রবিবার, নভেম্বর ১৭

ডিএ-র দাবি ভিক্ষা নয়, শাসক দলেই উল্টো সুর, সব্যসাচীর বিরুদ্ধে মমতাকে নালিশ করবেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিএ নিয়ে ‘ঘেউঘেউ’ করবেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়ের এমন মন্তব্যের পরে বিরোধীদের মূল বক্তব্যই ছিল, মহার্ঘ ভাতা কোনও দয়ার দান নয়, এটা অধিকার। সেটা মানতে চায়নি সরকার। এমনকি ‘স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল’(স্যাট)-ও জানিয়ে দেয়, মহার্ঘভাতা দেওয়া বা না দেওয়াটা পুরোপুরি রাজ্যের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। এরও পরে কলকাতা হাইকোর্ট অবশ্য বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে বলে, মহার্ঘ ভাতা কর্মচারীদের প্রাপ্য অধিকার।

সেই বিতর্কই যেন নতুন করে উস্কে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসেরই বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। শুক্রবার আইএনটিটিইউসি-র বিদ্যুৎকর্মী শাখার বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন সব্যসাচী। সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবনে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রাজ্য বিদ্যুৎ কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সব্যসাচী দত্ত কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ-র দাবিতে ধর্নায় বসেন বিদ্যুৎ দফতরের অফিসের ভিতরেই। প্রশ্ন ওঠে, শাসকদলের বিধায়ক হয়ে তিনি কী ভাবে এই আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন। এর জবাবেই সব্যসাচী বলেন, কর্মীদের ডিএ-র দাবিতে এই বিক্ষোভ। আর ডিএ চাওয়া ভিক্ষা বা সাহায্য চাওয়া নয়।

তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তথা সল্টলেকের মেয়রের গলায় এমন মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই দলকে অস্বস্তিতে ফেলবে। রাজ্য সরকার যখন সরকারি কর্মচারীদের ডিএ তথা বেতন বৃদ্ধি নিয়ে রীতিমতো নাস্তানাবুদ তখন সব্যসাচী নতুন করে বিড়ম্বনায় ফেললেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন বিদ্যুৎ ভবনে যে ভাবে আন্দোলন হয়েছে সেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নালিশ জানানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “কেউ ট্রেড ইউনিয়ন করতেই পারে। তবে ট্রেড ইউনিয়ন করা মানে ভাঙচুর করা নয়। ও আমার ভাইয়ের মতো, ওর কিছু অভাব অভিযোগ থাকলে আমায় জানাতে পারতো। তবে ও যে ভাবে ওখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে এটা ঠিক করেনি। আমি আমার নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীকে পুরো বিষয়টা জানাবো। আর ও একটা দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে এই ঘটনা কী ভাবে ঘটাল? আমি সবটাই জানাবো নেত্রীকে।”

দলের সঙ্গে নতুন নতুন ইস্যুতে সব্যসাচী দত্তের সংঘাত লেগেই চলেছে। এদিন সেটাই যেন নতুন মাত্রা নিল।

Comments are closed.