শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

সাংবাদিক পেটালেন নেতা! প্রতিবাদে ও নিরাপত্তায় হেলমেট পরেই সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তাঁরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বহু বার লেখালেখি হয়েছে সংবাদমাধ্যমেই। সংবাদকর্মীদের উপর আক্রমণ করার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে সব মহলই। সাধারণ মানুষও একমত হয়েছেন এই অভ্যাস বন্ধ করার জন্য। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে মুখে বড় বড় কথাও বলেন নেতা-মন্ত্রীরা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই নেতা-মন্ত্রীদের হাতেই আক্রান্ত হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের!

এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ছত্তীসগড়ে। এক সংবাদমাধ্যমের কর্মীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির জেলা সভাপতি-সহ চার কর্মীর বিরুদ্ধে। আর সেই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি নেতাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময়ে হেলমেট পরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রায়পুরের সাংবাদিকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, এটাই তাঁদের প্রতিবাদ। তাঁরা বোঝাতে চাইছেন, নেতা-মন্ত্রীদের সামনেও এতটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাঁরা। 

আসল ঘটনা গত শনিবারের। বিজেপির রায়পুরের জেলা সভাপতি রাজীব আগরওয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, সুমন পাণ্ডে নামের এক সাংবাদিকের উপর সদলবলে হামলা চালিয়েছেন তিনি। ওই সাংবাদিকের ‘অপরাধ’, বিজেপি দফতরে নেতাদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার দৃশ্য মোবাইলে রেকর্ড করছিলেন তিনি।

সূত্রের খবর, শনিবার বিজেপি দফতরে একটি বৈঠক ছিল। বিজেপির সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে হারের কারণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল ওই বৈঠকে। অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে সুমন পাণ্ডেও হাজির ছিলেন বিজেপি দফতরে। জানা গিয়েছে, বৈঠক চলাকালীন হঠাৎই নিজেদের মধ্য বচসায় জড়িয়ে পড়েন ছত্তীসগড়ের বিজেপি নেতারা। সে সময়ে নিজের মোবাইল বার করে সেই ঝামেলার দৃশ্য রেকর্ড করছিলেন সাংবাদিক সুমন পাণ্ডে। বিজেপি নেতারা সেটা দেখতে পেয়ে, ওই সাংবাদিককে ভিডিও রেকর্ডিং বন্ধ করতে বলেন।

এখানেই শেষ নয়। এর পরে তাঁর ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এরই মধ্যে কয়েক জন নেতা তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারধর শুরু করে। যদিও, এই ঘটনার পরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন রাজ্যের নেতারা। নেতাদের যুক্তি, বৈঠকের গোপন ছবি তোলার অধিকার সাংবাদিকের নেই, কিন্তু তিনি সেই কাজই করছিলেন। তাই কর্মীরা রেগে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও সুমনের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিযুক্ত নেতাদের।

কিন্তু এতেও ক্ষোভ মেটেনি রায়পুরের সাংবাদিক মহলের। তাঁরা রাজীব আগরওয়াল নামে মূল অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে বিজেপি থেকে বহিষ্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আইন আনার দাবিতেও প্রতিবাদ শুরু করেছেন। রায়পুরে বিজেপি নেতাদের অনুষ্ঠানে এখন অধিকাংশ সাংবাদিকই যাচ্ছেন হেলমেট পরে। তাঁদের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ।

ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেশ বাঘেল দোষীদের শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন আনার ব্যপারটি নিয়েও পদক্ষেপ শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

Shares

Comments are closed.