গির্জার ঘণ্টায় মিশে যায় অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন, অন্য কিছু কানে আসে না রোমের কোনও প্রান্তে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন থেকে শুরু হলেও, ইতালিতে করোনা সংক্রমণ এক ভয়ঙ্কর মহামারীর চেহারা নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এই ইতালিই। মৃত্যুমিছিল থামানো যাচ্ছে না কিছুতেই। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্য়েই ছাড়িয়েছে ১০ হাজার। আক্রান্ত ছুঁতে চলেছে এক লক্ষ। এই অবস্থায় গোটা দেশজুড়েই যেন নেমে এসেছে শ্মশানের স্তব্ধতা।

    লক ডাউন অবস্থায় থাকা দেশে এখনও সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের কাজকর্মের ওপর নতুন নতুন করে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাড়ির পাশের কোনও মাঠে খেলাধুলা এবং বাড়ির বাইরে শরীরচর্চাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগে এ দু’টি বিষয়ে ছাড় ছিল। ফলে এখন কার্যত অ্যাম্বুল্যান্সের শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যায় না ইতালির পথঘাটে। মাঝে মাঝে অবশ্য বেজে ওঠে গির্জার ঘণ্টা। 

    রোমের সবচেয়ে বড় পার্কটি খাঁ খাঁ করছে। কয়েকদিন আগেও গুটি কয়েক শিশু আসত সেখানে। প্রাইমারি স্কুলের একজন শিক্ষক রবার্ট ফগ বলছিলেন, “আপনি এখন শুধু চার্চের ঘণ্টা শুনতে পাবেন। সেটা শুনতে ভালই লাগে। কিন্তু অন্য যেটা শোনা যাবে, সেটা হল অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন। এ ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই।”

    এই অবস্থায় রোমের প্রতিটি অভিভাবক তাঁদের শিশুদের নিয়ে চিন্তিত। তারা সংক্রামিত না হলেও, এই সংক্রমণের মানসিক প্রভাবে বিধ্বস্ত। এক কিশোরের মা টিফানি পার্কস বললেন, “আমার ছেলে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখছে। আমি জানি না করোনা আর ওর স্বপ্নের মধ্যে কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, কিন্তু ও প্রায় রাতেই স্বপ্নে মাকড়সা দেখছে। ইতালিতে এর আগে কেউ কখনও এরকম সময় দেখেনি। অনেকের বাড়িতেই খোলা জায়গা খুব কম, কিন্তু সবাই তার মধ্যেই নিজেদের মানিয়ে নিতে শিখছে।”

    মিলানের সান রাফায়েল ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রথম যখন ইতালিতে করোনার কোপ পড়ে, মানুষ বিশ্বাসই করতে চাননি এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে একটু একটু করে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। প্রথম মৃত্যু হয় ১৭ জনের। আক্রান্ত ২০০। এর পরেও সামাজিক মেলামেশা থামাননি মানুষজন।

    মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বেপরোয়া মনোভাবের কারণেই সংক্রমণ মহামারীর চেহারা নেয়। এখন দেশের উত্তর প্রান্ত পুরোপুরি লকডাউন। কোয়ারেন্টাইনে প্রতিটা বাড়ি। উত্তর ইতালিতে করোনা প্রথম থাবা বসালেও ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশেই। গত ১২ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করে সে দেশের সরকার। প্রথমে সেই লকডাউন ২৫ মার্চ পর্যন্ত থাকবে বলে ঘোষণা করা হলেও পরে তার মেয়াদ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ইতালিতে করোনার আক্রমণ বেড়েই চলেছে।  ইতিমধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জন চিকিৎসকের। মারা গেছেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মীও।

    “এক ঘন আঁধার নেমেছে আমাদের স্কোয়ারে, শহরে, রাস্তায়। প্রাণ ছিনিয়ে নিচ্ছে আমাদের। এক ভয়ানক নৈঃশব্দে ছেয়ে গেছে চারপাশ, সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে,” বলেছেন পোপ ফ্রান্সিস। এই ভয়নক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। “জেগে ওঠো, সংহতিই আমাদের শক্তি, ভরসা, বিশ্বাস দেবে,” আঁধার পেরিয়ে মুক্তির পথের বার্তা দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More