মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

নিজের চেম্বার থেকে দৌড়ে বেরিয়ে এলেন রাজস্ব অফিসার, গায়ে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন…

দ্য ওয়াল ব্যুরো : তেলঙ্গানার আবদুল্লাপুরমেট অঞ্চলে এক অফিসে কাজ করতেন বিজয়া রেড্ডি। তিনি ছিলেন রাজস্ব অফিসার। সোমবার বিকালে তাঁর অফিসে ঢোকে এক জমিমালিক। আধঘণ্টা বাদে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করতে করতে বিজয়া অফিসের দরজা খুলে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। তখন তাঁর গায়ে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। বিজয়ার সহকর্মীরা কম্বল চাপা দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি বাঁচেননি। অফিসের মধ্যে একজনকে এইভাবে গায়ে আগুন দিয়ে মেরে ফেলার পর তেলঙ্গানায় সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত জমিমালিকের নাম সুরেশ মুদিরাজু। তিনি লুকিয়ে এক বোতল কেরোসিন নিয়ে বিজয়ার অফিসে ঢুকেছিলেন। এছাড়া তাঁর সঙ্গে ছিল জমির দলিলপত্র। তাঁরও গায়ে আগুন লেগে গিয়েছিল। তাঁকে হায়াতনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক ড্রাইভার ও অফিসের অপর দুই কর্মী বিজয়াকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলেন। তাঁরাও আহত হয়েছেন।

তেলঙ্গানায় এখন জমির দলিলপত্র ডিজিট্যাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই কাজটি করতে গিয়ে দেখা দিয়েছে নানা অনিয়ম। অভিযুক্ত সুরেশ মাদিরাজুর দলিলে কয়েকটি ভুল ছিল। ভুল সংশোধনের জন্য তিনি বহুবার রাজস্ব অফিসে গিয়েছিলেন। এমনকি কোর্টের অর্ডারও এনেছিলেন। তাতেও কাজ হয়নি। সেজন্য তিনি বিজয়ার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন।

রচকোণ্ডার পুলিশ কমিশনার মহেশ ভাগবত বলেন, “অভিযুক্ত আচমকা রাগের বশে বিজয়ার গায়ে আগুন দিয়েছিল, এমন ভাবা ঠিক নয়। সে নির্দিষ্ট ছক কষেই রাজস্ব অফিসে ঢুকেছিল।” পরে তিনি জানান, সুরেশেরও শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে।

পুলিশ কমিশনারের কথায়, “আমরা তদন্ত করে দেখছি সুরেশ অন্য কারও হুকুমে এই কাজ করেছে কিনা। সে কীভাবে অফিসে ঢুকে পড়ল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা তার জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের ব্যবস্থা করব। সে যাতে চরম শাস্তি পায়, তার চেষ্টা করা হবে।”

তেলঙ্গানার মন্ত্রী সবিতা ইন্দ্র রেড্ডি বলেন, “সকলের বোঝা উচিত, সরকারি কর্মীরা তাঁদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। সেক্ষেত্রে তাঁর উচপদস্থ অফিসারের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে।”

Comments are closed.