রবিবার, মার্চ ২৪

খুলছে প্রিয়া সিনেমা হল, সাত মাস পরে হাসি ফুটছে সিনেপ্রেমীদের মুখে

মধুরিমা রায়

শেষ পর্যন্ত সাত মাস পরে খুলছে প্রিয়া সিনেমা হল।

সূত্রের খবর, ২১ ফেব্রুয়ারি এই হল ফের খুলছে দর্শকদের জন্য। ‘গুপি গায়েন বাঘা বায়েন’ দেখানো হবে প্রথম শোয়ে। নিজেদের প্রোডাকশন হাউসের এই ছবি দিয়েই সাত মাসের শাপমুক্তি ঘটাতে চলেছেন প্রিয়া সিনেমাহল কর্তৃপক্ষ। হলের মালিক অরিজিৎ দত্ত বলছেন, আগামী বৃহস্পতিবার সে সময়ে তিনি থাকবেন হলে।  মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে থাকায় আবার সম্ভব হলো এই হল খোলা।

এই সিনেমা হলে আগুন লাগার পর থেকে বন্ধই ছিল হলটি।  গত বছর ৩১ জুলাই রাতে শো চলাকালীন প্রিয়ায় আগুন লাগে।  দমকল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন ছড়াতে পারেনি।  কেউ হতাহতও হননি।  পরের দিন দমকল ও পুরসভার আধিকারিকরা হল পরিদর্শন করেন।  অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থায় বেশ কিছু ফাঁকফোকর চিহ্নিত করেন তাঁরা।  উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত, দমকল ওই হলে ছবি দেখানোর অনুমতি দেবে না বলে জানায়।

তৎকালীন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছিলেন, “প্রিয়ার বিষয়ে পুরসভা কিছু করেনি।  দমকল থেকে কিছু পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু প্রিয়া কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেছেন বলে দমকল বিভাগকে অন্তত জানানো হয়নি। ছবি চলাকালীন আগুন লেগেছিল।  পুরসভা এবং দমকল হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না।  দর্শকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য।”

প্রিয়ার মালিক অরিজিৎ দত্ত গোটা  ঘটনার পর জানিয়েছিলেন, হলের কোনও অব্যবস্থা ছিল না। হলের নীচের মোমোর দোকান থেকেই আগুন ছড়িয়েছিল। হলের একটি অংশে শুধু আগুন লেগেছিল, আর তাতে কোনও দর্শকও আহত হননি। অরিজিৎ বলেছিলেন, “৬৫ বছরের পুরনো একটি বাঙালি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করার কথা ভাবছি আমরা। কারণ, শহরে অবাঙালি প্রযোজনা সংস্থার কথায় অনেক কিছুই হয়। এর পরে বাঙালি বুঝুক। আমি এবার কোনও কর্পোরেট সংস্থাকে জায়গা দেওয়ার কথা ভাবছি।  এখানে সিনেমা সংক্রান্ত কিছু করার কথা একেবারেই ভাবছি না।”

সে দিন রাতের আগুনের উৎসস্থল নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছিল প্রিয়া হল কর্তৃপক্ষ এবং দমকলের মধ্যে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, দু’টি স্পট তারা দেখেছে। একটি প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের বাইরের ব্যালকনি, সেখানে একটি এয়ার কন্ডিশনার মেশিন পুড়ে গিয়েছে। সেখানে আগুন লাগল কী করে, তা তারা তদন্ত করে দেখছে। পাশাপাশি, নীচের তলায় মোমোর স্টলেও পুলিশ ঘুরে দেখেছিল। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করা হয়েছিল। দমকল সূত্রে খবর ছিল, ব্যালকনির এয়ার কন্ডিশনার মেশিনে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে।

এ মুহূর্তে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে অন্য একটি ছবি নিয়ে চলছে তোলপাড়।  স্ক্রিনিংয়ের পরের দিন থেকেই কেন হলগুলোয় দেখানো হচ্ছে না সিনেমাটি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।  তারই মাঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকায় প্রিয়া হল খোলার সিদ্ধান্তে বাঙালি হল মালিকও খুশি আর সিনেপ্রেমী দর্শকরাও দারুণ আনন্দে।

Shares

Comments are closed.