রবিবার, এপ্রিল ২১

নতুন করে জীবন শুরু করলেন পাকিস্তান থেকে উদ্ধার হওয়া ‘ডটার অফ ইন্ডিয়া’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৭ বছর বয়স ছিল তাঁর। নেশার ওষুধ খাইয়ে অপহরণ করা হয়েছিল তাঁকে। তার পরে ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছিল। বন্দি করে রাখা হয়েছিল পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এক গ্রামে। সেখানে থেকেই বুদ্ধি ও কপালের জোরে তিনি কোনও রকমে পালিয়ে এসে যোগাযোগ করেন ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গে। ২০১৭ সালে বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের তত্‍পরতায় তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয় দেশে। তার দু’বছর পরে তিনি শুরু করলেন নতুন জীবন। দিল্লির সিলামপুরে নিজের বিউটি পার্লার খুলে গুছিয়ে নিলেন নিজেকে।

তিনি উজমা আহমেদ। সুষমা স্বরাজ তাঁর নাম দিয়েছিলেন ‘ডটার অফ ইন্ডিয়া।’ জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের বুন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে আজ থেকে কয়েক বছর আগে। জোর করে বিয়ে দিয়ে, খাইবার পাখতুনখোয়া জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বন্দি করে রাখা হয়েছিল তাঁকে।

২০১৭ সালে দেশে ফেরার পরে, নিজের মনের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে এবং ওই ঘটনা থেকে পাওয়া মানসিক আঘাতের সঙ্গে দীর্ঘ দু’বছর লড়াই চলে তাঁর। সময় লাগে নিজেকে গুছিয়ে নিতে। অবশেষে তিনি খুললেন তাঁর নিজের বিউটি পার্লার।

সূত্রের খবর, ছোটো মেয়ে ফলকের নামেই তিনি পার্লারের নাম রেখেছেন। পার্লারটি উদ্বোধন হয় বুধবার। তাঁর পার্লারে কর্মরত দুই মহিলাও জীবনের কোনও না কোনও সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

উজমা জানিয়েছেন, তাঁর প্রথম বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। তার পরে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মালয়েশিয়া যান, নতুন করে পড়াশোনা ও চাকরি করতে। সেখানেই পাকিস্তানি নাগরিক তাহির আলির প্রেমে পড়া ছিল তাঁর জীবনের সব চেয়ে বড় ভুল। তাহিরের হাত ধরেই ‘পাকিস্তানের দুর্দান্ত একটি গ্রাম’-এ চলে যান তিনি। সেখানে পৌঁছে উজমা জানতে পারেন, তাহিরের আগের বিয়ে ও সংসারের কথা। তার পরে ভাবতেও পারেননি, সেখানে তাঁর বন্দি জীবন কাটবে ১৪ বছর ধরে!

কিন্তু অতীতের অন্ধকার স্মৃতিতে আর ডুবে থাকতে নারাজ উজমা। যা হয়ে গেছে, তা পেছনে ফেলে নতুন জীবন শুরু করার দিকেই আপাতত মন দিতে চান উজমা। সব ঠিকঠাক থাকলে খুব তাড়াতাড়ি বায়োপিকও প্রকাশিত হবে তাঁর।

Shares

Comments are closed.