সুজিতকে ফোন সব্যসাচীর, দমকল মন্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার খোঁজ নিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তাঁদের। এক জন বিধাননগরের বিধায়ক। অন্যজন তখন বিধাননগরের মেয়র। রাজনীতির ময়দানে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা এখন বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। কারণ, সুজিত বসু আর শুধু বিধায়ক নন, দমকল মন্ত্রী। আর সব্যসাচী দত্ত এখন মেয়র পদে নেই ঠিকই, কিন্তু বাংলায় তৃণমূলের অন্যতম প্রতিপক্ষ বিজেপির রাজ্য সম্পাদক।

    তবে ব্যক্তিগত সৌজন্যের সম্পর্কে রাজনীতি বাধা হল না। করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছেন দমকল মন্ত্রী। বুধবার দুপুরে তাঁকে ফোন করেন সব্যসাচী দত্ত। সে সময়ে অবশ্য ফোন বেজে যায় বলে, টেক্সট মেসেজ করে রাখেন—‘টেক কেয়ার, গেট ওয়েল সুন!’ তবে বিকেলে ঘুরিয়ে তাঁকে ফোন করেন সুজিত।

    কী কথা হয়েছে তাঁদের?

    এ ব্যাপারে সব্যসাচী দত্তকে ফোন করা হলে তিনি জানান, খুবই সাধারণ কথা হয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, “এখন কেমন আছিস। ও বলল ঠিকই আছি। বাড়িতেই রয়েছি। বিশেষ অসুবিধা নেই। বৌদির কথাও জানতে চাইলাম। তার পর সুজিতই বলল, ছেলের শরীরেও সংক্রমণ হয়েছে। আমি শুনে বললাম, ছেলেকে সঙ্গে রাখলি কেন? ও বলল, কী করব, ও আমার সঙ্গেই থাকবে বলল। ব্যস এটুকুই। সাবধানে থাকতে বললাম।”

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সল্টলেকে ক্রমশ ছড়াচ্ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সব্যসাচী। তিনি জানান, তাঁর ওয়ার্ডেও দু’জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

    ফাইল চিত্র।

    রাজ্য রাজনীতির অনেকের মতে, সুজিত–সব্যসাচীর মধ্যে এই কুশল বিনিময় দেখতে গেলে বড় ঘটনা নয়। আবার রাজ্য রাজনীতির নিরিখেও বড়ও বটে। বাংলার রাজনীতিতে প্রতিপক্ষদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কে অনেক দিন ধরেই ভাঁটা চলছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যেন রাজনৈতিক শত্রু। অথচ বহু রাজ্যে দেখা যায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক অসাধারণ। ঘরোয়া আলোচনায় এ ব্যাপারে একবার মহারাষ্ট্রের ঘরানার উদাহরণ দিয়েছিলেন কেন্দ্রে বর্তমান মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। তিনি বলেছিলেন, নাগপুরে কংগ্রেসেরই এক নেতার সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক দ্বৈরথ চলছে বহুদিন ধরে। কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে তাঁরা পরম বন্ধু। এতোটাই যে ওই কংগ্রেস নেতার পারিবারিক উইলের সাক্ষী তিনি।

    মহারাষ্ট্রের প্রসঙ্গ আপাতত থাক। এ টুকু বলা যায়, সুজিতবাবু সুস্থ হয়ে ওঠার পর এই সব্যসাচী দত্তের সঙ্গেই তাঁরও রাজনৈতিক দ্বৈরথ হয়তো আরও উচ্চগ্রামে পৌঁছতে পারে। কারণ, একুশের নির্বাচনে বিধাননগরে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে বিজেপির হয়তো প্রার্থী হতে পারেন সব্যসাচী দত্ত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More