সোমবার, এপ্রিল ২২

আমার গান শোনার পরেও খারাপ লাগা অসম্ভব!

হাতে বেশি সময় নেই, অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে ডাক্তারের সঙ্গে। আগেই বলে রেখেছিলেন তিনি। তাই কাঁটায়-কাঁটায় সময়মতোই দক্ষিণ কলকাতায় রূপম ইসলামের ফ্ল্যাটে শেষ বিকেলে পৌঁছে গেলাম আমরা, দ্য ওয়ালের তরফে দুই প্রতিনিধি শ্যামশ্রী দাশগুপ্ত ও তিয়াষ মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে ক্যামেরায় ইমন নিধারিয়া। উল্টো দিকে রইলেন অকপট রূপম।

রূপম তখন কম্পিউটারে মগ্ন। ঘর জুড়ে জ্বলছে বাইরের বিকেলের সঙ্গে তাল মেলানো নরম কমলা আলো। একটু বসতেই এল লাল চা। কাপ হাতেই শুরু হল আড্ডা। গান, নতুন গান, ভাল গান নিয়ে কথা উঠতেই নিজে থেকেই সবার প্রথমে বললেন একক অনুষ্ঠানের কথা। বললেন, সাধারণ অনুষ্ঠানের থেকে এই ‘রূপম ইসলাম একক’ কী ভাবে আলাদা হয়ে উঠছে। বোঝা গেল, গতে বাঁধা স্টেজ কাঁপানোর চেয়ে নিজস্ব পারফরমেন্স বেশি ভালবাসছেন তিনি।

বললেন, “আমার যে সমস্ত অনুষ্ঠানে সবাই যায়, সেখানে যে সমস্ত জনপ্রিয় গান আবশ্যিক ভাবে গাওয়া হয়, ‘বিষাক্ত মানুষ’, বা ‘হাসনুহানা’ বা ‘খোঁড়ো আমার ফসিলস’ বা ‘একলা ঘর’ বা সিনেমায় ব্যবহৃত ‘বেঁচে থাকার গান’—এই ধরনের কোনও গানই আমি আমার নিজের অনুষ্ঠানে, অর্থাৎ রূপম ইসলাম এককে গাই না। তবে সেখানেও যেগুলো গাই, ধরো ‘আমি যাই’, ‘দানিকেন’…এগুলোও দেখি সকলেই জানেন। এককে ওই মজাটা আছে, এমন কিছু গান শোনা যাচ্ছে, যেগুলো হয়তো ফিউচার হিটস। এই চাহিদা মেনেই একক অ্যালবামও করছি।”

আর একক অনুষ্ঠানের প্রতি ভালবাসার কথা বলতে বলতে গিয়েই বুঝিয়ে দিলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আয়োজকদের দাবিদাওয়া মেনে কিছু গাইতে হয়, কিন্তু এককে তা নয়। সেটা তাঁর নিজের দাবির জায়গা, নিজের ইচ্ছে মতো গাওয়ার জায়গা। তথাকথিত জনপ্রিয় হোক, বা ততটা জনপ্রিয় না হোক। এবং সেই সঙ্গে এটাও বলে দিলেন, জনপ্রিয়তার ঊর্ধ্বে, তাঁর বহু গানই ঐতিহাসিক। বললেন, “আমি এখন বুঝতে পারি, যত বয়স হচ্ছে, তত আমার গানগুলোর ধার বাড়ছে, ভার বাড়ছে। শুধু জনপ্রিয়তা নয়। যদিও লোকে বলে আমার জনপ্রিয় গানগুলোও ইতিহাসের এক একটা মাইলফলক। কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করি না। আমার মনে হয় আমার এখনকার গানগুলোই আরও অনেক বড় সৃষ্টি, এবং আক্ষরিক অর্থেই ঐতিহাসিক।”

