রবিবার, জানুয়ারি ১৯
TheWall
TheWall

ইরাকে ৪০০ জনের মৃত্যুর পর গণ আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রীর

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ইরাকে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছিল দু’মাস আগে। এর মধ্যে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪০০ আন্দোলনকারী। আহত হয়েছেন ১৫ হাজার মানুষ। অবশেষে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি ঘোষণা করলেন, তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিয়া ধর্মগুরুরা চেয়েছিলেন, তিনি ইস্তফা দিন। এদিনও বাগদাদে ইট-পাথর নিয়ে পুলিশের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা। প্রধানমন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছেন শুনে তাঁরা নাচতে শুরু করেছেন।

গত বৃহস্পতিবারই পুলিশের গুলিতে ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার মানুষ। তার ২৪ ঘণ্টার মাথায় প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়লেন। আবদেল মাহদি এদিন বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আমি সংসদের কাছে ইস্তফাপত্র দেব।” তার কয়েকঘণ্টা আগেই আয়াতুল্লা আলি সিস্তানি সাপ্তাহিক ধর্মোপদেশের সময় বলেন, সংসদের উচিত বর্তমান মন্ত্রিসভাকে সরিয়ে দেওয়া। এর পরে বিভিন্ন দলও বিবৃতি দিয়ে বলে, বর্তমান সরকারের ওপর তাদের আস্থা নেই। পরে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন।

অক্টোবরের শুরু থেকে ইরাকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এদিনও বাগদাদের তাহরির স্কোয়ারে আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের মোকাবিলা করার জন্য তৈরি ছিল রায়ট পুলিশও। তাহরির স্কোয়ার থেকে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য একধরনের তিন চাকার গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার কথা শুনে সেই গাড়িগুলিতে দেশাত্মবোধক গান বাজতে শুরু করে। আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা এই প্রথমবার বিজয় অর্জন করলাম। এই জয় শহিদদের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি। তবে অন্যান্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

গত কয়ে সপ্তাহ ধরে সিস্তানি বলছিলেন, বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে সরকার সংযত হোক। প্রশাসনে সংস্কার চালু করুক। কিন্তু শুক্রবার তিনি পরিষ্কার বলেন, এই মন্ত্রিসভা সরে গেলে ভাল হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীরা সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনার জন্য তোড়জোড় শুরু করেন।

Share.

Comments are closed.