বৃহস্পতিবার, জুন ২৭

মেঘের আড়ালে লাল চাঁদ, এখন অপেক্ষা মঙ্গলের মেরুতে বরফের খেলা দেখার

অনুপম নস্কর

অনেক আশা আকাঙ্খা নিয়ে আমরা কলকাতা অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের সদস্যরা কাল রাতে জড়ো হয়েছিলাম আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য প্রণয়দার বাড়ির ছাদে। সঙ্গে এলাকার অনেক কচিকাঁচা।

অবিরত বিভিন্ন খবরের চ্যানেলের আনাগোনা চলতেই থাকল। তারাও এই অভূতপূর্ব মহাজাগতিক ঘটনাকে ক্যামেরায় ধরে রাখতে চায়। আমিও আমার ক্যামেরা বগলদাবা করে ছাতা মাথায় অপেক্ষা করতে থাকলাম। কৌস্তুভদা আর গায়েনদা দু’খানা দূরবীন নিয়ে মাথায় প্লাস্টিক শিট চাপিয়ে অপেক্ষারত। শুধুই অপেক্ষা আর অপেক্ষা। কিন্তু মেঘ বাবাজির যেন কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কোনও তাড়াও নেই। সে ধীরে সুস্থে বারি বর্ষণ করতে করতে, মাঝে মাঝে কোরাস গাইতে গাইতে চোখ টিপে আমাদের দিকে ভেংচি কাটতে লাগলো। আংশিক গ্রহণের শুরুতে দু’মিনিটের একটা ঝলক দেখা ছাড়া প্রাপ্তি পুরোই শূন্য। আকাশ চর্চা করতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে। প্রকৃতিকে মেনে নিয়েই তো চলতে হবে আমাদের। এই মহাবিশ্বের সেও তো এক অংশীদার।

এ বারের মতো তল্পিতল্পা গুটিয়ে আমারা ফিরে যাচ্ছি দৈনন্দিন কাজে। অপেক্ষায় রইলাম মেঘমুক্ত আকাশের। কারণ মঙ্গল যে আরো কাছে আসছে। ৩১ আগস্ট সে থাকবে পৃথিবীর খুব কাছে। পৃথিবীর এতো কাছে মঙ্গল এর আগে কখনও আসেনি। ২৭ অগস্ট ২০০৩ এর পর আবার এতো কাছে। এই সময় সন্ধ্যাবেলা টেলিস্কোপে চোখ লাগালেই দেখতে পাওয়া যাবে মঙ্গলের মেরুতে বরফের খেলা। টেলিস্কোপ প্রস্তুতই আছে আমাদের অফিসের ছাদে। আর দরকার নেই কোন নির্দিষ্ট একটি সময়ের। আগামী কয়েক দিন সন্ধের পরে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে মকর নক্ষত্রমণ্ডল আর ধনু নক্ষত্রমণ্ডলের মাঝে উজ্বল মঙ্গলকে চিনতে বিজ্ঞানী হওয়ারও দরকার নেই। যে কেউ খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন প্রায় বাল্ব-এর মত জ্বলজ্বল করছে। ধীরে ধীরে দক্ষিণ-পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাবে সারা রাত ধরে।

২০১৮ সালের ৩১ জুলাই পৃথিবী থেকে মঙ্গল থাকবে ৩৫.৮ মিলিয়ন মাইল দূরে। ২০০৩ সালে অবশ্য পৃথিবীর আরও কিছুটা কাছে ছিল মঙ্গল, ৩৪.৯ মিলিয়ন মাইল দূরে। অনেকের ধারণা এই সময় মঙ্গলকে চাঁদের মত আকারের দেখাবে। এটা কিন্তু একদমই ভুল কথা। মঙ্গলের আকার পৃথিবীর অর্ধেক। তাই এটা কখনই সম্ভব নয়।

মঙ্গল গ্রহ নিয়ে মানুষের আগ্রহ প্রাচীন কাল থেকেই। মানুষ এককালে ধরেই নিয়েছিল ওখানে আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধির প্রাণীদের বসবাস আর তারা যেকোনও সময় পৃথিবীতে আক্রমণ করতে পারে। হলিউড তো প্রায় এক ডজন সিনেমাও বানিয়ে ফেলেছে এই নিয়ে। তবে বিজ্ঞানীরা এরকম প্রাণীর সন্ধান এখনও পাননি। যদিও মঙ্গলের বরফ টেলিস্কোপে আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা অনেকেই মনে করেন কোনও এক সময়ে সেখানে নদী, সমুদ্র ছিল। তার সাথে প্রাণও ছিল বা আজও লুকিয়ে থাকতে পারে।

রাশিয়া, নাসা, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ১৯৬০ থেকে একের পর এক স্পেসশিপ পাঠাচ্ছে মঙ্গলে। চিন, জাপান, ভারত থেকেও স্পেসশিপ গিয়েছে সেখানে। চলছে প্রচুর রিসার্চ।

এখন শুধু প্রার্থনা মেঘমুক্ত আকাশের।

Leave A Reply