স্বাভাবিক ভাবেই উঠল ফসিলসের প্রসঙ্গ। ফসিলসে তাঁর অনেক গান গাওয়া হয়। পরিচিতি বাড়ে। কিন্তু সব গান নয়। ফসিলসে গাওয়া হয় না এমন গানগুলোর মধ্যেও আবার প্রিয় এবং জনপ্রিয় গানের সংখ্যা প্রচুর। বললেন, “অনেক গানই এখন তুলে নিচ্ছে ফসিলস। কিন্তু কিছু আবার তুলছেও না। যেমন আমার সব চেয়ে বড় এবং সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টো গান, আমি মনে করি, ‘দেয়ালিপি’ আর ‘আদমের সন্তান’। এরা ফসিলসে নেই। তেমনই ‘আমি যাই’, তুমুল জনপ্রিয়, যা দিয়ে আমি একক শেষ করি। পুরো অডিয়েন্স সঙ্গে গায়। এটাও ফসিলস নেয়নি। ফলে এটা আমাকেই একক গাইতে হবে। আমাকেই অ্যালবাম করতে হবে। ফসিলস করলে বেস্ট হয় বলেই আমি মনে করি, কিন্তু যেগুলো ওরা করে না, সেগুলো আমাকেই করতে হয়।”

দ্য সেনসেশন

কোনটা ফসিলস করবে আর কোনটা করবে না, এ বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তের চেয়ে ব্যান্ডের গণতন্ত্রকেই এগিয়ে রাখেন তিনি। যদিও ব্যক্তিগত জীবনে গণতন্ত্র নয়, তাঁর বিশ্বাস, ‘বেনিভোলেন্ট ডেসপসিজ়ম’। অর্থাৎ মঙ্গলকামী স্বৈরতন্ত্র। হেসে হেসে বললেন, “আমি সম্রাট হলে সবাইকে সুখ-শান্তি দেব। কিন্তু সেটা দিতে গেলে অনেককে আমায় মারতেও হবে।” অনেকটা যেন ‘রং দে বাসন্তী’।

আজ অবধি কয়েক হাজার ইন্টারভিউ দেওয়া হয়েছে। সব চেয়ে বোরিং প্রশ্ন কী ফেস করতে হয়েছে রূপমকে? জিজ্ঞেস করলাম মজা করে।

উত্তর এল, ক্লান্ত গলায়। “ওই যে, সেই গতে বাঁধা কিছু কথা… কী ভাবে এলেন, ব্যান্ড করলেন কেন, রক কেন… কয়েক কোটি বার বলেছি। তা-ও লোকে জানতে চায়। প্রথম প্রথম খুব আগ্রহ নিয়ে বলতাম। এখন মনে হয় এগুলো সবাই জানে। ২০ বছর কেটে গিয়েছে, আর কেন!”

২০ বছর লোকে জানলেও, আসলে এই গানজীবন ৪০ বছরের। এমনটাই বললেন ৪৪ বছরের রূপম। বলতে গিয়ে ফিরে গেলেন ছোটবেলায়। মনে করালেন সেই চার বছর বয়সের প্রথম পারফরমেন্স, আর তার পর থেকেই মাঝে মাঝেই ছড়া বাঁধা, সুর করার কথা। মায়ের লেখা অসংখ্য লিরিক্সে সুর করার কথা। সঙ্গীতময় ছোটবেলার কথা বলতে গিয়ে নস্টালজিয়া না আসাই অস্বাভাবিক।

চমক ভাঙল রূপের কথায়। রূপম-রূপসার ছেলে। ভাল ডাইনোসর আর খারাপ ডাইনোসরের জীবনদর্শন নিয়ে প্রচণ্ড গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন নিয়ে এল আট বছরের খুদে। “আমায় কথা বলে নিতে দাও রূপ, পরে আসছি তোমার কাছে”— বলে রূপম ফিরলেন ইন্টারভিউতে।

“৪০ বছরের জার্নি। উঠছি তো বটেই। আমি কাজ থামাইনি। রোজ উঠছে কাজের গ্রাফ, আরও উঠবে। কারণ আমি কাজটা করতে জানি, করি, করব। আমার কাছে কোয়ালিটির সঙ্গে আপস নেই। আর একটা বিষয় হচ্ছে, জনগণ আমায় ভালবাসে। আমি হাজার ভাল কাজ করলেও কিছু করতে পারতাম না, যদি না মানুষ ভালবাসত। কিন্তু মানুষ আমায় চায়। আর আমি যা গতিপ্রকৃতি বুঝছি, এই ভালবাসাটা এই মুহূর্তে বদলানোর কোনও সম্ভাবনা নেই। জনগণ যত দিন না আমায় ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে তত দিন আমার গ্রাফ নামবে না।”—প্রত্যয়ী কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের ছাপ প্রকট।

