সোমবার, আগস্ট ১৯

ছেনি-হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা হল তালা, নেতাই কাণ্ডে অভিযুক্ত রথীনের পরিবার ঢুকল বাড়িতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১১ সালে নেতাইয়ে সিপিএম নেতা রথীন দণ্ডপাতের বাড়ি থেকে গ্রামবাসীদের ওপরে গুলি চালানো হয়। নিহত হন ন’জন। আহত হন ২৮ জন। সেই ঘটনার পরে রথীন দণ্ডপাত সহ কয়েকজন গ্রেফতার হন। বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়। আট বছর বাদে সেই বাড়ি ফিরে পেল রথীন দণ্ডপাতের পরিবার। শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেট, সিবিআই অফিসার ও পুলিশের সামনেই বাড়ি ওই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখানে রথীন দণ্ডপাত নিজেও উপস্থিত ছিলেন। চাবি দিয়ে দরজার তালা খোলা যায়নি। ছেনি-হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে ফেলা হয়।

তালা ভাঙার পরে রথীন দণ্ডপাতকে নিয়েই বাড়িতে ঢোকেন ম্যাজিস্ট্রেট, সিবিআই অফিসার ও পুলিশ অফিসার। বাড়ি সিজ করার সময় ভেতরে যা কিছু ছিল, রথীনবাবু তা মিলিয়ে দেখেন। রথীনবাবুর স্ত্রী ঝুমা দণ্ডপাত ও তাঁর ছেলেমেয়েও এদিন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের রথীনবাবু বুঝিয়ে দেন, বাড়িতে থাকতে হলে নতুন কী আসবাবপত্রের প্রয়োজন। তারপর পুলিশ রথীনবাবুকে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যায়।

২০০৯ সালে জনসাধারণের কমিটির লোকজন চড়াও হয় সিপিএম নেতা রথীন দণ্ডপাতের ওপরে। তারপরে রথীনবাবু মা, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে লালগড়ে দিদির বাড়িতে চলে যান। যদিও রথীনবাবু নিজে অন্যত্র থাকতেন। বাড়ির নীচের তলার একটি অংশে থাকতেন রথীনবাবুর কাকিমা আলো দণ্ডপাত।

রথীনবাবুরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে সেখানে সিপিএমের হার্মাদদের ক্যাম্প তৈরি হয়। মাওবাদী ও জনসাধারণের কমিটিকে রোখাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। অভিযোগ, তারা গ্রামবাসীদের ওপরে অত্যাচার করত। প্রায়ই তাঁদের হাঁস-মুরগি চুরি করত। গ্রামবাসীরা তাও কোনও প্রতিবাদ করেনি।

পরে এলাকার যুবকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতে চেষ্টা করে হার্মাদরা। তখন একদিন গ্রামবাসীরা জড়ো হয়ে হার্মাদদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। হার্মাদরা ভাবে মাওবাদী ও জনসাধারণের কমিটি তাদের ক্যাম্প ঘিরে ফেলেছে। তারা বাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তখনই অনেকে হতাহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রথীনবাবু বাদে অনুজ পাণ্ডে, ডালিম পাণ্ডে সহ মোট ২০ জন সিপিএম নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব যায় সিবিআইয়ের হাতে। বিচার চলাকালীন রথীনবাবু নিজের বাড়ি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান।

এদিন রথীন দণ্ডপাত বলেন, নিজের গ্রামে ফিরে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। যতবারই এখানে আসব, মাথা উঁচু করে আসব। তাঁর স্ত্রী বলেন, এখন ভাড়া বাড়িতে খুব কষ্টে আছি। এই বাড়িতে থাকতে পেলে খুবই উপকৃত হব।

এর আগেও রথীন বাবুর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা গ্রামে নানা লোকের বাড়িতে নিমন্ত্রণে এসেছেন। কেউ আপত্তি করেনি। নেতাইয়ের ঘটনায় নিহত একজনের পরিবারের সদস্য বলেন, গ্রামবাসীদের যদি আপত্তি না থাকে আমাদেরও আপত্তি নেই। যদিও অনেকে রথীন দণ্ডপাতের পরিবারের ফিরে আসা ভালো চোখে নাও নিতে পারে আশঙ্কা করে নেতাই গ্রামে পুলিশ পিকেট থাকবে আগামী এক মাস।

Comments are closed.