মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

লাঙ ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া আটকাতে লাল লঙ্কার ঝাঁজ!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যান্সার তো এখন ঘরে ঘরে।  আর যে ক্যান্সারে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি তা হল লাঙ ক্যান্সার বা ফুসফুসের ক্যান্সার।  দেখা গেছে পুরুষ, মহিলা নির্বিশেষে এই ক্যান্সারেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে।  তবে এ বছরেরই আমেরিকান সোসাইটি ফর ইনভেস্টিগেটিং প্যাথলজির অ্যানুয়াল মিটিংয়ের এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি মিটিংয়ে একটি গবেষণায় বলা হয়, লাল লঙ্কায় যে ঝাঁজ থাকে, যা থেকে মুখে একটা জ্বালা ভাব তৈরি হয় সেটা লাঙ ক্যান্সারের প্রবণতা কমায়।  ক্যান্সারে তখনই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যখন ক্যান্সার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় মেটাস্ট্যাসিস।

এ বিষয়ে যাঁরা গবেষণা করেছেন, তাঁদেরই একজন জেমি ফ্রিডম্যান বলছেন, “লাঙ ক্যানসারের ক্ষেত্রে যে মেটাস্ট্যাসিস ঘটে ,সেটা ছড়িয়ে পড়ে ব্রেন, লিভার, হাড়ে।  ফলে যখন ধরা পড়ে তখন আর কিছুই করার থাকে না।  অথচ লাল লঙ্কার ওই প্রদাহ বা জ্বালা জ্বালা ভাব আসে যে ক্যাপসাইসিন যৌগের জন্য, সেটাই এই লাঙ ক্যানসারের মেটাস্ট্যাসিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ”

তাঁরা পরীক্ষার সময়ে দেখেন, প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের ক্ষেত্রে তিনটি ধাপে লাঙ ক্যানসার ছড়িযে পড়ে।  প্রথমেই যদি ক্যাপসাইসিন কাজ করে তাহলে আর তা ছড়িয়ে পড়তে পারে না।  কারণ তখনই এটা মেটাস্ট্যাটিক প্রক্রিয়ারর প্রথম পদক্ষেপে বাধা দেয়।  তাঁরা বেশ কিছু ইঁদুরের উপরেও এই পরীক্ষা করে দেখেছেন।  যে সব ইঁদুরের লাঙ ক্যান্সারের মেটাস্ট্যটিক ছড়িয়ে পড়ার আগেই এই ক্যাপসাইসিন তাদের শরীরে পৌঁছেছে, তাদের অনেক কম মাত্রায় ছড়িয়েছে ক্যানসার।  আর যাদের এই ক্যাপসাইসিন দেওয়া হয়নি তাদের অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে এই ক্যান্সার।

আরও একটা বিষয় এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে যে, এই ক্যাপসাইসিন আসলে এসআরসি প্রোটিনের সক্রিয়তাকে নিষ্ক্রিয় করে।  এই প্রোটিনই লাঙ ক্যানসারের মেটাস্ট্যাসিসকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।  এই এসআরসি প্রোটিন এই ক্যানসারের কোষগুলোর সংশ্লেষে একটি ভূমিকা পালন করে, যা সেগুলোকে ছড়িয়ে পড়তে, তার গতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।  তাই এই এসআরসিকে দমিয়ে রাখা খুবই জরুরি।

ফ্রিডম্যান আশা করছেন পরবর্তীকালে লাঙ ক্যানসারের চিকিৎসায় এই ক্যাপসাইসিন কেমোথেরাপির জন্য একটি উপাদান হিসেবে কাজে লাগবে।  তবে এই ক্যাপসাইসিনের যে সব খারাপ গুণগুলো আছে, অর্থাৎ গ্যাসট্রোইন্টেসটাইনাল ইরিটেশন বা পেটের জ্বালা পোড়া ভাব, স্টম্যাক ক্র্যাম্প বা বার্নিঙ সেনসেশন ইত্যাদি, সেগুলোর বিষয়ে একবার সামগ্রিকভাবে মেডিক্যাল চেকআপ করে তবে এই পদ্ধতিতে যাওয়া যেতে পারে।

গবেষকরা ক্যাপসাইসিনের অ্যান্টি-টিউমার কার্যকলাপ বজায় রাখার সময় এর উপাদানগুলো ঠিক কী করে কাজ করে সেটা জানতেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।  তাঁরা ক্যান্সার মোকাবিলায় চিকিৎসায় ক্যাপসাইসিনের মতো নন পানজেন্ট যৌগ খুঁজে চলেছেন গবেষকরা।

অতএব লাল লঙ্কা আপনি খেতেই পারেন লাঙ ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া আটকাতে, তবে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে।  এই লাল লঙ্কার যে খারাপ গুনগুলো রয়েছে, সে সম্পর্কেও সচেতনতা ও পরিমিতিবোধ দরকার।

Comments are closed.