হবে না-ই বা কেন। রূপম ইসলামকে ঘিরে বর্তমান প্রজন্মের উন্মাদনা নিয়ে কোনও দ্বিতীয় কথার অবকাশ নেই। তবে এই উন্মাদনা যে হাওয়ায় হাওয়ায় গড়ে ওঠেনি, তা-ও রূপমের কথাতেই স্পষ্ট হল। “এতগুলো বছর ধরে এত বেশি পরিমাণে কাজ করছি তো টানা। বছরে দু’টো করে অ্যালবাম, এক রকম অবিশ্বাস্য ব্যাপার! ভাল গানের অ্যালবাম, ভাল কাজ। একটানা। কী করে পড়বে আমার কাজের গ্রাফ?”

কোথাও কি ভয় কাজ করে? ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়, মানুষ ভুলে যাবে—এমন ভয়?

সরাসরি ভয় না হলেও মানুষের ভুলে যাওয়াটা যে এই সময়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, তা মানলেন রূপম। বললেন, “এখন আমি যে বয়সটার দিকে এগোচ্ছি, তাতে কাজের গ্যাপ পড়ে যাওয়া মানে মানুষ ধরে নিতেই পারে, এবার ফুরিয়ে আসছি। তার ওপরে, এই সময়টা এমন একটা সময়, যেটাকে এক ধরনের ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ বলা যায়। এই পিরিয়ডে টানা অ্যাকটিভ থাকাও খুব জরুরি।”

কী রকম?

“এখন বেশ কিছু দিন ধরে, গান প্রকাশের ফর্মা বদলে গিয়েছে। আগে রেকর্ড ছিল, সেখান থেকে ক্যাসেট এল। তার পরে সিডি। এখন আর সিডিও করে না কেউ। সবটাই অনলাইনে, বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে প্রকাশিত। এই শেষ ট্রান্সফর্মেশনটাও মানুষের নিতে, বুঝতে সময় লেগেছে, লাগছে। আমার মনে হয় এই সময়টায় টানা কাজ ধরে রাখা খুব জরুরি। এটা নিতে গেলে মানুষকে আগে টেক-স্যাভি হতে হয়েছে। মানুষকে বুঝতে হয়েছে, তার গান কেনার দোকান এখন বিভিন্ন অডিও প্ল্যাটফর্ম বা ইউটিউব বা ফেসবুক।”—বুঝিয়ে বললেন রূপম। সঙ্গে বললেন, গানের ধরন বদলে যাওয়ার কথা। গান যে শুধু শোনার জিনিস নয়, একটা সম্পূর্ণ বিনোদন, এই পরিবর্তনটা বোঝার কথা।

“এক সময় পর্যন্ত মিউজ়িক ভিডিও করার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হতো। গানের কোম্পানিগুলো এই ইনভেস্টমেন্ট করতে চায়নি। গান যে দেখারও জিনিস, তা বুঝতে সময় লেগেছে অনেকটা। তার পরে এল সিনেমার গান। ভাল চলল। এর অনেক পরে কনসেপ্ট এসেছে আলাদা গানের মিউজ়িক ভিডিও। কিন্তু এক সময়ে দেখা গেল, গায়কের কষ্ট করে বানানো মিউজ়িক ভিডিও, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নিয়ে নিতে শুরু করল, যেহেতু গানটা তারা প্রকাশ করেছে। কিন্তু কেন দেব আমি সেই ভিডিওর অধিকার?”—এই জায়গা থেকেই তৈরি হল রূপমের নিজের কোম্পানি। বাংলা রক। যেখানে গান, ভিডিও— সব নিজের। “আর এই ভাবে নিজে খেটে তেমনই সাফল্য পাচ্ছি। আর্থিক লাভের চেয়েও বড় ব্যাপার, অন্য কেউ ঠকাচ্ছে না। শুধু তা-ই নয়। এভাবে ভাল কাজ করতে গিয়ে দেখতে লাগলাম, জাতীয় স্তরের সমস্ত গানগুলোর মধ্যে একেবারে প্রথম দিকে থাকছে আমাদের গান। অর্থাৎ মানুষ শুনছে, ভালবাসছে! আমার গান তো ভাল গান, সুস্থ রুচির গান। মানুষ ভালবাসবে। তা হলে কেন আমি শুধু শুধু অন্য কারও মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে থাকব!”— স্পষ্ট বক্তব্য তাঁর।

