বিদ্রোহের পথ থেকে সরছেন না শচীন পাইলট, অল্পের জন্য গরিষ্ঠতা রক্ষা গেহলোটের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজস্থানে রাজনীতিতে টালমাটাল থামার লক্ষণ নেই। মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট। উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট সেখানে উপস্থিত হননি। মিটিং-এ আরও কয়েকজন অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। রাজ্যে সরকারপক্ষে আছেন ১২২ জন বিধায়ক। কিন্তু আপাতত মনে হচ্ছে, বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পেতে যতজন বিধায়ক দরকার, তার চেয়ে মাত্র একজন বেশি বিধায়ক আছেন গেহলোটের সঙ্গে।

২০০ আসনবিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন ১০৭ জন। ১৩ জন নির্দল বিধায়ক কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন। এছাড়া সরকারের পক্ষে ছিলেন ছোট দলগুলির আরও পাঁচজন বিধায়ক। কিন্তু মঙ্গলবারের বৈঠকের পর মনে হচ্ছে, সরকারের পক্ষে আছেন ৯০ জন কংগ্রেস বিধায়ক, সাতজন নির্দল বিধায়ক এবং ছোট দলগুলির পাঁচ বিধায়ক।

সোমবার রাতে রাজস্থানের পর্যটন মন্ত্রী বিশবেন্দ্র সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ১০ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, ১৬ জন বিধায়ক বসে আছেন। সেখানে অবশ্য শচীন পাইলটকে দেখা যাচ্ছে না। ভিডিও-র নীচে লেখা হয়েছে, ‘ফ্যামিলি’। একটি সূত্রে খবর শচীন পাইলটের সঙ্গে এখন আছেন ২০ জন বিধায়ক। তাঁদের ১৭ জন কংগ্রেস নেতা। বাকিরা নির্দল। বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়কদের মধ্যে দু’জন রাজস্থানের মন্ত্রী।

ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি নামে এক ছোট দলের দু’জন বিধায়ক আছেন রাজস্থানে। ওই দল কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগে তারা সমর্থন তুলে নিয়েছে। দুই বিধায়ককে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ থাকতে হবে। অশোক গেহলোট বা শচীন পাইলট, কাউকে সমর্থন করা চলবে না। দুই বিধায়ক অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে থাকতে পারেন।

অনেকের ধারণা, প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো শচীন পাইলটও বিজেপিতে যোগ দেবেন। গত মার্চে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ জ্যোতিরাদিত্য মধ্যপ্রদেশে ২২ জন বিধায়ক সহ বিজেপিতে যোগ দেন। ফলে কমলনাথের কংগ্রেস সরকারের পতন ঘটে। ফের সরকার গড়ে বিজেপি। একটি সূত্রে খবর, ওই সময় থেকেই রাহুল গান্ধীর অপর ঘনিষ্ঠ শচীন পাইলটের সঙ্গে কথাবার্তা চলছিল বিজেপির। যদিও শচীন বলেছেন, বিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই।

রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী না হতে পেরে আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন শচীন। গত রাজ্যসভা ভোটের পরে পুলিশ তাঁকে ডেকে পাঠায়। পুলিশের বক্তব্য, তারা ফোনে আড়ি পেতে শুনেছে, শচীন রাজস্থানে সরকার ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ ডেকে পাঠানোয় শচীন খুবই অসন্তুষ্ট হন। যদিও অশোক গহলৌত ব্যাপারটায় খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, পুলিশ আমাকেও অমন সমন পাঠিয়েছে।

রাজস্থানে বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৭৩। সরকার গড়তে হলে তাদের ৩৫ জন বিধায়কের সমর্থন লাগবে। কিন্তু বিজেপির পক্ষে শচীনকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ অফার করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ তারা ক্ষমতায় এলে অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রী পদের জোরালো দাবিদার হবেন বসুন্ধরা রাজে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More