যত দিন যাচ্ছে, তত জেদ বাড়ছে! এসএসসি-অনশনকে ‘রাজ্যের লজ্জা’ বলে সংহতি শঙ্খ ঘোষের

১৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশ দিনে পড়ল ওঁদের অনশন। নাগরিক সমাজ পাশে দাঁড়িয়েছে আগেই। দাবি উঠেছে, অনশনকারীদের দাবি শুনতে হবে সরকারকে। এই অবস্থাতেই অনশনকারীদের পাশে দাঁড়ালেন কবি শঙ্খ ঘোষ। স্বাভাবিক ভাবেই আরও একটু জোর পেল তাঁদের আন্দোলন। তাঁরা স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি না পাওয়া যুবক-যুবতীদের প্রতিনিধি। শত বিপত্তিতেও প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন থেকে সরেননি তাঁরা।

গত দু’দিনের বৃষ্টিতে অনশনরত চাকরিপ্রার্থীরা খোলা আকাশের নীচে ভিজেছেন অনেকেই। জানা গিয়েছে, এলাকাটি সেনাবাহিনীর আওতায় থাকায় ওখানে খুঁটি পুঁতে ত্রিপল টাঙানো যায় না। ফলে ঝড়বৃষ্টি থেকে বাঁচা যায়নি বলে জানান প্রার্থীরা। রবিবার সন্ধ্যার পরে শিলাবৃষ্টিতেও তাঁদের নাকাল হতে হয়। এর মধ্যেই সংহতি বার্তা আসে শঙ্খ ঘোষের তরফে।

সোমবার অনশন মঞ্চের এক প্রতিনিধি জানান, শঙ্খবাবুর মতো এক জন মানুষ যে তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন, এতে তাঁরা খুব খুশি। ওই প্রতিনিধির কথায়, “এর আগেও তো অনেকেই আমাদের সমর্থন করেছেন, কিন্তু কিছুতেই সরকারের কোনও হেলদোল হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী নিজে এসে আশ্বাস দেওয়ার পরেও কিছু হয়নি। যত দিন যাচ্ছে, আমাদের জেদ বাড়ছে। এটাই আমাদের মধ্যে অনেকের শেষ সুযোগ। তাই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। যত দিন না শিক্ষামন্ত্রী বা এসএসসি চেয়ারম্যান লিখিত ভাবে কিছু জানাচ্ছেন, তত দিন আন্দোলন চলবে। মুখের কথায় আগে অনেক বার ভুলেছি। আর নয়। আশা করি শঙ্খবাবুকে দেখে সমাজের আরও অনেক মানুষ আমাদের সমর্থন জানাবেন।”

শঙ্খ ঘোষ

একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে অনশনকারীদের সংহতি জানিয়েছেন শঙ্খ ঘোষ। এসএসসি যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের প্যাডে শঙ্খবাবু লিখেছেন, “রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে এঁদের মধ্যে জনা পঞ্চাশেক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। শহরের প্রায় কেন্দ্রস্থলে সবারই চোখের সামনে এমনও যে ঘটে চলেছে, তার জন্য রাজ্যবাসী হিসেবে লজ্জা হওয়া উচিত।”

অনশনকারীদের দাবিগুলি কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করারও অনুরোধ জানান তিনি অনশনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল রবিবার শঙ্খ ঘোষের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে।

তানিয়া শেঠ নামে এক অনশনকারী জানান, শুক্রবার বিকেলে চার জন প্রতিনিধি তাঁদের অবস্থার কথা জানাতে শঙ্খবাবুর বাড়িতে যান। ‘‘শঙ্খবাবু আমাদের কথা মন দিয়ে শোনেন। তার পরে আমাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। কেঁদে ফেলেন শঙ্খবাবু। উনি আমাদের সমর্থনে কিছু কথা বলেন। সরকারকে অনুরোধ করেন, আমাদের দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে। ওঁর বলা সেই কথাগুলো আমরা লিখে নিই। সেই লেখা কিছু সংশোধন করে নীচে স্বাক্ষর করে দেন শঙ্খবাবু।’’– বলেন তানিয়া।

সেই সঙ্গে তানিয়া বাকি অনশনকারীদের হয়ে এ কথাও নিশ্চিত করে দেন, যে “যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা অনশনে বসেছিলাম, তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা একচুলও সরব না দাবি থেকে।”

শুরুর দিকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও গিয়েছিলেন অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে। তার পরে একটি প্রতিনিধি দলকে বিকাশ ভবনে দেখা করতে বলেন। কিন্তু সেই আলোচনাতেও কোনও সুরাহা মেলেনি। তাই অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এসএসসি উত্তীর্ণরা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, বিভিন্ন জেলার স্কুলে স্কুলে বহু পদ খালি। তা সত্ত্বেও নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বহু শিক্ষকপদে প্রার্থীর নাম ওয়েটিং লিস্টে তুলে এসএসসি-কর্তৃপক্ষ চুপচাপ বসে আছেন। শূন্য পদের বিষয়টি ‘আপডেট’ করা হচ্ছে না। ফলে প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছেন না। অবিলম্বে তাঁদের নিয়োগের ব্যবস্থা করার দাবিতে মেয়ো রোডে প্রেস ক্লাবের সামনে বসে অনশন করছেন অন্তত ৪০০ চাকরিপ্রার্থী। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৫০ জন অনশনকারী। প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনে দেখা গিয়েছে এমনও দৃশ্য, যেখানে এক বছর ছাব্বিশের তরুণী কোলে সদ্যোজাত শিশু নিয়ে অনশনে বসেছেন।

যদিও কমিশনের এ সবে হেলদোল নেই। কমিশন দাবি করেছে, কাউন্সেলিং চলছে। ধাপে ধাপে সবটাই হবে। সেই সঙ্গে এটাও জানানো হয়, ওয়েটিং লিস্টে থাকা সকলে চাকরির সুযোগ না-ও পেতে পারেন!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More