সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

মদ বিক্রির নতুন রেকর্ড গড়ল তারাপীঠ, বিলিতিকে হারাল দিশি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুণ্যার্থীর সংখ্যা কমলেও, তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যায় বাড়ল মদের বিক্রি। কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে গতবারের থেকে এবার মদ বিক্রি বাড়ল। এবার বিক্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটিতে। তবে এবার বিয়ার ও দেশি মদ বেশি বিক্রি হয়েছে বলে আবগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

গত ২৯ ও ৩০ অগস্ট তারাপীঠে ছিল কৌশিকী অমাবস্যা। এই দু’দিনে তারাপীঠের ১৮টি দোকান থেকে মদ বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৪৮ টাকার। যা গত বারের তুলনায় ১৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৪৮ টাকা বেশি। আবগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার তারাপীঠে দু’দিন ছিল অমাবস্যা। ২৯ অগস্ট সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ অমাবস্যা শুরু হয়। শেষ হয় পরের দিন বিকেল ৪টের পর। ফলে প্রথম দিন রাত্রি ২টো পর্যন্ত দোকান খুলে রাখা হয়েছিল। পরের দিন রাত্রি সাড়ে ১১টায় বন্ধ করা হয়েছিল সমস্ত দোকান। এই দু’দিনে বিলিতি মদ বিক্রি হয়েছে ২৩,৬১৪.৩৮ লিটার। গত বছর বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৫,২৬৭ লিটার। অর্থাৎ, বিলিতি মদ বিক্রি ১,৬৫৩ লিটার কমেছে। সে দিক থেকে দেখলে বিয়ার বিক্রি বেড়েছে বেশ কিছুটা। এবার বিয়ার বিক্রি হয়েছে ১২,২০৫.৩২ লিটার। গত বছরে এর পরিমাণ ছিল ৯,৯০৫ লিটার। হিসেব অনুযায়ী ২,৩০০ লিটার বেশি বিয়ার বিক্রি হয়েছে। এবার দিশি মদ বিক্রি হয়েছে ১৫,৯২১ বোতল। গতবার যা ছিল ১৪,২২৯ বোতল। অর্থাৎ ১,৬৯২ বোতল দিশি মদ বিক্রি বেড়েছে।

আবগারি দফতরের রামপুরহাট মহকুমা ডেপুটি কালেক্টর সুহৃদ রায় জানান, এবছর বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩০ হাজার ৬৬ টাকা। বিয়ার বিক্রি হয়েছে ২৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৬৪ টাকা। দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১১ লক্ষ ৯৪ হাজার ১১৮ টাকার। সুহৃদবাবু বলেন, “বিয়ার ও দেশি মদের দাম তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় মানুষ সেদিকে বেশি ঝুঁকেছে”। সূত্রের খবর, এবার চার জোড়া ট্রেন বন্ধ থাকায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক কম হয়েছে। কারণ, পুণ্যার্থীরা বেশি আসেন রেলপথে। এবার রেলপথে ১ লক্ষ ২৫ হাজার পুণ্যার্থী এসেছেন। বাকি এসেছেন সড়ক পথে। তারাপীঠে সাড়ে তিন লক্ষ পুণ্যার্থী এবার এসেছিলেন। তার মধ্যে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে বেশি পুন্যার্থী এসেছেন। মূলত ভিন রাজ্যের পুণ্যার্থীরাই বেশি মদ্যপান করেছেন। কারণ, বিহারে মদ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আর ঝাড়খণ্ডের থেকে এরাজ্যের মদের গু‌ণগত মান অনেক ভালো। ফলে অনেক পুণ্যার্থী এখান থেকে মদ কিনে নিয়ে যান বলে আবগারি দফতরের দাবি।

Comments are closed.