গবেষণা বনাম জাতীয় স্বার্থ, ইস্তফা দিলেন কেরলের অধ্যাপিকা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পিএইচডি করার সুযোগ পাবে একমাত্র তারাই যারা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও বিষয়ে গবেষণা করতে চায়। এমনই সার্কুলার দিয়েছিল কেরলের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। সেই সার্কুলারের প্রতিবাদে বোর্ড অব স্টাডিজ থেকে পদত্যাগ করলেন অধ্যাপিকা মিনা টি পিল্লাই।

বিতর্কিত সার্কুলারটি দেওয়া হয়েছিল গত ১৩ মার্চ। তাতে লেখা আছে, প্রতিটি বিভাগের প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে তাঁরা ফ্যাকাল্টির সকলকে নিয়ে মিটিং ডাকুন। তাতে জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে গবেষণার জন্য কয়েকটি প্রজেক্ট স্থির করুন। পিএইচডি-র ছাত্ররা তার মধ্যে থেকেই কোনও একটিকে বেছে নেবে।

একইসঙ্গে সার্কুলারে বলা হয়েছে, ছাত্ররা যাতে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে গবেষণা না করে সেজন্য তাদের বুঝিয়ে বলুন। পিএইচডি-র সাবজেক্ট এমন হওয়া উচিত যার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের সম্পর্ক আছে। তাদের তেমন কয়েকটি সাবজেক্টের নাম বলুন। তারা সেগুলির মধ্যে থেকে বেছে নেবে।

অধ্যাপক পিল্লাই বলেছেন, ওই সার্কুলার পড়ে আমি রীতিমতো চমকে উঠেছিলাম। এই ধরনের একটা নির্দেশ সব বিভাগকে দেওয়া হয়েছে, অথচ কেউ কিছু বলছে না কেন? এর প্রতিবাদে আমি একটাই কাজ করতে পারতাম, বোর্ড থেকে ইস্তফা দেওয়া। পিল্লাই বোর্ড অব স্টাডিজ অব ইংলিশ অ্যান্ড কমপারেটিভ লিটারেচারের সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, আমার প্রতিবাদের গুরুত্ব খুবই কম। কিন্তু ইস্তফা দেওয়া ছাড়া আমি আর কীই বা করতে পারতাম।

পিল্লাইয়ের প্রশ্ন, কোন গবেষণার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের সম্পর্ক আছে আর কোনটার সঙ্গে নেই,  তা কে ঠিক করবে? গবেষণার ক্ষেত্র কেন এভাবে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হবে?

রবিবার বিষয়টি নিয়ে সরব হন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। গবেষণার ক্ষেত্র সীমাবদ্ধ করে ফেলার জন্য তিনি শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, স্বঘোষিত বিজ্ঞ ব্যক্তি প্রকাশ জাভড়েকর হলেন অতি বিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার সদস্য। তিনি এবার দেশের বুদ্ধিজীবীদের শেখাবেন, কোনটা করা উচিত আর কোনটা উচিত নয়। একটা প্রবাদ আছে, ‘এ লিটল লার্নিং ইজ এ ডেঞ্জারাস থিং’। কথাটা মিথ্যা নয়।

থিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর টুইটারে বলেন, ওই অধ্যাপিকা যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাতে সকলে শামিল হোন।

কেরলের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে। কিন্তু ওই সার্কুলার কে দিয়েছিল এখনও স্পষ্ট নয়। তাতে ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রারের সই আছে। অধ্যাপিকার ইস্তফার পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলে হয়েছে, আমরা লক্ষ করেছি, মিডিয়ায় ১৩ মার্চের একটি সার্কুলারের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More