মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

বিদ্যাদেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করলেন বিদ্যাদাত্রী, ছক ভাঙার আনন্দে মাতল স্কুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: চিরকালের গতানুগতিক প্রথা ভাঙলেন স্কুলের শিক্ষিকারা। সীমাজিক রীতির অচলায়তনের জানলা খুলে প্রবেশ করল ঠান্ডা হাওয়া। জলপাইগুড়ি বিবেকানন্দ হাই স্কুলের সরস্বতী পুজোর পৌরোহিত্য করলেন ঐ স্কুলেরই রাষ্ট্র বিজ্ঞানের শিক্ষিকা জয়া চক্রবর্তী।

জলপাইগুড়ির পাকুরি এলাকায় অবস্থিত বিবেকানন্দ হাই স্কুল। প্রায় হাজার ছাত্রছাত্রী পড়ে এই স্কুলে। প্রতি বছরের মতোই বাগদেবীর আরাধনা উপলক্ষে এ দিন সকাল থেকেই সাজো-সাজো রব ছিল স্কুলে। কিন্তু তার মধ্যেই ছিল একটু তেনা সুর। এই বছর আর বাইরে থেকে পুরোহিত ডেকে নয়, ষোড়শেপচারের নিয়ম মেনে রীতিমতো মন্ত্র উচ্চারন করে ঘট স্থাপনের পর পাট শলা দিয়ে বাগদেবীর প্রান প্রতিষ্ঠা করলেন জয়াদেবী। হল যজ্ঞও। পেশাদার পুরোহিতের মতোই সমান তালে পাল্লা দিয়ে পুজো করে তাক লাগিয়ে দিলেন দিদিমণি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আলো সরকার বলেন, “হঠাৎই আমার মাথায় আসে, আমরাই তো বাড়িতে রোজকার পুজো করে থাকি। তবে আজকের দিনে বাগদেবীর পুজো আমরা করতে পারব না কেন। স্কুলের সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকে আইডিয়াটা জানাই। সবাই সায় দেন।”

সুমনা সরকার নামের এক শিক্ষিকা জানান, “বড়দিমণির কথামতো আমরা আদা-জল খেয়ে লেগে পড়ি। আমাদের স্কুলের জয়া চক্রবর্তী নামে এক শিক্ষিকাকে অনুরোধ করি পুজো করার জন্য। স্কুল ফান্ডের পাশাপাশি আমরা চাদা দিয়ে বাজার সারি। আজ পূজোর আয়োজনে পাশাপাশি স্কুলে পুজো উপলক্ষে খাওয়াদাওয়াও ছিল। সেখানে সবাই মিলে ফ্রায়েড রাইস ও ডিমের কারি পেট পুরে খাওয়া হয়।”

জয়া দেবী জানান বড়দিমণি ও অন্যান্য শিক্ষকেরা পুজো করার কথা বলার পরে তিনি আর না করতে পারেননি। “কিন্ত আমার প্রচণ্ড ভয় হচ্ছিল। এই সময় গত কয়েক দিন ধরে আমার পাশে দাঁড়ান আমারই সহকর্মী সুমনা সরকার। তিনি লাগাতার আমায় সাহস জোগাতে থাকেন। আমার স্বামী পেশায় পুরোহিত। বাড়িতে গত তিন দিন ধরে তিনি আমাকে পুজোর যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়ে তালিম দেন। অবশেষে আজ পুজো সারলাম। এখন খুব মানসিক শান্তি পাচ্ছি।”

Shares

Comments are closed.