রবিবার, নভেম্বর ১৭

৩ প্রশ্নের মুখে বেতন কমিশন, উচ্ছ্বাস নেই তৃণমূলের সংগঠনেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ অপেক্ষার পরে মিলেছে বেতন কমিশন। তবু খুশি নন রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের বড় অংশ। আর খুশি না হওয়ার পিছনে রয়েছে তিন প্রশ্ন।

এই প্রশ্ন তুলেছে বামপন্থী সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজয়কুমার সিনহা কমিশন ঘোষণা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিন প্রশ্ন তুলেছেন।

১। বকেয়া ডিএ ঘোষণা হল না কেন?

২। পে কমিশনের এরিয়ার নিয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা নেই কেন?

৩। জুলাই মাস থেকে কেন্দ্র ফের এক কিস্তি ডিএ দিলে কী করবে রাজ্য সরকার?

বিজয়কুমার সিনহা এদিন বলেন, “রাজ্যের কর্মচারী সমাজ, শিক্ষক এবং অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে কমিশনের ঘোষণা নিয়ে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এই বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা, নিন্দা এবং ধিক্কার জানাচ্ছি।” “মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীদের লক্ষাধিক টাকার বেতনবৃদ্ধি, ক্লাবকে টাকা ও পুজোর জন্যে টাকা দাওয়া, উৎসব, কার্নিভ্যালে হরিলুটের মতো খরচ হচ্ছে। আর কর্মচারী সমাজ ও তাদের পরিবার, শিক্ষক মহাশয় ও প্রবীণ অবসরপ্রাপ্তদের সামাজিক সন্মানে আঘাত করা-সহ চরম আর্থিক বঞ্চনা করা হচ্ছে। যা ভূ-ভারতে কোথাও হচ্ছে না।”

এনিয়ে আন্দোলনের হুমকিও দিয়ে রেখেছে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি। এদিন বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওই সংগঠন। একই সুর কর্মচারীদের অপর সংগঠন স্টেট স্টিয়ারিং কমিটির। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সংকেত চক্রবর্তী বলেন, “অমিত মিত্র এরিয়ার নিয়ে কোনো গল্প করলেন না। ডিএ নিয়েও কোনও কথা বললেন না। উনি বললেন বেতন কমিশন ইমপ্লিমেন্ট হবে ২০২০ পয়লা জানুয়ারি থেকে। তাহলে ১৬ থেকে এই তিন বছরের বকেয়া কোথায়? এই সরকার বামেরা ২৭ মাস বকেয়া ডিএ দেয়নি বলে আন্দোলন করেছিল। আর সেই সরকারই এবার বকেয়া দিচ্ছে না। এটা মানা যায় না। আমাদের কিছু বলার আছে আমরা ঠিক সময় সেটা বলব।”

তেমন খুশি নয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত সংগঠনও। কর্মী ক্ষোভের আঁচ করেই কার্যত চুপ থাকতে চাইছে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। সংগঠনের কনভেনর সৌম বিশ্বাস বলেন, “আমরা বেতন কমিশন চেয়েছিলাম। তাই স্বভাবতই খুশি তবে রোপা না হলে সঠিক হিসেবটা বোঝা যাচ্ছে না। রোপা হলে তার পরে বিস্তারিত বলব। এর বেশি কিছু বলব না।”

Comments are closed.