শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

বৃহস্পতিবার ফের ইডির প্রশ্নের মুখোমুখি রবার্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার টাকা তছরুপের মামলায় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট বঢড়াকে টানা পাঁচ ঘণ্টা জেরা করেছে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট। বৃহস্পতিবারও ইডির মুখে পড়তে চলেছেন তিনি। তবে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রবার্ট জানিয়েছেন, লন্ডনে তাঁর কোনও সম্পত্তি নেই। বিতর্কিত ওই সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত কাউকে তিনি চেনেনও না।

ইডির অভিযোগ, লন্ডনে ১২ ব্রায়ানস্টন স্কোয়ারে একটি প্রাসাদের মালিক রবার্ট। তার দাম ১৯ লক্ষ পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় তার দাম ১৭ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। তিনি ব্রাইটন স্কোয়ার ম্যানসন বাদে লন্ডনে আরও দু’টি বাড়ি ও ছ’টি ফ্ল্যাটের মালিক। বাড়ি দু’টির দাম ৪০ লক্ষ পাউন্ড এবং ৫০ লক্ষ পাউন্ড। লন্ডনে তাঁর সব সম্পত্তির মোট দাম ১ কোটি ২০ লক্ষ পাউন্ড।

এছাড়া রবার্টের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ আছে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইডি অভিযোগ করে, রবার্টের মালকানাধীন স্কাই লাইট হসপিটালিটি বিকানেরের কোলায়াতে জমি অধিগ্রহণ করেছিল। ওই জমিতে গরিব গ্রামবাসীদের পুনর্বাসন দেওয়ার কথা ছিল। জমির পরিমাণ ৬৯.৫৫ হেক্টর। রবার্ট খুব সস্তায় ওই জমি পেয়েছিলেন। পরে অ্যালিজিনারি ফিনলিস নামে এক সংস্থার কাছে ওই জমি বেআইনিভাবে বিক্রি করে দেন। ইডির তদন্তে জানা গিয়েছে, অ্যালিজিনারি ফিনলিস নামে সংস্থাটি ভুয়ো।

ইডি-র আরও অভিযোগ, রবার্ট বঢড়া ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু ২০০৯ সালে একটি পেট্রোলিয়াম ডিল থেকে কিকব্যাক পেয়েছিলেন। তখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বধীন ইউপিএ। কিকব্যাকের অংশ হিসাবে লন্ডনের অভিজাত এলাকায় রবার্টকে ওই সম্পত্তি দেওয়া হয়।

৪৯ বছরের রবার্ট বুধবার দিল্লিতে ইডির কেন্দ্রীয় অফিসে জেরার মুখোমুখি হন। ওই মামলায় তাঁকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। রবার্টের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। রবার্টের আইনজীবী বুধবার জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল ইডিকে লিখিতভাবে বলেছেন, যখন ডাকা হবে, তখনই তিনি হাজির হবেন।

লন্ডনে বেআইনি সম্পত্তির মামলায় ওপর দুই অভিযুক্ত হলেন সঞ্জয় ভান্ডারী ও তাঁর ভাইপো সুমিত চাডা। রবার্ট বলেছেন, তাঁদের কাউকে তিনি চেনেন না। মামলায় ওপর অভিযুক্ত মনোজ অরোরাকে তিনি চেনেন বলে জানিয়েছেন। মনোজ একসময় রবার্টের মালিকানাধীন স্কাইলাইট হসপিটালিটির কর্মচারী ছিলেন। তবে মনোজ কখনও তাঁর হয়ে কাউকে ই-মেল পাঠিয়েছেন, একথা মানতে চাননি তিনি।

Shares

Comments are closed.