রবিবার, অক্টোবর ২০

পুলিশ পাহারায় শবরীমালা মন্দিরের খুব কাছে দুই মহিলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবারই কয়েকশ বিক্ষোভকারীর তাড়ায় কেরলের শবরীমালা মন্দিরের খুব কাছ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে ১১ জন মহিলা একটি দলকে। তাতে দমে না গিয়ে সোমবার মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন দুই মহিলা। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য বিরাট পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুর অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী মন্দিরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন দু’জন। বিক্ষোভকারীরাও তৈরি। দুই মহিলা শেষ অবধি ঢুকতে পারেন কিনা সেদিকে নজর রাখছেন অনেকে।

দুই মহিলার একজনের নাম বিন্দু, অপরজনের দুর্গা। বিন্দুর বাড়ি মালাপ্পুরমে। দুর্গার বাড়ি কোঝিকোড়ে। তাঁরা বলেছেন, আমরা আয়াপ্পা দেবতার কাছে প্রার্থনা করতে এসেছি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ভরসা পেয়ে মন্দিরে যাচ্ছি আমরা। আশা করি, পুলিশ আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।

বিন্দু ও দুর্গা এখন মারাক্কোটাম অঞ্চলে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে মন্দিরের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। তাঁরা আপাতত থেমে গিয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা দিয়ে মন্দিরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও পুলিশ আসছে। সেই পুলিশবাহিনী মারাক্কোটামে পৌঁছলে দু’জন ফের যাত্রা শুরু করবেন।

এর আগে দু’জনকে আপ্পাচিমেডু অঞ্চলে আটকেছিল বিজেপি সমর্থকরা। পুলিশ তাদের হটিয়ে দিয়েছে।  বিজেপি এখন দুই মহিলার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।

শবরীমালা মন্দির খোলা থাকবে আর মাত্র তিনদিন। ৪১ দিন খোলা থাকার পরে আগামী ২৭ ডিসেম্বর বন্ধ হবে মন্দির। মন্দিরটি যে পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত তার নীচে জড়ো হয়েছেন কয়েক হাজার দর্শনার্থী। মন্দির থেকে চার কিলোমিটার দূরে পম্বা নামে এক জায়গা থেকে হেঁটে শবরীমালায় যেতে হয়।

২৩ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর মহিলা সংগঠন মানিথি-র সদস্যরা মন্দিরে ঢুকতে চেষ্টা করেছিলেন। তারও আগে প্রায় এক ডজন মহিলা মন্দিরে ঢুকতে চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রত্যেককেই বিক্ষোভকারীদের তাড়ায় ফিরে আসতে হয়েছে।

নিয়মমতো শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলাদের ঢুকতে দেওয়া হয় না। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই নিয়ম অসাংবিধানিক। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়েই। ভক্তরা যাতে কোনভাবে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য কেরল হাইকোর্ট তিন সদস্যের এক কমিটি গড়ে দেয়। তাদের কাজ মন্দিরের আশপাশে আইন-শৃঙ্খলার দিকে নজর রাখা।

শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ করার বিষয়টিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে হাজার বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও একযোগে মহিলাদের প্রবেশের বিরোধিতা করছে কংগ্রেস আর বিজেপি।

Comments are closed.