মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

কাশ্মীরে জেলে দুই রাজনীতিককে ইঁদুরের কামড়, সরকারের ষড়যন্ত্র দেখছেন আত্মীয়রা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মাস থেকেই কাশ্মীরে বন্দি আছেন কয়েকশ রাজনীতিক। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ করার পরে যাতে অশান্তি না হয়, সেজন্য তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। কাশ্মীরের কয়েকটি রিসর্টে তাঁদের রাখা হয়েছে। সেগুলিই এখন ভিভিআইপি প্রিজন। তার মধ্যে ইঁদুরের উপদ্রবের কথা জানিয়েছেন বন্দি রাজনীতিকদের পরিবারের লোকজন। ইঁদুররা রাজনীতিকদের খাবার তো খেয়ে নিচ্ছেই, এমনকী তাঁদেরও কামড়ে দিচ্ছে। অন্তত দু’জন রাজনীতিককে বন্দিশালায় ইঁদুরে কামড়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের একজন ন্যাশনাল কনফারেন্সের, আর একজন পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির। এসম্পর্কে জেল সুপারিনটেনডেন্ট জাভেদ বক্সীর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

রাজনীতিকদের আত্মীয়রা অনেকে অভিযোগ করছেন, বন্দিদের ভয় দেখাতে সরকারই হয়তো ইঁদুর ছেড়ে দিয়েছে। নয়তো একটি থ্রি স্টার হোটেলের মধ্যে কীভাবে যত্রতত্র ইঁদুর ঘুরে বেড়াতে পারে?

ডাল লেকের তীরে সেন্টুর লেক ভিউ হোটেলে এখন বন্দি আছেন রাজনীতিকরা। সেটি থ্রি স্টার হোটেল। হোটেলটিকে সাব জেল বানানো হয়েছে। শাহ ফয়জল নামে যে প্রাক্তন আইএএস অফিসার চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, তিনিও আছেন এই সাব জেলে। একটি সূত্রে খবর, শনিবার রাতে ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা মুখতার বান্ধ ও পিডিপি নেতা নিজামুদ্দিন বাটকে ইঁদুরে কামড়েছে। বান্ধকে অ্যান্টি র‍্যাবিস ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে। নিজামুদ্দিন সাহেবেরও চিকিৎসা চলছে।

মুখতার বান্ধের বাবা একসময় কাশ্মীরের মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নাম খলিল বান্ধ। তিনি পুলওয়ামা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। বাবা ও ছেলে দু’জনেই আগে পিডিপিতে ছিলেন। গত জুলাই মাসে তাঁরা ন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগ দেন। খলিল বান্ধকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালে কাশ্মীরে বিক্ষোভের সময় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তাঁকে কয়েক মাস দিল্লির এইমসে ভর্তি থাকতে হয়েছিল। নিজামুদ্দিন বাট বান্দিপোরার প্রাক্তন বিধায়ক।

বন্দিশালায় ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে আরও কয়েকজন রাজনীতিক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন। একটি সংবাদপত্র থেকে রাজনীতিকদের আত্মীয়দের অনুরোধ করা হয়েছিল, জেলে গিয়ে তাঁরা যেন বন্দিদের কয়েকটি প্রশ্ন করেন। তাঁরা উত্তর দিলে কাগজে ছাপানো হত। কিন্তু আত্মীয়রা জানিয়েছেন, জেলে প্রশ্ন করা সম্ভব নয়। রাজনীতিকদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সারাক্ষণ তাঁদের ওপরে নজর রাখে সিসিটিভি। জেলের গেটে মোবাইল ফোন, ওয়ালেট, পেন, সব রেখে ঢুকতে হয়।

Comments are closed.