শোভন-বৈশাখীকে নিয়ে নয়া জল্পনা বিজেপিতে, পাত্তা দিতে নারাজ দিলীপ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইফোঁটা মিটে গেলেও রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত ভাইফোঁটা রাজনীতি নিয়ে। মঙ্গলবার শোভন চট্টোপাধ্যায় ফোঁটা নিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে। অফিসিয়ালি তিনি এখনও বিজেপি নেতা। তবে তিনি কেন ফোঁটা নিতে গেলেন? এই প্রশ্ন রাজ্য বিজেপি সদর দফতর থেকে সাধারণ কর্মী সকলের কাছে। তবে কি ঘরের ছেলেকে ঘরে ফেরাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বিশেষ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দিদির বাড়িতে গিয়ে তবে কি জমে থাকা সব বরফ গলিয়ে ফেলতে চান কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক? রাজ্য রাজনীতির বিশেষ অঙ্গ হয়ে ওঠা এই জুটির বিজেপির সঙ্গে মধুচন্দ্রিমা পর্ব কি তবে শেষ?

    এমন প্রশ্নমালা শুধু বিজেপি শিবিরেই নয়, রাজ্য রাজনীতির অলি গলিতেও। তবে সেটাকে একেবারেই পাত্তা দিতে নারাজ রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। এনিয়ে প্রশ্ন শুনে একেবারে ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন তিনি। বললেন, “ভাইফোঁটা একটা সামাজিক পরব। এত দিনের সম্পর্ক ওনাদের। দিদির কাছে ভাইয়ের ফোঁটা নিতে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা উচিত নয়।”

    আরও পড়ুন

    শোভনের সুগার বেড়েছে! ওষুধের পরামর্শ মমতার, দিদিকে চকোলেট দিলেন বৈশাখী

    যতটা সহজে দিলীপ ঘোষ বিষয়টাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন ততটা সহজ করে অবশ্য দেখছে না রাজনৈতিক মহল। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি রাজ্য রাজনীতির এক মহা-অঙ্গন। সেই উঠোনে কালীপুজোয় উপস্থিতি থেকে ভাইফোঁটায় হাজিরা সবই বুঝিয়ে দেয় তৃণমূল নেতাদের উত্থান-পতন। সে বাড়ির চৌকাঠ ডেঙানো মানেই নতুন জল্পনায় পা রাখা। আবার নিয়মিত সেই আঙিনায় থাকা মুখ অনিয়মিত হয়ে যাওয়াও জন্ম দেয় নতুন ইঙ্গিতের। ঠিক যে ভাবে গত বছরে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় শোভনের অনুপস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছিল বরফ জমে পাথর হয়েছে। এবারের উপস্থিতিতে নিশ্চিত ইঙ্গিত যে সেই বরফ গলেছে।

    অন্য দিকে, বিজেপির সঙ্গে শোভন-বৈশাখী সম্পর্কে যে চির ধরেছে তা টের পাওয়া যায় বিজেপিতে যোগদানের একটু পরে পরেই। মধুচন্দ্রিমা পর্বই ছিল কণ্টকাকীর্ণ। রায়দিঘির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দেবশ্রী রায় বিজেপিতে যোগ দেবেন কি দেবেন না, তা নিয়ে তৈরি হয় সংঘাত। এর পরে সদর দফতরে সংবর্ধনা থেকে দলীয় কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ না পাওয়া সবেতেই বিতর্ক ছায়া হয়েছে শোভন-বৈশাখীর। মাস দেড়েক আগেই সরাসরি দল ছাড়ার কথা না বললেও বড় সিদ্ধান্তের হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক ও তাঁর বান্ধবীর গলায়। তখন থেকেই জল্পনা ছিল, উৎসবের মরসুম পার হলেই ঘরে ফেরার ঘোষণা করতে পারেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। ভাইফোঁটা নিতে দিদির ডাক আর কালীঘাটে শোভনের যাওয়া সেই ‘বড়’ সিদ্ধান্তের প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করছে বিজেপির একাংশ।

    বিজেপি নেতৃত্ব যে এটাকে বড় করে দেখছে না তা অবশ্য স্পষ্ট। ঘটা করে যোগদান করানো শোভন-বৈশাখীকে নিয়ে দলের মুখ পুড়তে পারে এমন প্রস্তুতি বিজেপির ছিলই। এক নেতার কথায়, “ওঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বিজেপিতে আছেন এমন কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি এত দিনেও। দলের কোনও কর্মসূচিতেই অংশগ্রহণ নেই। থেকেও যাঁরা নেই, তাঁদের যাওয়া নিয়ে কীই আর যায় আসে। গোটাটাই লোক হাসানো ছাড়া কিছু নয়।”

    তবে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যে শোভন বিষয়ে মন্তব্য করা নিয়ে সংযত থাকতে চাইছেন তা স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, অতীতে শোভন প্রসঙ্গে ‘ডাল-ভাত’-সহ তাঁর অনেক বক্তব্যই বিতর্ক তৈরি করেছে। অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বিজেপিতে। এবার তাই বিতর্ক এড়িয়ে দিলীপের বার্তা– ভাইফোঁটা হল ভাইফোঁটা আর রাজনীতি হল রাজনীতি। দুইয়ে কোনও মিল নেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More