শনিবার, নভেম্বর ১৬

লক্ষ্য বাংলা-ওড়িশা, ফের রাজ্যে মোহন ভাগবত, ডাক পেয়েছেন দিলীপরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার। ফের বাংলা সফরে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত৷ ৩১ অগস্ট কলকাতায় আসেন তিনি। আবার আসছেন ২১ সেপ্টেম্বর। তবে আগের সফরটি ছিল শুধুই বাংলার জন্য আর এবার বাংলা ও ওড়িশার রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। আর শুধু আরএসএস নয়, দুই রাজ্যের সঙ্ঘ পরিবারের সব সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বকেই ডাকা হয়েছে দু’দিনের এই বৈঠকে। শুধু বৈঠকও নয়, উলুবেড়িয়ায় সঙ্ঘের স্কুলে দু’দিন ধরে চলবে প্রশিক্ষণ বর্গও। জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচিতে মোট ৩৬টি সংগঠনের প্রধানরা ডাক পেয়েছেন। সকলেই দু’দিন তাঁতিবেড়িয়ার স্কুলে থাকবেন।

সব সংগঠনের নেতাদের নিয়ে সঙ্ঘের সমন্বয় বৈঠক নতুন কিছু নয়। রাজ্য থেকে জেলা সব স্তরেই নিয়মিত এমন বৈঠক হয়ে থাকে। বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ঠিকঠাক রাখতেই এই ধরণের বৈঠক হয়। কিন্তু সেই বৈঠকে সঙ্ঘপ্রধান তথা সর সঙ্ঘচালক উপস্থিত থাকাটা বেনজির। এর আগে এমন কোনও বৈঠকের কথা মনে করতে পারছেন না সঙ্ঘ কর্তারা।

আরএসএস-এর সাংগঠনিক বিচারে পশ্চিমবঙ্গ দুই রাজ্যে বিভক্ত। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ। আবার ওড়িশা পূর্ব ও পশ্চিমে বিভক্ত। এই চার সাংগঠনিক প্রান্তের সব সংগঠনের প্রধান পদাধিকারীরা ডাক পেয়েছেন এই বৈঠক ও বর্গে। সঙ্ঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠক হলে শুধুই আলোচনা হয় কিন্তু বর্গ মানে সেখানে আবাসিক থেকে সঙ্ঘের বিভিন্ন বৌদ্ধিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেই প্রশিক্ষণে যেমন সাংগঠনিক কাজকর্মের শিক্ষা নিতে হয় তেমনই ব্যক্তিগত বিকাশের পরামর্শ দেওয়া হয়। এবার সেই কাজটাই করবেন খোদ মোহন ভাগবত। সঙ্ঘ তো বটেই, বাংলা ও ওড়িশার বিজেপি থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতারা এই বৈঠক নিয়ে তাই বিশেষ ভাবে তৈরি হচ্ছেন। কারণ, মোহন ভাগবত বৈঠকে সকলের কাছে সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইতে পারেন।

দেশের বেশিরভাগ রাজ্যেই এখন বিজেপি ক্ষমতায়। কিন্তু বাংলা এবং ওড়িশায় শক্তিবৃদ্ধি করলেও এখনও ক্ষমতার অলিন্দ থেকে অনেকটাই দূরে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে মোহন ভাগবতের এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে সঙ্ঘের দাবি, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্কই নেই। আরএসএস এর রাজ্য প্রচার বিভাগের পক্ষে বিপ্লব রায় জানিয়েছেন, “সর-সঙ্ঘচালক শুধু সঙ্ঘ নয়, সব সম-মনোভাবাপন্ন সংগঠনের অভিভাবক। কিন্তু প্রতিটি সংগঠনই স্বাধীন ভাবে কাজ করে। সঙ্ঘ কাউকেই নিয়ন্ত্রণ করে না। সমন্বয়সাধন করে কাজ করে। এখন দেশে বেশ কিছু গুরুতর ইস্যু তৈরি হয়েছে। সেগুলি নিয়ে অভিভাবকের পরামর্শ মিলবে ওই বৈঠকে।”

কয়েকদিন আগে পুষ্করে এমনই এক বৈঠক হয়। সেই সমন্বয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সঙ্ঘের সহ সর-কার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে। সেখানেও সঙ্ঘ পরিবারের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছিল। তিন দিনের সেই বর্গের পর এবার রাজ্যে হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে তিনটি বিষয় সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। ৩৭০ ধারা অবলুপ্তি, নাগরিক পঞ্জি এবং সীমান্তের সমস্যা। এই তিনটি ইস্যুতে বরাবরই সরব সঙ্ঘ। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে এই বৈঠকে। এছাড়া সীমান্তের সমস্যা ও নাগরিক পঞ্জি বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কেমন বার্তা পৌঁছে দিতে হবে তা নিয়েও আলোচনা হবে।

এই বৈঠকে সরাসরি রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হবে না বলে সঙ্ঘের দাবি মেনে নিলেও এটা ঠিক, যে সব বিষয়ে সর-সঙ্ঘচালক দুই রাজ্যের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন তাতে বিজেপিই সব থেকে বেশি উপকৃত হবে। সব সংগঠনই ওই তিন ইস্যু নিয়ে প্রচারে ও জনসংযোগে নামলে তার মূল ডিভিডেন্ড মিলবে বিজেপির। তাই আগামী ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বরের দিকে রাজ্য রাজনীতির নজর থাকবেই।

Comments are closed.