাই দেখছেন রাজ্যের কর্মচারীরা। এদিন সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এদিন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পক্ষেই রায় যাওয়ায় খুবই খুশি মামলাকারী কর্মী সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, অতীতেও এই মামলা হাইকোর্টে নিয়ে গিয়ে মুখ পুড়িয়েছে রাজ্য সরকার। এবার যেন সেটা না করে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারি কর্মী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনও স্যাটের রায়ে খুশি। তারাও চাইছে রাজ্য সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এই রায় রূপায়ন করুক।

    ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই রাজ্য সরকারকে স্যাট নির্দেশ দিয়েছিল, পরবর্তী ছ’মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ দিতে হবে। রাজ্য সরকার তা না-দেওয়ায় সরকারি কর্মীদের সংগঠন স্যাটে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে। রাজ্য পুনরায় স্যাটে রিভিউ পিটিশন দায়ের করে। গত ৩ মার্চ রিভিউ পিটিশনের শুনানি শেষ হয়। এদিন রায় ঘোষণা হল।

    কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বা মহার্ঘ ভাতার দাবি তুলে স্যাটে মামলা করেছিল কংগ্রেস সমর্থিত ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ়’ ছাড়াও আরও দু’টি সরকারি কর্মীদের সংগঠন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্যাট যে রায় দিয়েছিল তাতে বলা হয়, ডিএ দেওয়া বা না -দেওয়া রাজ্যের ইচ্ছার উপরে নির্ভর করে। স্যাটের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সরকারি কর্মচারিদের সংগঠন। এর পরে ২০১৮ সালের ৩১ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত ও বিচারপতি শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে বলে, ডিএ সরকারি কর্মীদের অধিকার। একই সঙ্গে মামলাটি পুনরায় স্যাটে ফিরিয়ে দিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ডিএ কীভাবে ও কী হারে দেওয়া হবে, তা বিচার করে স্যাট তিন মাসের মধ্যে জানাবে।

    এর পরেই রাজ্য সরকার ওই রায় পুনর্বিবেচনা করে দেখার জন্য একটি রিভিউ পিটিশন দাখিল করে ডিভিশন বেঞ্চে। গত বছরের ৭ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি হরিশ টন্ডন ও বিচারপতি শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের দায়ের করা রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়।

    ডিএ মামলায় বারবারই হারতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে। ফের একবার স্যাট জানিয়ে দিল, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দিতে হবে। তবে রাজ্য সরকার ফের হাইকোর্টে যাবে বলেই নবান্ন সূত্রে খবর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More