শনিবার, আগস্ট ১৭

রোহিত তিওয়ারিকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করেছে স্ত্রী অপূর্বা, জানাল পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোহিত তিওয়ারির মৃত্যু রহস্যের তদন্ত প্রায় শেষ। এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ নিশ্চিত জানিয়ে দিল,  রোহিত তিওয়ারির স্ত্রী অপূর্বাই তাঁর স্বামীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।

রোহিত তিওয়ারির মৃত্যুর পরে পেরিয়ে গিয়েছে এক সপ্তাহ। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন ডি তিওয়ারির পুত্র রোহিত তিওয়ারির মৃত্যুটি যে সাধারণ মৃত্যু নয়, তা নিয়ে সন্দেহ ছিলই গোয়েন্দাদের। সেই সন্দেহেরই নিরসন ঘটল। পুলিশ বুধবার গ্রেফতার করল তাঁর স্ত্রী অপূর্বা শুক্লাকে।

গত ১৬ এপ্রিল রোহিত তিওয়ারির রহস্যজনক মৃত্যুর পরে তিন দিন ধরেই পেশায় আইনজীবী অপূর্বাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে রোহিত তিওয়ারির মৃত্যু হৃদরোগে হয়েছে বলে মনে করা হলেও, জেরার পরে কিছু সন্দেহ হয় গোয়েন্দাদের।

দিল্লি পুলিশের পদস্থ কর্তা রাজীব রঞ্জন বলেন, “অপূর্বা শুক্লা তিওয়ারি নিজের দোষ স্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁর এবং রোহিত তিওয়ারির বিবাহিত জীবন মোটেই সুখের ছিল না। তিনি এই কথাও জানান, যে তাঁর সমস্ত আশা ও স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। ওই দিন তাঁদের দু’জনের মধ্যে ভয়ানক ঝামেলা হয়। সেই ঝামেলা হাতাহাতিতে পৌঁছে যায়। ওই সময়ই অপূর্বা তাঁর স্বামীর মুখে বালিশ চেপে ধরেন।” ওই সময়ে মদ্যপান করছিলেন রোহিত তিওয়ারি। তাই তিনি বাধা দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না।

তাঁর নিজের ঘরেই রাত একটা নাগাদ হত্যা করা হয় রোহিত তিওয়ারিকে। “তার পরে অপূর্বা হত্যার সমস্ত প্রমাণ নষ্ট করে দেন দেড় ঘণ্টা ধরে।”– বলেন এক পদস্থ পুলিশকর্তা। তিনি আরও জানান, রোহিত তিওয়ারি তাঁর এক আত্মীয়ার সঙ্গে মদ্যপান করেই চলেছিলেন। তাঁর ইনসমনিয়া থাকার জন্য তাঁকে পরের দিন সকালেও কেউ ডেকে তোলেননি ঘুম থেকে। বিকেল চারটে নাগাদ এক জন খেয়াল করেন রোহিতের নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে।

সেই সময়েই রোহিতের মা উজ্জ্বলা তিওয়ারি নিজের চিকিৎসার জন্য ছিলেন হাসপাতালে। তিনি বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে রোহিতের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে দেন। ওই সময় বাড়িতে ছিলেন রোহিতের স্ত্রী অপূর্বাও।

কয়েক বছর আগে নিয়মিত খবরে থাকতেন রোহিত। তিনি দাবি করেছিলেন উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এনডি তিওয়ারি তাঁর বাবা। এ জন্য টানা ছ’বছর আইনি লড়াইও করেছেন তিনি। ২০১২ সালে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি তোলেন রোহিত। শেষমেষ ডিএনএ পরীক্ষায় রাজি হন তিনি। ২০১৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট রোহিতকে এন ডি তিওয়ারির ছেলে বলে স্বীকৃতি দেয়।

Comments are closed.