সুস্থ রুচি কেমন হবে? রূপমের কাছে সুস্থ রুচির গান কোনটা?

“এই প্রশ্ন পাঠককেই করছি। তাঁর কাছে সুস্থ রুচি কোনটা? সেই জায়গা থেকে তিনিই ঠিক।”—খানিক যেন এড়িয়ে যাওয়া উত্তর। তত ক্ষণে রূপসা জানালেন, এক ঘণ্টা পিছিয়েছে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট। এ যেন মেঘ না চাইতেই জল! এই অতিরিক্ত একটা ঘণ্টা তা হলে আমরাই পাব তো? এরকম একটা মনোভাব নিয়ে রূপমের দিকে তাকাতেই দেখলাম ওঁর চোখেও সম্মতি এবং প্রশ্রয়। খানিক আগ্রহও। সব বলা যেন শেষ হয়নি এখনও।

তাই আগের প্রশ্নটার রেশ ধরে থাকলাম আর একটু শক্ত করে। সাহস করে বলেই ফেললাম, “তা কেমন করে হয়, সবার ভাল লাগা এক হবে? তোমার গানও তো অনেকেরই ভাল লাগে না।” ব্যাখ্যা করি, অনেক মানুষ এখনও তথাকথিত ‘স্বর্ণযুগ’ থেকে বেরোননি। পুরনো বাংলা সিনেমার পরে আর গান হয়নি বলে মনে করেন। বা হলেও, তা মেলডি এবং রাগাশ্রয়ী গানেই সীমাবদ্ধ। রক নয়। তাঁদের জন্য রূপম কী বলবেন?

নীরবতা কিছু ক্ষণ। তার পরে কাটা কাটা উত্তর। “ওঁরা আমার গান শোনেননি। আমি প্রমাণ করে দিতে পারি। ওঁরা কোনও দিন আমার কোনও গান শোনেননি। আমার গান একলা বসে শুনতে হবে শ্রোতাকে। বুঝতে হবে। ভাল লাগতে বাধ্য। আমার গান ঐতিহাসিক। সেটা খারাপ লাগা অসম্ভব! তবে ভাল লাগানোর চেষ্টাটাও জরুরি। আমার নিজের কথা বলি। বব ডিলান ভাল লাগেনি আমার। একটুও ভাল লাগেনি। তার পর শুনলাম। ভাল লাগানোর মতো করে শুনলাম। মনে হল, বব ডিলানের মতো গান কেউ বানায়নি পৃথিবীতে। আমার গানও তাই। শুনতে হবে আগে।”

“তুমি নিশ্চিত, শুনলেই ভাল লাগবে?”—জেদ করেই যেন করে ফেলি পরের প্রশ্নটা।

“হ্যাঁ। যার ভাল লাগেনি আমার গান, সে চালিয়েই ভাল লাগেনি বলে বন্ধ করে দিয়েছে। শোনেনি। শুনলে পর ভাল লাগতই। এমন শ্রোতা নেই আমার, যে আমার গান শোনার পরে বলেছে ভাল লাগেনি। আমার গান ভাল। ভাল বলেই সারা পৃথিবীর মানুষ ভালবেসেছেন। ভাল গান মানুষের ভাল লাগতে বাধ্য।”

“এটা কি ওভার কনফিডেন্স নয়?”—প্রশ্ন করেই একটু ভয় হল, রেগে যাবেন না তো? বদলে হেসে ফেললেন। হাসিমুখেই খুব শান্ত গলায় বললেন, “আমি আমার নিজের গানের সব চেয়ে বড় সমালোচক। আমি যেমন আমার গানের নির্মাতা, তেমনি আমি তো আমার গানের শ্রোতাও। তাই আমি জানি, ভাল গান ভালই হয়। ভাল গান মানুষের খারাপ লাগে না। লাগতে পারে না।”

