নিরন্নের মুখে অন্ন তুলে দিতে ৬ সপ্তাহে ৮ দেশে ২.৩২ কোটি মানুষের পাশে রবিন হুড আর্মি

সংস্থা 'মিশন থার্টি মিলিয়ন' নামে জুলাই-অগস্ট মাসের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল তাতে ১০ দেশের ৩ কোটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যের থেকে একটু দূরে ৬ সপ্তাহে ৮ দেশে ২.৩২ কোটি মানুষের পাশে পৌঁছতে পেরেছে রবিন হুড আর্মি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্থ নয়, শুধুই খাবার সংগ্রহ করে রবিন হুড আর্মি। আর সেই সংগ্রহ করা খাবার নিরন্নের মুখে তুলে দেওয়াই লক্ষ্য। সারাটা বছর সেই কাজই করে এই স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী। মূলত হোটেল, রেস্তরাঁ থেকে উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করে। কিন্তু লকডাউনের সময়ে সমস্যা হয়ে যায়। কারণ, লকডাউনে বন্ধ ছিল সব হোটেল, রেস্তোরাঁ। আনলক পর্বে খুললেও উদ্বৃত্ত কম। কিন্তু তার আগেই লক্ষ্য ঠিক হয়ে গিয়েছিল। সংস্থা ‘মিশন থার্টি মিলিয়ন’ নামে জুলাই-অগস্ট মাসের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল তাতে ১০ দেশের ৩ কোটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যের থেকে একটু দূরে ৬ সপ্তাহে ৮ দেশে ২.৩২ কোটি মানুষের পাশে পৌঁছতে পেরেছে রবিন হুড আর্মি।

আরও পড়ুন

এসবিআই গ্রাহকদের জন্য সুখবর, জোড়া খরচ কমিয়ে স্বাধীনতা দিল ব্যাঙ্ক

করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে সঙ্কটে পড়েছেন ব‌হু মানুষ। লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে অনেকের কাছেই বড় প্রশ্ন হয়ে ওঠে প্রতিদিনের খাদ্যের সংস্থান। সরকারি উদ্যোগ তো বটেই, বহু ব্যক্তি এবং বেসরকারি সংস্থাও এগিয়ে এসেছে এই সময়ে। কিন্তু এই করোনা কালে খাদ্য সংগ্রহ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বড় রেকর্ড গড়েছে রবিন হুড আর্মি।

লকডাউন পর্বে অনেকেই ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে এলেও আনলক পর্বে সেটা অনেক কম। সেই আনলক পর্বেই ১ জুলাই থেকে ১৬ অগস্ট ৬ সপ্তাহে ৩ কোটি মানুষের সেবার লক্ষ্য নিয়েছিল রবিন হুড বাহিনী। ভারত ছাড়াও বাহরাইন, বতসোয়ানা, মালয়েশিয়া, নেপাল, উগান্ডা, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানে এই সময়ে কাজ করেছেন সংস্থার প্রায় ৬০ হাজার রবিন (সদস্য)। কোনও রকম সরকারি বা কর্পোরেট সংস্থার ফান্ডিং ছাড়াই চেয়েচিন্তে জোগাড় করা খাবার পৌঁছে দিয়েছেন ২.৩২ কোটি মানুষকে।

ছ’বছর আগে ২০১৪ সালে পথ চলা শুরু এই বাহিনীর। প্রতিষ্ঠাতা নীল ঘোষ কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গৃহহীন ১৫০ জন মানুষকে নিয়ে কাজ শুরু করেন। শুরুর দিকে সংস্থার সদস্য সংখ্যা ছিল ২,৩১৪। শক্তিবৃদ্ধি করে ২০১৬ সালে ভারতের বাইরে কাজ শুরু হয়। পথশিশুদের খাদ্য এবং প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি হয় রবিন হুড অ্যাকাডেমি। এখন সংস্থার রবিন সংখ্যা ৫৮,৪০০। কাজ রয়েছে বিশ্বের ১৮২ শহরে।

খুবই স্থানীয় ভাবে কাজ করে রবিন হুড আর্মি। একজনের উদ্বৃত্ত খাদ্য দিয়ে আর একজনের প্রয়োজন মেটানো হয়। সংস্থার প্রধান নীল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারতে এই কাজটা খুব সহজেই করা যায় আর এ দেশে এটা খুবই প্রয়োজনীয়। তিনি জানিয়েছেন, দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় ৩০টির বেশি রেস্তোরাঁ রবিন হুড আর্মির সঙ্গে কাজ করে।

এই বাহিনীর কাছে খাদ্য সংগ্রহের একটা বড় সুযোগ আসে বিয়ের মরশুমে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে বছরে মোটামাটি ১ কোটি বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। এই সব অনুষ্ঠানে ১০ থেকে ২০ শতাংশ খাবার নষ্ট হয়। সেসব খাবার সংগ্রহ করে বাহিনী। একবার হায়দরাবাদের এ‌কটি বিয়ে বাড়ির উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করে ৯৭০ মানুষকে খাইয়েছিলেন বাহিনীর চার সদস্য।

উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের অন্যতম দেশ যেখানে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেশি। ২০১৯ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচক (Global Hunger Index)-এ ১০৫টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ছিল ১০২। এক্ষেত্রে ভারতের সমস্যা নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের থেকেও বেশি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More