আরও ভাল করে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রূপম খালি গলায় দু’লাইন গাইলেন, ‘বিষাক্ত মানুষ।’ বাংলার রকের অ্যানথেম বলে পরিচিত এই হার্ড রক গানই যেন ধরা দিল নির্ভেজাল মেলডি হয়ে। রূপম বোঝালেন, “গানের শব্দ, সুর, যন্ত্রানুষঙ্গ—এই প্রতিটি জিনিসের নিজস্ব চরিত্র আছে। বাংলা রক কিন্তু অনুবাদ নয়। আমি বাংলা সঙ্গীত দিয়েই পুষ্ট। আমি সেই বাংলা গানকেই এক্সপ্যান্ড করেছি। বাংলা গানের দিগন্ত প্রসারিত করেছি। ভাল করে শুনতে হবে আমার গান। তা হলে বোঝা যাবে, কোনও চরিত্রকেই অন্য কোনও চরিত্র ঢেকে দেয়নি। এটা প্রথম বার শুনে না বুঝতে পারলেও, দ্বিতীয় বা তৃতীয় বারে বোঝা যাবেই। যিনি আমার গানকে খারাপ বলেন, তাঁর কাছে আমার একটাই প্রশ্ন। তিনি কি আদৌ শুনেছেন আমার গান?”

শুধু তাই নয়, রূপমের অভিযোগ, শ্রোতার এই পছন্দ-অপছন্দ নির্মাণ করার আগে বাংলা রক সম্পর্কে সঠিক তথ্যটুকুও পৌঁছচ্ছে না সকলের কাছে। প্রশ্ন করলেন, বাংলা রক বা আমার গান ভাল না বাসা মানুষেরা কি জেনেছেন, আমার বাংলা রক শুরু করার অন্যতম প্রথম গান ছিল… বলেই গিটারে ঝঙ্কার তুলে, বড় দরদ দিয়ে গাইলেন ‘মা’। বললেন, “এখনও ফসিলসের অনুষ্ঠান এই গান দিয়ে শুরু হয়। হলভরা দর্শক কাঁদেন। আসলে অনেকে জানেনই না, বিশ্বাসই করতে চান না, আমি গানটা শিখে তবে গাইতে এসেছি। অনেকে বুঝতেই চান না, ‘বাংলা রক’ কথাটায় দু’টো শব্দ আছে। বাংলা এবং রক।”—যা বোঝানোর বুঝিয়ে দিয়েছেন। বলে দিল তাঁর হাসি।

সব শেষে মনে হচ্ছিল, তাঁকেই বোধ হয় মানায় এমন কথা। দু’দশক ধরে বাংলা গানের জগতে, স্বতন্ত্র ধারায় রীতিমতে ‘রাজ’ করার পরে, তিনি বলতেই পারেন, নিজের গান নির্মাণে আর অন্য কারও মুখাপেক্ষী হবেন না তিনি। বলতেই পারেন, যত দিন কাজ করে যাবেন এবং ভাল কাজ করে যাবেন, যত দিন জনগণ ভালবাসবে, তত দিন কোনও কিছুকে পরোয়া করেন না। বলতেই পারেন, তাঁর গান ঐতিহাসিক! তাঁর গান খারাপ লাগা অসম্ভব! কতটা আত্মবিশ্বাস থাকলে তবে এমনটা বলা যায় স্পষ্ট গলায়!

এবং স্পষ্টতর গলায় এ-ও বলেন, “আমার গান মানুষের জন্য তৈরি হলেও, আমি সেই গানের মা-বাবা। আমার গানকে আমি ঠকাব না। সেরা জিনিসই তৈরি করব আমি। কমপ্রোমাইজ় করব না। এখনও পর্যন্ত যে ভালবাসা তৈরি হয়েছে, তা কমপ্রোমাইজ়ড জিনিস দিয়ে হয় না।”—শেষ বলে শুধু নয়, প্রতিটা বলেই ছক্কা মেরে ইন্টারভিউ শেষ করলেন রূপম।

Shares

Leave A Reply